Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৪ আশ্বিন ১৪২৫, ৮ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে যুবকের মৃত্যু

মায়ের চিকিৎসা করাতে এসে

প্রকাশের সময় : ১৫ অক্টোবর, ২০১৬, ১২:০০ এএম

চট্টগ্রাম ব্যুরো : বৃদ্ধা মায়ের চোখের অপারেশন করাতে চট্টগ্রামে এসে লাশ হয়ে ফিরলেন প্রবাস ফেরত নাসির উদ্দিন (৩২)। মা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেন, আর হাসপাতালের সামনে ছিনতাকারীর ছুরিকাঘাতে মারা গেলেন পুত্র। তিনি গেলেন না ফেরার দেশে। মর্মান্তিক এই হত্যাকা-ের ঘটনাটি ঘটেছে নগরীর ফয়’স লেক এলাকার পাহাড়তলী চক্ষু হাসপাতাল এলাকায়। গতকাল (শুক্রবার) ভোরে হাসপাতালের সামনের জাকির হোসেন সড়ক থেকে নাসিরের রক্তভেজা লাশ উদ্ধার করে। নিহত নাসিরের বাড়ি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি উপজেলায়। পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে জানা যায়, চোখের ছানি অস্ত্রোপচার করাতে মাকে নিয়ে নোয়াখালী থেকে পাহাড়তলী চক্ষু হাসপাতালে এসেছিলেন নাসির উদ্দিন। মা মোবাশ্বেরা বেগম (৬২) অস্ত্রোপচারের পর সকালে বাসায় ফিরে গেছেন। গতকাল ভোর সাড়ে ৬টায় পাহাড়তলী চক্ষু হাসপাতালের সামনে থেকে নাসিরের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নিয়ে যাবার পর সকাল ১১টার দিকে তার স্বজনরা এসে নাসিরকে শনাক্ত করেন।
খুলশী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নাজিম উদ্দিন জানান, নাসির উদ্দিন নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি উপজেলার শাহ আলমের ছেলে। দেড় বছর আগে দুবাই থেকে দেশে ফিরে নাসির বাড়িতেই থাকতেন। বিবাহিত নাসিরের দুটি ছেলে সন্তান আছে। নাসিরের চাচা মোহাম্মদ আলী বাদল সাংবাদিকদের জানান, এক সপ্তাহ আগে নাসির তার মাকে নিয়ে নগরীর জালালাবাদে তাদের বাসায় আসেন। একদিন পর অপারেশনের জন্য তার মাকে পাহাড়তলী চক্ষু হাসপাতালে ভর্তি করেন। বৃহস্পতিবার রাতে বাদলের স্ত্রী এবং নাসির হাসপাতালে ছিলেন।
তিনি বলেন, সকালে শুনতে পাই নাসিরকে নাকি ছুরি মেরেছে। আমি তাড়াতাড়ি হাসপাতালে এলাম। সিকিউরিটিকে জিজ্ঞেস করলাম। তারা বলল, রাত সাড়ে তিনটার দিকে নাসির হাসপাতাল থেকে বের হয়েছিল। এ সময় ছিনতাইকারীরা তাকে ছুরি মেরেছে। তার মোবাইল নিয়ে গেছে। তবে পকেটে ৮ হাজার টাকা আর পাসপোর্ট ছিল। সেটা নিতে পারেনি। এসআই নাজিম উদ্দিন বলেন, ছিনতাইকারীরা ছুরিকাঘাত করে মেরে ফেলেছে বলে শুনেছি। সেটা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
অপর একটি সূত্র জানায়, রাত আড়াইটায় তিনি মাকে দেখতে হাসপাতালে আসেন। তখন নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে ভেতরে যেতে বাধা দেয়। বলা হয় ভোরের আগে গেইট খোলা যাবে না। আর তখন বাধ্য হয়ে তিনি হাসপাতাল এলাকায় সড়কে ঘোরা ফেরা করছিলেন। থানার ওসি নিজাম উদ্দিন বলেন, ছুরিকাঘাতে অতিরিক্ত রক্ত ক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে।
গার্মেন্টস কর্মী খুন
এদিকে প্রবাসী খুনের কয়েক ঘণ্টা আগে নগরীর একই থানার আমবাগান এলাকায় খুন হন জাহাঙ্গীর আলম (৩০) নামের এক পোশাক শ্রমিক। তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ রাস্তায় ফেলে দেয়া হয়েছে বলে পুলিশ জানায়। খুলশি থানার পুলিশ বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে লাশটি উদ্ধার করে।
থানার ওসি নিজাম উদ্দিন জানিয়েছেন, জাহাঙ্গীর একজন পোশাক শ্রমিক। তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলেই প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। জাহাঙ্গীরের বাড়ি ফেনী জেলায়। থাকতেন নগরীর ভাঙ্গারপুল এলাকায়। সিইপিজেড-এর একজন কর্মী তিনি। ওই এলাকা থেকেই তার লাশটি উদ্ধার করা হয়। ওসি নিজাম উদ্দিন জানান, লাশ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। কারা এই হত্যাকা-ের সাথে জড়িত তা নিশ্চিত না হলেও তদন্ত অব্যাহত আছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ