Inqilab Logo

রোববার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৯ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী
শিরোনাম

গৌরনদীতে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মন্দির ও বসতঘর ভাংচুরের অভিযোগ

কোরআন অবমাননা করে ফেসবুকে দেয়া পোস্টের নিচে আপত্তিকর কমেন্ট

বরিশাল ব্যুরো | প্রকাশের সময় : ১৬ অক্টোবর, ২০২১, ৭:১৯ পিএম

আল-কোরআন অবমাননা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক দেয়া একটি পোস্টের নিচে মহানন্দ বাড়ৈ ওরফে মিঠুন বাড়ৈ নামের এক যুবক আপত্তিকর কমেন্ট করায় ক্ষিপ্ত হয়ে শুক্রবার রাতে বরিশালের গৌরনদীর বার্থী ইউনিয়নের ধুরিয়াইল কাজিরপাড় গ্রামে হিন্দুদের তিনটি মন্দির ও তাদের একটি বসত ঘরে হামলা চালিয়েছে। বসত ঘরে হামলা হলেও ঘরটির তেমন কোন ক্ষয়-ক্ষতি হয়নি বলে হামলার শিকার পরিবারের সদস্য আশিষ বৈদ্য দাবি করেছেন। পুলিশ ঘটনার পরপরই ফেসবুক পোষ্টে কমেন্টকারি যুবক ধুরিয়াইল কাজিরপাড় গ্রামের মৃত্যুঞ্জয় বাড়ৈর ছেলে মহানন্দ বাড়ৈ ওরফে মিঠুন বাড়ৈকে আটক করে। বরিশাল জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ওই গ্রামের সুভাষ বৈদ্যের ছেলে আশিষ বৈদ্য সাংবাদিকদের জানান, মুসলমানদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ আল কোরআন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে জনৈক ব্যাক্তির দেয়া একটি পোস্টের নিচে মহানন্দ বাড়ৈ ওরফে মিঠুন বাড়ৈ সম্প্রতি একটি আপত্তিকর কমেন্ট করেন। শুক্রবার সন্ধ্যার পরে ঘটনাটি স্থানীয় ইসলাম ধর্মাবলম্বী কয়েকজন ব্যক্তির নজরে আসে। মুহুর্তের মধ্যে তারা এটিকে ভাইরাল করে দেন। এক পর্যায়ে শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে স্থানীয় কিছু লোকজন জোটবদ্ধ হয়ে ধুরিয়াইল কাজিরপাড় সার্বজনীন দূর্গা মন্দির, পার্শ্ববর্তী কালী মন্দির এবং জগদিশ বৈদ্যর বাড়ির হরিচাঁদ মন্দিরে হামলা চালিয়ে মন্দির ঘর ও প্রতিমা ভাংচুর করে। এ সময় ওই মন্দিরের সামনে আমাদের ৬/৭জন লোক ছিলেন। আক্রমণকারীদের বিরাট দল দেখে তারা সেখান থেকে পালিয়ে যায়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

হিন্দু সম্প্রদায়ের একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, আমরা সকল ধর্মের লোকজন দীর্ঘদিন ধরে এখানে একসাথে বসবাস করে আসছি। সদ্য সমাপ্ত সার্বজনীন দুর্গা পুজার সময়েও সকল ধর্মের লোকজনের মধ্যে সৌহাদ্যপূর্ণ সম্পর্ক বিরাজ করেছে। যে কারণে কোনো ধরনের ঝামেলা ছাড়াই আমরা বিজয়া দশমী শেষ করতে পেরেছি। কোরআনকে অবমাননা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেয়া একটি পোস্টের নিচে আপত্তিকর কমেন্ট করাকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। আর এ কমেন্ট যে করেছে সে যেই স¤প্রদায়ের হোকনা কেন, আমরা তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।

ধুরিয়াইল কাজিরপাড় সার্বজনীন দূর্গা মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুভাষ বৈদ্য জানান, কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই শুক্রবার রাতে একদল উত্তেজিত জনতা লাঠিশোটা নিয়ে হামলা চালিয়ে মন্দিরের ঘর ও প্রতিমাসহ আসবাবপত্র ভাংচুর করেছে। এসময় নারী-পুরুষ ও শিশুদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

গৌরনদী থানার ওসি মোঃ আফজাল হোসেন সাংবাদিকদের জানান, ফেসবুকের একটি পোষ্টে কমেন্ট করাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনতা উত্তেজিত হয়ে যায়। এই ঘটনায় কমেন্টকারী যুবককে আটক করা হয়েছে। আর হামলার খবর পেয়ে তাৎক্ষনিক থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে হামলাকালীরা শটকে পড়ে। হামলাকারীরা হিন্দু স¤প্রদায়ের একটি ঘরে হামলা চালালেও মন্দির ও প্রতিমা ভাংচুরের বিষয়টি সঠিক নয় বলে জানান তিনি। হামলার আগেই প্রতিমা বিসর্জন করা হয়েছিলো।

এ ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এলাকার সুমন খান বাদী হয়ে কমেন্টকারী যুবক মহানন্দ বাড়ৈ ওরফে মিঠুন বাড়ৈকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। অপর দিকে ধুরিয়াইল কাজিরপাড় সার্বজনীন দূর্গা মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুভাষ বৈদ্য বাদী হয়ে স্থানীয় ২৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৫০/৬০জনকে আসামী করে থানায় মামলা দুটি করেছেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বরিশাল


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ