Inqilab Logo

শনিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৮ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী

মৃত সন্তান জন্মের পর মায়ের মৃত্যু

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৬ অক্টোবর, ২০২১, ১২:০০ এএম

বিয়ের এক বছরের মাথায় শ্বশুরবাড়ির অত্যাচারে গায়ে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেয় নেত্রকোনার কলমাকান্দার সুরাইয়া নেওয়াজ লাবণ্য নামে এক কিশোরী গৃহবধূ। গত বৃহস্পতিবার রাতে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। এর আগে সে একটি মৃত সন্তানের জন্ম দিয়েছে।
শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. এসএম আইউব হোসেন বলেন, লাবণ্যর শরীরের ৯০ শতাংশ দগ্ধ হয়। গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৭টায় আইসিইউতে মারা যায় সে।
লাবণ্যের চাচা এস এম সাইদুল ইসলাম বলেন, শ্বশুরবাড়ির লোকজনের মানসিক নিপীড়নে অতিষ্ঠ হয়ে গত ৯ অক্টোবর নিজ গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেয় লাবণ্য। তাকে প্রথমে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে পরে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে আনা হয়।
তিনি আরও জানান, মৃত্যুর ১২ ঘণ্টা আগে সে মৃত সন্তান প্রসব করে। আর ১২ ঘণ্টা পরে সে নিজেও পরপারে চলে গেল। এক বছর আগে লাবণ্যের সাথে বিয়ে হয় শেখ সাদী হোসেনের। সাইদুল ইসলাম জানান, বিয়ের পর ২ লাখ টাকা যৌতুক চান লাবণ্যের স্বামী। যৌতুক না দেওয়ায় তার স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ি, ননদ-ভাসুর মানসিকভাবে নিপীড়ন করত। নিপীড়ন সহ্য করতে না পেরে সে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়েছে বলে মৃত্যুর আগে জানিয়েছে।
নিহতের বাবা আরিফুল ইসলাম বলেন, আমার মেয়ে অনেক যন্ত্রণা নিয়ে মারা গেছে। সকালে নাতীকে আজিমপুর কবরস্থানে কবর দিয়ে এলাম। আর রাতে আমার মেয়েও দুনিয়া ছেড়ে চলে গেল। তিনি আরও বলেন, এত বড় ঘটনা ঘটে গেল আমার মেয়ের স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির কেউ খোঁজ নিল না। আমার মেয়েকে যারা নির্যাতন করে মেরেছে তাদের বিচার চাই। লাবণ্যর বিষয়ে জানতে তার স্বামী শেখ সাদীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার দুটি ফোন নম্বরই বন্ধ পাওয়া গেছে।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মৃত্যু

৩ ডিসেম্বর, ২০২১

আরও
আরও পড়ুন