Inqilab Logo

রোববার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৯ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী

জাহাজ ভেঙে আবারো শীর্ষে বাংলাদেশ, দ্বিতীয় ভারত

অনলাইন ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৪ অক্টোবর, ২০২১, ১০:২০ এএম

বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের ধাক্কা কাটিয়ে জাহাজ ভাঙায় গতি ফিরেছে বাংলাদেশে। ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর- এই ৯ মাসে ১৯৭টি জাহাজ ভাঙা হয়েছে চট্টগ্রামের সাগর উপকূলজুড়ে গড়ে ওঠা শিপইয়ার্ডে। বিশ্বে ওই সময়ে জাহাজ ভাঙা হয়েছে ৫৮২টি; সে হিসাবে ৩৪ শতাংশ জাহাজ ভাঙা হয়েছে চট্টগ্রামে। আর তালিকায় এবারও শীর্ষে উঠেছে বাংলাদেশ। গত বছর একই সময়ের হিসাবে বাংলাদেশ ছিল দ্বিতীয় অবস্থানে। ভারত ছিল প্রথম।
এ বছর দ্বিতীয় স্থানে আছে থাকা ভারত জাহাজ ভেঙেছে প্রায় ২৭ শতাংশ। তৃতীয় স্থানে থাকা পাকিস্তান ভেঙেছে প্রায় ১৫ শতাংশ। চতুর্থ স্থানে থাকা তুরস্ক জাহাজ ভেঙেছে সাড়ে ১১ শতাংশ। এনজিও শিপ ব্রেকিং প্ল্যাটফর্ম প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর- এই ৯ মাসের সঙ্গে ২০২১ সালের একই সময়ের তুলনা করলে জাহাজ ভাঙা বেড়েছে ৯৯টি। শুধু তা-ই নয়, ২০২০ সালে বিশ্বের মোট জাহাজের ২৯ শতাংশ ভেঙেছিল বাংলাদেশ। ২০২১ সালে সেটি দাঁড়িয়েছে ৩৪ শতাংশে। যদিও ২০২০ সালেই করোনা মহামারির ধাক্কা শুরু হয় দেশে। এর ফলে বিশ্বের অনেক দেশের মতো বাংলাদেশেও জাহাজ ভাঙায় ধস নামে। কিন্তু ধাপে ধাপে সেই ধাক্কা কাটিয়ে উঠেছে বাংলাদেশ।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম বলছেন, করোনা মহামারির ধাক্কা কাটিয়ে বাংলাদেশ সরকার মেগাপ্রকল্প বাস্তবায়নে গতি বাড়িয়েছে। এর ফলেই লোহাজাতীয় পণ্যের চাহিদা অনেক বেড়েছে। এ জন্য জাহাজ ভাঙার পরিমাণও বেড়েছে।
জানা গেছে, ২০১৯ সালে বিশ্বের সর্বোচ্চ জাহাজ ভাঙা হয়েছে বাংলাদেশে; জাহাজের সংখ্যা ও ওজনের দিক থেকেও শীর্ষে ছিল বাংলাদেশ। জাহাজ ভাঙার দিক থেকে বাংলাদেশ ২০১৭ ও ২০১৮ সালেও শীর্ষে ছিল। আর বাংলাদেশের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল ভারত। কিন্তু কভিড-১৯ মহামারির সময়ে এসে ২০২০ সালে ভারতের চেয়ে পিছিয়ে পড়েছিল বাংলাদেশ। মাস যত গড়িয়েছে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবধান ততই বেড়েছে। বছর শেষে ২০২০ সালে ভারত ২০৩টি জাহাজ ভেঙে শীর্ষে ছিল আর বাংলাদেশ ১৪৪টি জাহাজ ভেঙে দ্বিতীয় স্থানে ছিল। যদিও জাহাজের সংখ্যার দিক থেকে কম জাহাজ ভেঙে বেশি স্ক্র্যাপ পণ্য পেয়েছে বাংলাদেশ, অর্থাৎ বাংলাদেশ তুলনামূলক বড় জাহাজ ভেঙেছে। কিন্তু করোনার ধাক্কা কাটিয়ে ২০২১ সালের শুরু থেকেই আগের অবস্থানে ফিরেছে বাংলাদেশ।
পিএইচপি শিপ ব্রেকিং রিসাইক্লিং ইয়ার্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহিরুল ইসলাম রিংকু বলেছেন, ‘নতুন বাজেটে ভ্যাট ও এটিভি (অগ্রিম ভ্যাট) আরোপের কারণে আমরা ভারতের চেয়ে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়েছিলাম। লোহার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সেই ধাক্কা কাটিয়ে এখন জাহাজ ভাঙায় শীর্ষে উঠলাম।’ ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিশ্বের জাহাজ ভাঙা শিল্পে আশির দশকে নেতৃত্বে ছিল তাইওয়ান। নব্বইয়ের দশকে তাইওয়ানের সঙ্গে চীন ও দক্ষিণ কোরিয়া এই খাতে নেতৃত্বে উঠে আসে। এর পরের দুই দশকে ভারত ও চীন ছিল জাহাজ ভাঙায় শীর্ষে। এক দশক ধরে এই দুই দেশের সঙ্গে বাংলাদেশও প্রায় সময়ই শীর্ষস্থানে উঠে আসে। আংকটাডের প্রতিবেদন বলছে, পরিবেশদূষণ কমাতে চীন বাইরে থেকে পুরনো জাহাজ আমদানি বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে বাংলাদেশ এখন জাহাজ ভাঙার বড় বাজার হয়ে উঠছে। শুধু তা-ই নয়, বাংলাদেশে লোহার কাঁচামালের চাহিদা ব্যাপক হারে বেড়ে যাওয়ায় জাহাজ ভাঙার পরিমাণ বেড়েছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: সাফল্য


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ