Inqilab Logo

শনিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৮ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী

আফগানিস্তান নিয়ে সম্মেলন, পাকিস্তানকে আমন্ত্রণে বাধ্য হলো ভারত

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৮ অক্টোবর, ২০২১, ৮:১১ পিএম

আফগানিস্তানে তালেবানের দুর্দান্ত বিজয় অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের স্বাধীনতা আন্দোলনকে পুনরায় জাগিয়ে তুলতে পারে এমন আশঙ্কায় ভুগছে ভারত। যার ফলে তারা নয়া দিল্লিতে আগামী মাসে আফগানিস্তান ইস্যুতে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের (এনএসএ) নিয়ে সরাসরি বৈঠক করার প্রস্তাব দিয়েছে। সেখানে তারা রাশিয়া, চীন এবং চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান সহ ‘মূল অংশীদারদের’ আমন্ত্রণ জানিয়েছে। শনিবার ভারতের গণমাধ্যম এই তথ্য জানিয়েছে।

ইন্ডিয়া টুডের মতে, ভারত তার রাজধানীতে বৈঠকের জন্য ১০ এবং ১১ নভেম্বর দুটি তারিখের প্রস্তাব দিয়েছে। অধিকৃত কাশ্মীরে উত্তেজনার মধ্যেই পাকিস্তানের এনএসএ মইদ ইউসুফকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে যে, তালেবানরা কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর আফগানিস্তানে আসন্ন মানবিক ও নিরাপত্তা সঙ্কট নিরসনে সকল অংশীদারদের নিযুক্ত থাকতে হবে। আগামী ২০ অক্টোবর আফগান পরিস্থিতি নিয়ে মস্কো ফরম্যাটের বৈঠকেও ভারতের অংশগ্রহণের কথা রয়েছে।

আফগানিস্তানে ভারত কি কোন মানবিক সহায়তা দিয়েছে, সে বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচি বলেন, আফগানিস্তানের প্রতি ভারতের নীতি ‘আফগান জনগণের সাথে তার বন্ধুত্ব দ্বারা পরিচালিত।’ এই উন্নয়ন এমন সময়ে ঘটেছে যখন নয়াদিল্লিতে আশঙ্কা বাড়ছিল যে, আফগানিস্তানে তালেবানের বিজয় অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের স্বাধীনতা আন্দোলনকে জ্বালিয়ে দিতে পারে। গত ১৫ আগস্ট তালেবানরা কাবুল দখল করার পর থেকে হিমালয় অঞ্চলে দুই মাসে গুলি ও সংঘর্ষে প্রায় ৪০ জন নিহত হয়েছে। অধিকৃত উপত্যকার শিখ ও হিন্দু সম্প্রদায়কে বন্দুক যুদ্ধে টার্গেট করা হয়েছে যেখানে অনেক সৈন্য এবং বিচ্ছিন্নতাবাদীরাও মারা গেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বার্তা সংস্থা এএফপির সঙ্গে কথা বলা বাসিন্দাদের এবং নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মতে, ভারত প্রকাশ্যে সহিংসতা বৃদ্ধির জন্য তালেবানদের দখলকে দায়ী করেনি, তারা এটি আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরের (এজেকে) কাছে টহল জোরদার করেছে এবং কিছু সেনা ক্যাম্পকে শক্তিশালী করেছে। মোদি চলতি সপ্তাহের শুরুতে রোমে জি -২০ শীর্ষ সম্মেলনে বলেছিলেন যে, আফগানিস্তান যেন ‘মৌলবাদ ও সন্ত্রাসবাদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল’ না হয়ে যায় তা নিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা প্রয়োজন। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কাছেও ভারতের উদ্বেগ তুলে ধরেন। ভারত চিন্তিত যে, অস্ত্র ও যোদ্ধারা অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীর অঞ্চলে পৌঁছতে পারে।

ভারতের সামরিক প্রধান জেনারেল এম এম নারাভানে বলেন, ‘অতীত থেকে আমরা যা বলতে পারি এবং শিখতে পারি তা হল, যখন পূর্ববর্তী তালেবান শাসন ক্ষমতায় ছিল, সেই সময় অবশ্যই জম্মু ও কাশ্মীরে আফগান বংশোদ্ভূত বিদেশী সন্ত্রাসী ছিল।’ তিনি বলেন, ‘সুতরাং বিশ্বাস করার কারণ আছে যে একই জিনিস আবারও ঘটতে পারে।’ ২০১৯ সালে অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের আধা-স্বায়ত্তশাসিত মর্যাদা প্রত্যাহারের পর থেকে নয়াদিল্লি কর্তৃক আরোপিত বিধিনিষেধের কারণে সেখানে বিক্ষোভ করা কার্যত অসম্ভব। কিন্তু এই অঞ্চলের কেউ কেউ তালেবানের বিজয়কে সমর্থন করেছে এবং তারা একে এমন একটি প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে জয় হিসেবে দেখে, যা তারাও একদিন অর্জন করবে বলে আশা করতে পারে।

শ্রীনগরের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী এএফপিকে বলেন, ‘যদি তারা বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামরিক শক্তিকে পরাজিত করতে পারে, তাহলে আমরা আমাদের স্বাধীনতাও জিততে পারি।’ ১৯৯০ এর দশকে আফগানিস্তানে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন এবং কাশ্মীরে আফগান মুজাহিদিনদের সঙ্গে লড়াই করেছিলেন, এমন একজন সাবেক বিচ্ছিন্নতাবাদী বলেন, "তালেবানদের বিজয় ইতিমধ্যেই আমাদের আন্দোলনে অক্সিজেন সরবরাহ করেছে।’

আইআইওজেকে-র উপর ভারতের অমানবিক চাপের পরিপ্রেক্ষিতে, নারাভানে এবং অন্যান্য সামরিক প্রধানরা আত্মবিশ্বাসী যে, দিল্লি যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পারে। কিন্তু নাম প্রকাশ না করার শর্তে, সেখানকার একজন সিনিয়র নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেছেন, নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের ভিতরে ‘কিছুটা আতঙ্ক’ রয়েছে। ওয়াশিংটনের উইলসন সেন্টারের দক্ষিণ এশিয়া বিশেষজ্ঞ মাইকেল কুগেলম্যান বলেছেন, আফগানিস্তানের নতুন শাসকরা আইআইওজেকেতে ‘অস্থিরতা বাড়িয়ে তুলতে’ অনুপ্রাণিত করতে পারে। তালেবান কর্মকর্তারা বলেছেন, তারা ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ও অন্যান্য সম্পর্ক বজায় রাখতে চান, অর্থাৎ এক ধরনের যোগাযোগ বজায় রাখতে হবে। তিনি বলেন, ‘তালেবান নিজেই আইআইওজেকে -তে অশান্তির জন্য আন্দোলন করবে না, কিন্তু যাদের সাথে এটি যুক্ত তারা সম্ভবত তা করবে।’

পাকিস্তানের কলামিস্ট ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক মোশাররফ জাইদি বলেছেন, তিনি তালেবানরা ‘ইচ্ছাকৃতভাবে ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে উত্তেজিত করতে’ চান এমন কোনো কারণ দেখেননি। তিনি বিশ্বাস করেন, তাদের বিজয় যে সংকেত দেয়, সেটিই অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের জন্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র: ট্রিবিউন।



 

Show all comments
  • jack ali ১৮ অক্টোবর, ২০২১, ৯:৫২ পিএম says : 0
    ও আল্লাহ কাশ্মীরে বর্বর হিন্দু সেনাদেরকে সমূলে ধ্বংস করে দাও এবং কাশ্মিরকে স্বাধীন করে দাও এই ইবলিশ দের হাত থেকে আমিন
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ভারত


আরও
আরও পড়ুন