Inqilab Logo

শনিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২১, ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২১ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী
শিরোনাম

দারিদ্রতার মাঝেও এগিয়ে যাচ্ছে ভূমিহীন পরিবারের মেয়ে মনিষা

চিলমারী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ২৫ অক্টোবর, ২০২১, ৫:০৭ পিএম

জন্ম হয়েছিল যার স্রষ্টার এই সুন্দর ভূবনে। কিন্তু জন্মসুত্রেই মনিষা ভূমিহীন ও গৃহহীন। দারিদ্রতা তার জন্মের সাথি। লেখাপড়া শেখার অদম্য ইচ্ছাকে দারিদ্রতা বারবার পিছু থেকে টেনে ধরেও মনিষার অগ্রযাত্রাকে থামাতে পারেনি। কিন্তু একা একা এ যুদ্ধ সে কতদিন করতে পারবে? এখন সেটাই প্রশ্ন তার কাছে।

মনিষার বাড়ি ঠিক বলা যাবে না। বললে বলতে হবে, একটি অস্থায়ী আশ্রয় বা ঠিকানা কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলার রমনা ইউনিয়নে নন্দির মোড় ওয়াপদা বাঁধের রাস্তার খাস জমিতে গড়ে তোলা একটি টিনের চালার নীচে। প্রাথমিক শিক্ষা জীবন শুরু হয়েছিল জোড়গাছ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে। ২০১২ইং সালের পিইসি পরীক্ষায় মেধার স্বাক্ষর রেখে এ+ পেয়েছিল। এরপর চিলমারী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে ২০১৮ইং সালের পরীক্ষায় ৪.৬০ ( জিপিএ-এ) পেয়ে পাশ করে। ইচ্ছা ছিল আরও ভালো রেজাল্ট করবে কিন্তু সেটা হয়নি। তাই ক্ষোভে বিজ্ঞান বিভাগ বদলিয়ে কলা বিভাগে রংপুর সমাজকল্যাণ বিদ্যা বিথী স্কুল এন্ড কলেজে ভর্তি হয়। রংপুরে এক সর্ম্পর্কের ফুফুর বাসায় থেকে লেখাপড়া করেছে। ২০২০ইং সালের এইচএসসি পরীক্ষায় অবশেষে কলা বিভাগ থেকে জিপিএ এ+এর নাগাল পেয়েছে মনিষা। মনিষার মা নুরিমা বেগম অন্যের বাড়িতে ঝি এর কাজ করে এবং কেয়ারের রাস্তার মাটি কেটে যে সামান্য টাকা জোগার করেছিলেন এবং গার্মেন্টস এ চাকুরিরত মনিষার বড় ভাই মোঃ নাহিদ হাসান যে সামান্য টাকা পাঠিয়েছিলেন সব মিলে এক করে মনিষার অনার্সে ভর্তির টাকার সংস্থান হয়েছে। গত ১৪ অক্টোবর মনিষা রংপুর সরকারি কলেজে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায় হিসাব বিজ্ঞান বিভাগে অনার্সে ভর্তি হয়েছে। দারিদ্রতার কষাঘাতে জর্জরিত মনিষা তার এই যুদ্ধ কতদিন চালিয়ে যেতে পারবে সেটা নিয়েই এখন তার এবং তার পরিবারের সদস্যদের সংশয়।

লেখার শুরুতেই মনিষাকে জন্মসূত্রে ভূমিহীন ও গৃহহীন উল্লেখ করা হয়েছে। রমনা ইউনিয়নের নন্দির মোড়ে ওয়াপদার খাস জমিতে একটি খাল মাটি কেটে ভরাট করে সেখানে সন্তানদেরকে নিয়ে থাকার একটা ব্যবস্থা করেন মনিষার বিধবা মা নুরিমা বেগম। তিনি এক সময় মায়ের হাতের তৈরি নই, পিয়াজী, জিলাপী বিক্রি করতে শুরু করে। এক পর্যায়ে সে বড় হয় এবং প্রেম করে বিয়ে করে। তার ঘরেই নাহিদ হাসান, মনিষা ও নাইম ইসলামের জন্ম হয়। ১৪ বৎসর পূর্বে হঠাৎ নুরিমা বেগমের স্বামী অথার্ৎ মনিষার বাবা মারা গেলে। সব এলোমেলো হয়ে যায়। সংসারের করুণ অবস্থা ও দারিদ্রতা দেখে নুরিমা বেগমের বড় ছেলে নাহিদ হাসান ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা না দিয়েই ঢাকায় গিয়ে গার্মেন্টস এ চাকুরি নেয়। বর্তমানে মা-ছেলের কষ্টের উপার্জিত টাকায় চলছে তাদের সংসার। মনিষা ও নাইমের লেখাপড়া। নাইম নবম শ্রেণীতে লেখাপড়া করে। সুতরাং এই পরিবারটি শুরু থেকেই ভূমিহীন। আর গৃহ বলতে যা বুঝায় সেটা একটি চালা ঘর।

নুরিমা বেগমের করুণ আকুতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমানে ভূমিহীনদেরকে খাস জমিতে গৃহ বানিয়ে দিচ্ছে। তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট এক খন্ড মাটিসহ একটি ঘর চান, যাতে তার বৃদ্ধা মা, ছেলে, মেয়েকে নিয়ে বাকী জীবনটা একটা স্থায়ী ঠিকানায় থেকে মরে যেতে পারেন। মনিষার মা নুরিমা বেগমের আবেদন কোন শিক্ষানুরাগী সুহৃদ ব্যক্তি যদি এগিয়ে আসতেন, তাহলে মনিষা ও ছোট ছেলে নাইমের লেখাপড়া সম্পন্ন করা সহজ হতো



 

Show all comments
  • Mushfiq Saad ২৫ অক্টোবর, ২০২১, ৫:২৮ পিএম says : 0
    বড় কঠিন!
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ