Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ০৩ ভাদ্র ১৪২৬, ১৬ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

ছাগলনাইয়ায় এনজিওর ঋণের বেড়াজালে হতদরিদ্র জনগোষ্ঠী

প্রকাশের সময় : ১৯ জানুয়ারি, ২০১৬, ১২:০০ এএম

মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন ছাগলনাইয়া থেকে : ছাগলনাইয়া উপজেলায় ক্ষুদ্র ঋণের বেড়াজালে জড়িয়ে যাচ্ছে এ অঞ্চলের হতদরিদ্র জনগোষ্ঠী। ক্ষুদ্র ঋণদানকারী বিভিন্ন এনজিও থেকে হতদরিদ্র মানুষ অহরহ ঋণ নিচ্ছে। সূত্রে জানা যায়, একজন দরিদ্র মানুষ একটি এনজিও থেকে ঋণ নেয়ার পর বছরের পর বছর পার হলেও এ ঋণের বেড়াজাল থেকে মুক্তি পাননি। তারা গ্রামের দরিদ্র সহজ সরল মানুষ এক এনজিওর ঋণ পরিশোধ করার জন্য আরেক এনজিও থেকে ঋণ নিচ্ছে। এভাবে একজন দরিদ্র মানুষ কয়েকটি এনজিওর ঋণের জালে জড়িয়ে যাচ্ছে। ফলে ঋণের বেড়াজালে পড়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছে তারা।
এ অবস্থায় ঋণের টাকা দিতে না পেরে বকেয়া রেখে অনেকেই গ্রাম ছেড়ে বিভিন্ন জায়গায় পালিয়ে যাচ্ছে। কেউ কেউ আবার এনজিওর কর্মকর্তার চাপে ভিটেমাটি বিক্রি করে দিচ্ছে। এ উপজেলার বেশকিছু এনজিও দরিদ্রদের মাঝে ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণ করছে। অভিযোগ রয়েছে কাগজপত্রে এসব এনজিওর সুদের হার শতকরা ১৫ পারসেন্ট দেখানো হলেও বাস্তবে এরা শতকরা ৩৫ পারসেন্ট থেকে ৪৫ পারসেন্ট পর্যন্ত সুদ আদায় করছেন। ঋণ পেতে হলে মাঠ কর্মীকে দিতে হয় মোটা অংকের সালামি ও ফাইলপত্র খরচ।
ঘাসফুল, ব্যুরো বাংলাদেশ, টিএমএসএস, সিডিপ ও আশ্রয় এনজিওর ঋণের বেড়াজালে পড়েছে মানুষ। ঋণ প্রদানকারী ও ঋণ কর্মকর্তারা বাড়তি সুদের কথা অস্বীকার করে জানান, কাউকে ঋণ দেয়া হলে সরকারের বিধি মোতাবেক সুদ আদায় করা হয়। ঋণ গ্রহণকারী ছাগলনাইয়া পৌর এলাকার মটুয়া কলোনির হাছিনা বেগম, বকুল আক্তার, রাবেয়া বেগম, রহিমা বেগম, পেয়ারা, নুর নেহার ও কহিনুর বেগমসহ অনেক ঋণ গ্রহীতা অভিযোগ করেন, এনজিওরা ঋণ দেয়ার পরের সপ্তাহ থেকে সুদসহ কিস্তি উঠানো শুরু করে ঋণের টাকা খাটানো সময় দেয়না। এভাবে কৌশলে তারা গ্রাহকদের কাছ থেকে সুদে ও আসলে বেশি টাকা আদায় করছেন।
ঋণের টাকা ১ বছর খাটানোর সুযোগ নেই। এনজিওর কাছে নেয়ার পরের সপ্তাহ থেকে ঋনের কিস্তি গুণতে হচ্ছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে কখনও অন্য এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে আরেক এনজিওর কিস্তি পরিশোধ করে থাকেন তারা। মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বেই প্রথমে যে এনজিও থেকে ঋণ নেয়া হয় সে ঋণ পরিশোধ করে আবার একই এনজিও থেকে পুনরায় ঋণ নিয়ে দুটি এনজিওর কিস্তির ঘারে চাপে। এভাবে একের পর এক এনজিও ঋণের বেড়াজালে আটকা পড়ে তারাসহ এ অঞ্চলের হতদরিদ্র জনগোষ্ঠী।
এদিকে এনজিও সমবায় সমিতির নামে এই উপজেলায় চলছে রমরমা সুদের ব্যবসা। আর কিস্তি যেন প্রতিদিনের সঙ্গী এ উপজেলার মানুষের। তার পরও পরিবারকে বাঁচাতে ও অভাবের তাড়নায় উপজেলার প্রতিটি দরিদ্র মানুষ বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছে এবং এখনও নিচ্ছে। এ ব্যাপারে ছাগলনাইয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, ঋণের টাকা আদায়ে কোন এনজিও বেশি সুদ আদায় করে থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন