Inqilab Logo

বুধবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২২, ০৫ মাঘ ১৪২৮, ১৫ জামাদিউস সানি ১৪৪৩ হিজরী

সমুদ্রের ওপার থেকে হামলার ঘটনার পরিকল্পনা

সাংবাদিকদের তথ্যমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৫ অক্টোবর, ২০২১, ১২:০৫ এএম

সমুদ্রের ওপার থেকে সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনার পরিকল্পনা হয়েছিল উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, কুমিল্লার ঘটনায় উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাই হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়িয়েছে, অন্য কোনো দল দাঁড়ায়নি। গতকাল রোববার সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সম্পাদক ফোরামের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
ড. হাছান মাহমুদ বলেন, কুমিল্লার ঘটনার পরপরই আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আমরা প্রতিটি উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে নির্দেশনা পাঠিয়েছিলাম, যাতে দুর্গাপূজা চলাকালীন পূজামণ্ডপে আমাদের দলের লোকজন থাকে এবং কেউ কোনো বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে না পারে। আমাদের নেতাকর্মীরা সেভাবেই অবস্থান নিয়েছিল। তিনি বলেন, যারা এ ঘটনাগুলো ঘটিয়েছে তাদের আরও বড় পরিকল্পনা ছিল। আমাদের দল হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়ানোয় ষড়যন্ত্রকারীরা তা করতে পারেনি। কয়েক ঘণ্টার নোটিশে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা সারা দেশে শান্তি সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে। আমরা এখনো সতর্ক দৃষ্টি রাখছি।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমরাই শুধু ক্ষতিগ্রস্ত হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়িয়েছি। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেবরা এমনকি গয়েশ্বর বাবুসহ অন্যরা শুধু টেলিভিশনের সামনেই গলা ফাটিয়েছেন, মানুষের পাশে দাঁড়াননি। বরং তারা এ ঘটনার ইন্ধন দিয়েছেন এবং সমুদ্রের ওপার থেকে এ ঘটনার পরিকল্পনা হয়েছিল। সম্প্রচারমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার দ্রুততম সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নিচ্ছে। ১০২টি মামলা হয়েছে, ৬০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রংপুরের পীরগঞ্জে কয়েক দিনের মধ্যে সবার ঘরবাড়ি তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেক পরিবার এক লাখ টাকার বেশি নগদ অর্থ সহায়তা পেয়েছে। অন্যান্য জায়গায় যে কয়েকটি মন্দিরে হামলা হয়েছে। সেগুলোও মেরামতের জন্য সরকার ব্যবস্থা নিয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেনÑ যে বা যারা ঘর হারিয়েছে, সবার ঘর করে দেয়া হবে।
ড. হাছান বলেন, কুমিল্লার ঘটনাটি যদি সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড না হতো তাহলে এ ঘটনা বিস্তৃত হয়ে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো না। রংপুরের পীরগঞ্জের ঘটনাও সোশ্যাল মিডিয়ার একটি পোস্টের কারণে। তবে শুধু ফেসবুক পোস্টের কারণেই এটি হয়েছে, তা নয়। যদিও ফেসবুকে পোস্ট না হলে এ পরিস্থিতি হতো না। তিনি বলেন, এর সঙ্গে যারা যুক্ত ছিল সবাই দায়ী। যে কোরআন শরিফ রেখে এসেছে, যে প্ররোচনা দিয়েছে, যারা একটি পোস্টের প্রেক্ষিতে যাচাই-বাছাই না করে সমাজে হানাহানি তৈরি করেছে, সবাই দায়ী। একইসঙ্গে ফেসবুক কর্তৃপক্ষও দায়ী, কারণ তাদের মাধ্যম ব্যবহার করে সমাজে অস্থিরতা তৈরি করা হয়েছে, এখানে তারা দায় এড়াতে পারে না। অতীতেও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর ও কক্সবাজারের রামুতে যে ঘটনাগুলো ঘটেছে, সেখানেও সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করা হয়েছে। সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করতে চায় কি না, সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা অবশ্যই কোনো কিছু নিয়ন্ত্রণ করতে চাই না। কিন্তু সবকিছুই এমনভাবে পরিচালিত হওয়া প্রয়োজন, যাতে খারাপ কাজে ব্যবহৃত না হয়। সেখানে যাতে স্বচ্ছতা থাকে। ফেসবুকে পরিচয় গোপন করে ভুয়া আইডি দিয়ে পোস্ট দেওয়া হয়, পরে সেই আইডি ও পোস্টদাতাকে আর খুঁজে পাওয়া যায় না। এটির তো প্রতিকার দরকার।
তিনি বলেন, সামাজিকমাধ্যম আজকের পৃথিবীর বাস্তবতা। এটির অনেক ভালো দিক আছে। খারাপ দিকগুলো যাতে দূর হয়, সেজন্য ফেসবুক কর্তৃপক্ষের অবশ্যই দায় আছে। আমরা সেটিই বলতে চাচ্ছি। সরকারের পক্ষ থেকে অনেক আগেই সোশ্যাল মিডিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল, বাংলাদেশে যেন আইডি কার্ড দিয়ে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলতে পারে। কিন্তু ফেসবুক কর্তৃপক্ষ রাজি হয়নি।
এর আগে সভায় ড. হাছান জানান, অনিয়মিত অনেকগুলো দৈনিক পত্রিকা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আরও অন্তত ২শ’ পত্রিকা যেগুলো বের হয় না, সেগুলোর ব্যাপারেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপনের বকেয়া বিল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংবাদপত্র যদি সঠিকভাবে বিল না পায়, তাহলে তাদের পক্ষে সংবাদপত্র পরিচালনা করা, সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক, কর্মচারিসহ সবার বেতনভাতা পরিশোধ করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। সার্বিকভাবে রাষ্ট্রের তুর্থ স্তম্ভ গণমাধ্যম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সুতরাং এটি যাতে না হয় সেটি আমরা খেয়াল রাখছি।
সভাশেষে তথ্যমন্ত্রী সিনিয়র সাংবাদিক আজিজুল ইসলাম ভূঁইয়ার ‘বঙ্গবন্ধু জীবনই বাঙালি জাতির রাষ্ট্রবিজ্ঞান’ এবং সাংবাদিক জান্নাতুল বাকেয়া কেকা’র ‘বঙ্গবন্ধুর ভাবনায় নারী উন্নয়ন ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা’ গ্রন্থ দু’টির মোড়ক উন্মোচন করেন।
এসময় তথ্যসচিব মো. মকবুল হোসেন, সম্পাদক ফোরামের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম রতন, মহাসচিব ফারুক আহমেদ তালুকদার ও সদস্যদের মধ্যে দুলাল আহমেদ চৌধুরী, বেলায়েত হোসেন, শরীফ সাহাবুদ্দিন, মফিজুর রহমান, উপদেষ্টা আজিজুল ইসলাম ভূঁইয়া উপস্থিত ছিলেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: সাংবাদিকদের তথ্যমন্ত্রী


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ