Inqilab Logo

বৃহস্পতিবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২১, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ০৪ জামাদিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরী

নদীই এখন ডাস্টবিন

প্রশাসন নীরব : দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ বিশ্বনাথবাসী

আব্দুস সালাম, বিশ^নাথ (সিলেট) থেকে | প্রকাশের সময় : ১৭ অক্টোবর, ২০২১, ১২:০৩ এএম

হোটেল রেস্তোরা, বাসা-বাড়ি আর বাজারের সকল বর্জ অবাধে ফেলা হচ্ছে সিলেটের বিশ^নাথ পৌর শহরের বুক চিরে বয়ে যাওয়া বাসিয়া নদীতে। এসব ময়লা আবর্জনার দুর্গন্ধে নাক-মুখ চেপে চলাচল করতে হচ্ছে স্কুল, কলেজ, মাদরাসা শিক্ষার্থী ও পথচারীদের।
শুধু তাই নয়, এসব ময়লা আবর্জনা ফেলে নদী ভরাট করে নির্মিত হচ্ছে ৩/৪ তলা ভবণ নির্মাণ। এসব যেন দেখার কেউ নেই। এসব ময়লা আবর্জনায় দুষিত হচ্ছে আবহাওয়া ও পরিবেশ, বাড়ছে রোগ-বালাই। এই নদীতে শুকনো মৌসুমে বর্শি দিয়ে সারি বেধে বোয়ল, গাঘট, চিতল মাছ মারা হতো। এখন ময়লা আবর্জনা ফেলে নদীর পানি দুষিত হয়ে পানিতে দুর্গন্ধ হয়ে মাছ মরে যাচ্ছে। তাছাড়া দখলতো হচ্ছে ইচ্ছেমতো।
বিশ^নাথ উপজেলা প্রশাসনের বক্তব্য ছিল, বিশ^নাথ পৌরসভা না থাকায় ময়লা আবর্জনা ফেলার কোন স্থান নির্ধারণ করা যাচ্ছেনা। অবশেষে ২০১৮ সালে বিশ^নাথ পৌরসভার অনুমোদন পেলেও এখনো ময়লা আবর্জনা ফেলার ব্যাপারে কোন নির্দেশনা দেয়া হয়নি। এতে করে যতই দিন যাচ্ছে, ততই নদীতে ময়লা আবর্জনা নিক্ষেপ বেড়েই চলছে। সরকার নদী রক্ষায় কোটি কোটি টাকা বরাদ্ধ দিচ্ছে। কিন্তু অসাধু টেন্ডারবাজরা নদী তীরের ঘাস পরিস্কার করে সরকারের টাকা আত্মসাৎ করছে। সরকার এসব দুর্নীতিবাজদের কঠোর হস্তে দমন না করলে এ দেশের নদীর কোন অস্থিত্বই থাকবেনা।
সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মুহিবুর রহমান বলেন, দখল-দুষনে বিলুপ্ত নদীকে ঘিরে শুধু মাত্র ব্যবসার চিন্তা করছে প্রশাসন ও আন্দোলন কমিটির নেতারা। মন থেকে কেউ নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে দিতে কাজ করছে না।
এদিকে হঠাৎ করে থেমে গেছে বাঁচাও বাসিয়া নদী ঐক্য পরিষদ আন্দোলন কমিটির কার্যক্রম। এ প্রসঙ্গে সংগঠনের আহবায়ক ফজল খান জানান, নদীতে ময়লা না ফেলার জন্য আন্দালন করলেও উপজেলা প্রশাসন কোন কর্ণপাত করছে না। আর বাসিয়া নদীর দখল উচ্ছেদ টেন্ডার ৫ম বারের মত প্রকাশ করা হয়েছে। প্রক্রিয়া শেষ হলেই উচ্ছেদ অভিযান চালু হতে পারে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক সুমন চন্দ্র দাস ইনকিলাবকে বলেন, ময়লা আবর্জনা ফেলার স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে এবং সেখানে কাজ চলছে। নদীতে ময়লা না ফেলার ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন