Inqilab Logo

শনিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৮ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী

খানাখন্দে চরম জনদুর্ভোগ

কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়ক

এস এম আলী আহসান পান্না, কুষ্টিয়া থেকে | প্রকাশের সময় : ২৫ অক্টোবর, ২০২১, ১২:০৭ এএম

প্রায় ৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ সড়কটি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম সংযোগ সড়ক। এই সড়কের মাঝামাঝি শান্তিডাঙা-দুলালপুর নামক স্থানে অবস্থিত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি)। এটি উত্তর ও দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষের যোগাযোগের প্রধান সড়ক। প্রতিদিন সড়কটি দিয়ে দুই জেলার মানুষের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির বেহাল দশায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সংস্কার কার্যক্রমে ধীরগতি, অবহেলার কারণে প্রতিনিয়ত নানা দুর্ঘটনায় দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে বলে অভিযোগ তাদের।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কটির বিভিন্ন স্থান খানাখন্দে ভরা। ফলে প্রতিনিয়ত ধুলোবালির মাঝে এই ভাঙা সড়কেই চলাফেরা করতে হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের। এতে শ্বাসকষ্টসহ অন্যান্য রোগবালাইয়ের ঝুঁকি রয়েছে বলে জানান ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের মেডিকেল অফিসার ডা. শাহেদ আহমেদ। এদিকে আজ ২৫ অক্টোবর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত ক্লাস শুরু হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১৬ হাজার শিক্ষার্থীর অধিকাংশই কুষ্টিয়া-ঝিনাদহেই অবস্থান করেন। পুরোদমে ক্লাস শুরু হলে, এমন সড়কে দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান এ বিষয়ে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়িগুলো শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে চরম ঝুঁকিতে এই সড়কে চলাচল করছে। নিয়মিত ছোটোখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, স্বশরীরে ক্লাস শুরু হলে ও গাড়ি চলাচল বৃদ্ধি পেলে দুর্ঘটনা বাড়তে পারে।
এদিকে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৫০টি গাড়ি চার শিফটে প্রতিনিয়ত চলাচল করে। সড়কের বেহাল দশার কারণে এসব গাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে বলে জানান চালকরা। আব্দুল মজিদ নামে এক বাসচালক বলেন, এই রাস্তার যে অবস্থা, প্রতিদিন গাড়ির কোনো না কোনো সমস্যা হয়ই। ফলে মেরামত খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন বলেন, আমি কয়েকবার সড়ক ও জনপদ বিভাগকে বিষয়টি জানিয়েছি। আমাদের গাড়িগুলো প্রতিনিয়ত নষ্ট হচ্ছে। ফলে খরচও বাড়ছে। গতকালও আমাদের গাড়ি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। আমি তাদের এতবার জানিয়েছি, এখন আর আমার ফোনই রিসিভ করেন না।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া সাব ডিভিশনাল প্রকৌশলী পিয়াস কুমার বলেন, আসলে সবকিছু ঠিক থাকলে এই কাজের মেয়াদ শেষ হবে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে। কিন্তু আমাদের পর্যাপ্ত ফান্ড না থাকায় আমরা কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে পারছি না। ওপর মহলে আমরা বিষয়টি জানিয়েছি। সমাধান আসলে আমরা শিগগির কাজ এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবো।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন