Inqilab Logo

শনিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২১, ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২১ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী
শিরোনাম

পায়রা সেতু উদ্বোধন : একদিকে আনন্দের বন্যা অপরদিকে বিষাদের সুর

বরিশাল ব্যুরো | প্রকাশের সময় : ২৪ অক্টোবর, ২০২১, ৩:২০ পিএম

বরিশাল-পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের লেবুখালীতে পায়রা নদীর দু প্রান্তে এখন আনন্দের বণ্যার সাথে বিষাদের সুর। দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান করে রোববার সকাল ১১টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দক্ষিণাঞ্চলবাসীর স্বপ্নের পায়রা সেতু উদ্বোধনের পরে সাধারন মানুষের মানুষের মধ্যে খুশির বণ্যা বয়ে যায়। হাজার হাজার মানুষ পায়রা নদীর দু ধারে অপেক্ষায় ছিলেন কখন সেতুটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে। ঢাকায় গনভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকাল ১০টায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যোগদেন। সকাল ১১টায় প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানিকভাবে পায়রা সেতুর উদ্বোধন ঘোষনার পরে পটুয়াখালী প্রান্ত থেকে সদর আসনে এমপি মোঃ শাহজাহান মিয়া, বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার ও পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক সংক্ষিপ্ত বক্তব্য প্রদানের পরে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব অনুষ্ঠানের সম্পপ্তি ঘোষনা করেন।
এরপরেই এক হাজার ৪৭০ মিটার দীর্ঘ স্বপ্নের পায়রা সেতু যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হয়। তার আগে থেকেই অনেক যানবাহন সেতুটির দু প্রান্তে পারাপারের অপেক্ষায় ছিল। সবাই টোল প্লাজায় নির্ধারিত টোল দিয়ে সেতুতে ওঠার সুযোগ পায়। প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত এ সেতুতে সম্পূর্ণ কম্পিউটারাইজড টোল আদায় পদ্ধতি চালু করা হয়েছে।
তবে রোববার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সেতুটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়ার সাথেই বন্ধ হয়ে লেবুখালীর পায়রা নদীতে ফেরি সার্ভিস। সাথে বন্ধ হয়ে যায় ফেরি ঘাটটির পায়রা নদীর দু পাড়ের প্রায় এক হাজার অস্থায়ী ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানও। দীর্ঘ ৪২ বছর পরে ফেরি ঘাটে নেমে আসে শুনশান নিরবতা। বরিশালÑপটুয়াখালী ৩৮ কিলোমিটার দীর্ঘ জেলা সংযোগ সড়কটি নির্মান শেষে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিায়উর রহমান ১৯৭৯ সালে লেবুখালী ফেরি ঘাট সহ পটুয়াখালীর সাথে সড়ক যোগাযোগ উদ্বোধন করেছিলেন। সে থেকে পায়রার নদীর দু প্রান্তে ফেরিঘাট কেন্দ্রীক ব্যবসা-বানিজ্য গড়ে ওঠে। গত প্রায় ৪২ বছরে এ ফেরি ঘাটে নানা ধরনের ব্যাবসা করে সহশ্রাধীক পরিবারের অন্তত ৫ হাজার মানুষ জীবীকা নির্বাহ করে আসছিল।
রোববার সকাল সাড়ে ১১টায় দীর্ঘ প্রতিক্ষিত পায়রা সেতু খুলে দেয়ার মাধ্যমে জবনিকাপাত ঘটে লেবুখালীর পায়রা নদীতে ফেরি সার্ভিসের। আর সাথে নেমে আসে সহশ্রাধীক পরিবারে বিষাদের ছায়া। একে একে বন্ধ হতে দেখা যায় পায়রা নদীর দু পাড়ে ফেরিঘাট কেন্দ্রীক অস্থায়ী দোকানপাটের দরজাগুলোও। এদের প্রায় সবার চোখেমুইে হাতাশা ছাপ ছিল স্পষ্ট । অনেকেই কয়েক যুগের জীবীকা বন্ধের কষ্টে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেন নি। চা দোকানী হানিফ মিয়া জানান, ‘আমার পিতৃ পুরুষের দীর্ঘ ৪০ বছরের ব্যাবসা আমার হাতে আজ বন্ধ করে দিতে হল। আমার মত এখানে সহশ্রাধীক পরিবারের ভবিষ্যত কি তা জানে না কেউ’ ।
লেবুখালী ফেরি ঘাটের দু প্রান্তে অস্থায়ী সহশ্রাধীক দোকান বন্ধের ফলে জীবিকা হারিয়েছে অন্তত ৫ হাজার মানুষ। কর্মস্থান সহ পূণর্বাশনের দাবীতে ইতোপূর্বে এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক-কর্মচরীরা একাধীকবার মানব বন্ধন সহ নানা কর্মসূচী পালন করেছে। সে সময়ে স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরকারের ননামুখি পূণর্বশন কর্মসূচীর কথা জানিয়ে জীবিকা হারান এসব মানুষের জন্য সম্ভব সব কিছু করার কথা জনালেও শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কিছুই হয়নি। অথচ বন্ধ হয়ে যাওয়া লেবুখালী ফেরিঘাটের জীবিকা হারান কয়েক হাজার মানুষের আগামী দিনগুলো কিভাবে চলবে, তার উত্তর নেই কারো কাছেই।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ