Inqilab Logo

শনিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৮ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী

প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে

সরদার সিরাজ | প্রকাশের সময় : ২৬ অক্টোবর, ২০২১, ১২:০৫ এএম

করোনা মহামারিকালেও বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রা থেমে থাকেনি। বরং বেড়েছে। মানুষ এখন প্রতিযোগিতা করে মহাকাশ ভ্রমণে যাচ্ছে। চাঁদে-মঙ্গলে জমি কিনছে। সেখানে আবাস গড়ার প্রক্রিয়া চলছে। ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, আগামী এক-দেড় দশকের মধ্যেই শুরু হবে চাঁদ ও মঙ্গলে ইমারত গড়ার কাজ। বাংলাদেশেরও কয়েকজন চাঁদে ও মঙ্গলে জমি কিনেছেন। পৃথিবীর বাইরে চ্যালেঞ্জ সিনেমার দৃশ্যায়নের জন্য গত ৫ অক্টোবর মহাকাশ স্টেশনে যান রাশিয়ার অভিনেত্রী ইউলিয়া পেরেসিল্দ ও পরিচালক ক্লিম শিপেঙ্কো। এটিই মহাকাশে সিনেমার প্রথম শুটিং। শুটিং শেষে তারা নিরাপদে দেশে ফেরত আসেন গত ১৭ অক্টোবর। মহাকাশে ‘মিশন ইম্পসিবল’ সিনেমার শুটিংয়ের জন্য মার্কিন অভিনেতা টম ক্রুজ এবং নাসা ও স্পেস-এক্সও এক সঙ্গে কাজ করছে।
সাম্প্রতিককালে প্রযুক্তিরও উন্নতি হয়েছে কল্পনাতীতভাবে। করোনাকালে যখন সব কিছু বন্ধ হয়ে মানুষ ঘরবন্দি হয়ে পড়েছিল, তখনও অফিস ও ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানের কর্ম বন্ধ থাকেনি মানুষের। ঘরে বসেই মানুষ প্রযুক্তির মাধ্যমে বেশিরভাগ কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছে এবং তা স্বল্প সময়ে ও স্বল্প ব্যয়েই। শিক্ষা কার্যক্রমও ঘরে বসে চলেছে অনলাইনে। মানুষের যোগাযোগ ও ভাব বিনিময় হয়েছে ঘরে বসেই। ফলে প্রযুক্তির জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে ব্যাপক। বিশেষজ্ঞদের অভিমত, করোনা মহামারি প্রযুক্তির ব্যবহারকে দুই দশক এগিয়ে দিয়েছে। তাই প্রযুক্তির উৎকর্ষ বাড়ানোর প্রচণ্ড প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে সারাবিশ্বেই। বিপ্লব বললেও অত্যুক্তি হবে না। বর্তমানে ব্যবহৃত প্রযুক্তির অন্যতম হচ্ছে, অটোমেশন, রোবট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, যা চতুর্থ শিল্প বিপ্লব বলে খ্যাত হচ্ছে। এই নয়া বিপ্লবে যে যত এগিয়ে যাচ্ছে, সে তত বেশি উন্নতি করছে। প্রযুক্তিখাতের সাম্প্রতিক ব্যাপকতর উন্নতির উদাহরণ হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের রাইস ইউনিভার্সিটির গবেষকরা নতুন টি-শার্ট তৈরি করেছেন, যা প্রতি মুহূর্তে ব্যক্তির হৃদকম্পন মনিটর করবে এবং জানিয়ে দেবে হার্টের অবস্থা। এ উপাদান জামায় ব্যবহারের ফলে অনেক প্রযুক্তি পণ্য আর ব্যবহার করতে হবে না। যেমন, মেডিক্যাল ই কেজি হলটার মনিটর, হৃদকম্পন মনিটরিং ঘড়ি ও অ্যাথলেটদের জন্য চেস্ট স্ট্র্যাপ ব্যবহার করতে হবে না। বিশেষ করে পরিধেয় প্রযুক্তি পণ্যের বিকল্প হিসেবে এর আরো অনেক সম্ভাবনাময় উপযোগিতা রয়েছে। গবেষক দলের প্রধান টেইলর বলেছেন, ‘এই প্রযুক্তিকে আমরা পরবর্তী প্রজন্মের মিলিটারি ইউনিফর্ম হিসেবেও ব্যবহার করতে পারি। এমনকি, এটিকে অ্যান্টেনা হিসেবেও ব্যবহার করতে পারছি, যাতে আমরা সামরিক কর্মীদের অবস্থান ট্র্যাক করতে পারি ।
প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওপেন এআই ‘কোডেক্স’ নামের এআই তৈরি করেছে, যা ১২টি কম্পিউটার ভাষায় কাজ করতে পারে। এছাড়া, কম্পিউটারের বিশদ শিখতে, সাধারণ কোডিং লিখতে পারে এবং খুব দ্রুত একটি প্রোগ্রামিং ভাষা থেকে অন্য ভাষায় অনুবাদও করতে পারে। এমনকি প্রশ্ন করার দুই সেকেন্ডের মধ্যেই এটি জবাবও দিতে পারে। মানব সদৃশ রোবট তৈরি করছে মার্কিন গাড়ি নির্মাতা টেসলা ইনকরপোরেশন, যার নামকরণ করা হয়েছে ‘টেসলা বট’। সংস্থাটির নির্বাহী কর্মকর্তা ইলন মাস্ক গত ১৯ আগস্ট বলেন, টেসলা বটটির উচ্চতা পাঁচ ফুট আট ইঞ্চি। এটি গাড়ি তৈরির নানা জটিল কাজ করতে পারবে। বিশেষ করে রেঞ্চ দিয়ে গাড়ির বোল্ট জোড়া দেওয়ার কাজে একে ব্যবহার করা যাবে। এর পাশাপাশি দোকানের মালামাল বহনেও কাজ করতে পারবে টেসলা বট। আগামী বছরেই টেসলা বটের পরীক্ষামূলক সংস্করণ উন্মুক্ত করা হবে। সুইজারল্যান্ডে এক মৌমাছি রোবটকে কিন্ডারগার্টেনের শিশুদের মধ্যে খেলাচ্ছলে তথ্য-প্রযুক্তি সংক্রান্ত জ্ঞানের ভিত্তি সৃষ্টির কাজে লাগানো হচ্ছে। শিশুদের তথ্য-প্রযুক্তি সম্পর্কে মৌলিক জ্ঞান দেওয়াই সেটির কাজ। গুগল নিজেদের স্টোরেজ সেবা ইন্টারনেট ছাড়াই ব্যবহারের সুবিধা এনেছে। ফলে এখন ফোন বা কম্পিউটারে ইন্টারনেট না থাকলেও অফলাইনে গুগল ড্রাইভে রাখা নথি খুলে দেখা যাবে বলে গত সেপ্টেম্বরে জানিয়েছে সংস্থাটি। গুগল আরও জানিয়েছে, ড্রাইভে ডিজিটাল ফাইল শুধু সেভ করলেই এই সুবিধা পাওয়া যাবে না। ইন্টারনেট বন্ধ থাকা অবস্থায় গুগল ড্রাইভে ডিজিটাল নথি দেখতে গেলে সংশ্লিষ্ট নথিতে ‘রাইট ক্লিক’ করে ‘অ্যাভেলেবল অফলাইন’ অপশনটিতে ‘ক্লিক’ করতে হবে। তেলাপোকার সমান সক্রিয় রিভলভার তৈরি করেছে এক সুইস কোম্পানি, যার নাম রাখা হয়েছে ‘দ্যা সুইস মিনিগান’। এটির দৈর্ঘ্য মাত্র ৫.৫ সেন্টিমিটার,উচ্চতা ৩.৫ সেন্টিমিটার ও ওজন ১৯.৮ গ্রাম। চাবির রিংয়ের মতো এটি পকেটে ঝুলিয়ে রাখা যাবে। এটি সম্পূর্ণ স্টেন লেস স্টিলের। এই অস্ত্র দিয়ে মানুষ আত্মরক্ষা করতে পারবে।
সম্প্রতি ইলন মাস্ক জানিয়েছেন, স্টার লিংক ইতোমধ্যেই মহাশূন্যে এক লাখ স্যাটেলাইট ইন্টারনেট টার্মিনাল পাঠিয়েছে, যার মাধ্যমে বিশ্বের ১৪টি অঞ্চলে তারবিহীন ইন্টারনেট সেবা দেওয়া হচ্ছে। স্টার লিংকের ইন্টারনেটে আলোর গতিতে ডেটা স্থানান্তরের সক্ষমতা থাকবে। গতানুগতিক অপটিকাল ফাইবারের গতির তুলনায় লেজারের ট্রান্সমিশন গতি ৪০% দ্রুততর হবে। লিথুয়ানিয়ার ভিলনিয়াস ও পোল্যান্ডের লুবলিন শহরের দূরত্ব ৬৩১ কিলোমিটার। তবুও রিয়েল টাইমে সেই জানালার মাধ্যমে দুই শহরের বাসিন্দারা একে অপরের সঙ্গে ভাব বিনিময় করতে পারছেন অবলীলায়। এটি তৈরি করেছেন বেনেডিকটাস গাইলিস। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা গত ১৪ জুলাই জানিয়েছেন, তারা এমন একটি কম্পিউটার আবিষ্কার করেছেন, যার সামনে বোবা মানুষকে বসিয়ে পর্যবেক্ষণ করলে তার মনের কথা ভেসে উঠবে কম্পিউটারের পর্দায়। আবিষ্কৃত ডিভাইসটির নাম ‘স্পিচ নিউরোপ্রস্থেটিক’। এটি মানুষের মস্তিষ্কের ডিকোডগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে ভোকাল ট্র্যাক্ট, ঠোঁট, চোয়াল, জিহ্বা এবং উপজিহ্বার ক্ষুদ্র পেশিগুলোর নড়াচড়া পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণগুলোকে চিহ্নিত করবে। মানুষের মস্তিষ্কের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে এই যন্ত্র ব্যবহার করে তাদের ভাবনা জানা সম্ভব। মানবদেহের ৩.৫০ লাখ প্রোটিন সেলের গঠন সম্পর্কে জানতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তথা আলফাফোল্ড নামের একটি প্রোগ্রাম তৈরি করা হয়েছে। নতুন ওষুধ আবিষ্কারের পাশাপাশি, রোগের চিকিৎসা প্রদান ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা সম্ভব হবে। আলফাফোল্ড সম্পর্কে অধ্যাপক ম্যাকজিহান বলেছেন, মানবদেহের একটা কাঠামোর জন্য আগে আমাদের ছয় মাস সময় লাগত। সেখানে এখন কয়েক মিনিটেই কাজ শেষ হয়ে যাচ্ছে। বিশ্বের দ্রুততম সুপার কম্পিউটার তৈরি করেছে চীন। ৬৬ কিউবিটের এই কম্পিউটারের নামকরণ করা হয়েছে জুশংসি। গুগলের ৫৪ কিউবিটের সাইকামোর কোয়ান্টাম কম্পিউটার যে ধরণের জটিলতম গাণিতিক সমস্যার জট খুলতে পারদর্শী, জুশংসি তার চেয়ে এক হাজার গুণ জটিল গাণিতিক সমস্যার সমাধানে সক্ষম মাত্র ৭০ মিনিটে।
বুয়েটের সহকারী অধ্যাপক ড. তওফিক হাসানের নেতৃত্বে গবেষকরা ‘অক্সিজেট’ নামে একটি ডিভাইস তৈরি করেছেন, যা দিয়ে হাসপাতালের সাধারণ বেডেই ৬০ লিটার পর্যন্ত হাই ফ্লো অক্সিজেন দেয়া সম্ভব। একটি হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলার জন্য খরচ যেখানে ২-৫ লাখ টাকা, সেখানে অক্সিজেটের উৎপাদন খরচ ২০-২৫ হাজার টাকা। কানাডিয়ান ওপেনার প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্যবহারের জন্য ব্লাকফ্লাই নামে একক যাত্রীবাহী উড়ন্ত গাড়ি তৈরি করেছে, যা রানওয়ে ছাড়াই উড়তে ও অবতরণ করতে সক্ষম। এর বিপণন চলতি বছর থেকেই শুরু হতে পারে। অন্য কোম্পানিও বড় যানবাহন তৈরি করছে, যা ২০২৪ সালের মধ্যেই আকাশে উবারের মতো উড়ন্ত ট্যাক্সি সেবা চালু করবে। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সেবাস্তয়ান বলেছেন, আমাদের স্বপ্ন বিশ্বকে যানজট থেকে মুক্ত করা। ইরানের যোগাযোগ ও প্রযুক্তি মন্ত্রী জাহরোমি সম্প্রতি টুইটারে জানিয়েছেন, ইরান খুব শিগগিরই নিজেদের তৈরি সুপার কম্পিউটার ‘সিমোর্গ’ উদ্বোধন করবে। বিশ্বের ১০০টি সুপার কম্পিউটারের একটি হচ্ছে ইরানের এই কম্পিউটার। এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেগা ডেটা বিশ্লেষণ, আবহাওয়ার পূর্বাভাস, ভূমিকম্পের বিষয়ে আগাম সংকেত সংক্রান্ত প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং জেনেটিক ডেটা প্রসেসিংয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম, যা ভবিষ্যতে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইরানসহ গোটা বিশ্বের বাণিজ্যের প্রধান চালিকা শক্তি হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিন হাইপার লুপ ও রিচার্ড ব্রানসনের ভার্জিন গ্রুপ ‘পড’ নামের দ্রুতগামী যান তৈরি করছে, যা চলাচল শুরু হলে বিশ্ব পরিবহণ ব্যবস্থায় মহা বিপ্লব ঘটবে। যুক্তরাষ্ট্রের লাসভেগাসের উত্তরে মরুভূমির পাহাড়ের পাদদেশে এর পরীক্ষা চালানো হচ্ছে। বায়ুমুক্ত ভ্যাকুয়াম টানেলের মাধ্যমে ঘণ্টায় ১২০০ কিলোমিটার বেগে চলাচল করবে পড। এটি বর্তমানে ২৮ জন যাত্রী পরিবহনের উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে। তবে দীর্ঘ দূরত্বে যাতায়াত ও মালামাল বহনের উপযোগী করেও বিশেষায়িত পড নির্মাণ করা সম্ভব। ২০২৭ সালে পডের বাজারজাত শুরু হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় এমনভাবে ‘ডিপফেক’ ভিডিও এবং অডিও রেকর্ডিং তৈরি করা হচ্ছে, যা আসল, না নকল, তা বোঝা কঠিন। ডিপফেক ভিডিও ধরতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দুটি কর্মসূচি চালু করেছে। কারণ তাদের কাছে এটি একটি জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যু। আলট্রা-রিয়েলিস্টিক বিশ্বের প্রথম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন শিল্পী রোবট ‘আই-দা’। চিত্রাঙ্কনে যথেষ্ট পারদর্শী এই রোবট সম্প্রতি লন্ডনের ডিজাইন মিউজিয়ামে নিজের প্রতিচ্ছবি এঁকে দেখিয়েছে। বরিশাল অমৃত লাল দে কলেজের শিক্ষার্থী শুভ কর্মকার সেবক চিকিৎসা রোবট তৈরি করেছেন। চিকিৎসক যত দূরেই থাকুক না কেন নির্দেশনা মেনে রোগীর সুচিকিৎসা দেবে রোবট। পাশাপাশি রোগীর অক্সিজেন সেচুরেশন কমে গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে উৎপাদন করে ১৫-২০ মিনিট অক্সিজেন সরবরাহ করতে পারবে। একই সঙ্গে ওষুধ আনা-নেয়া, অক্সিজেন মাস্ক পরিয়ে দেয়া, রোগীর প্রাথমিক চিকিৎসার ওষুধ সরবরাহ করা, সংক্রমিত রোগীর বর্জ্য তার শরীরে থাকা ইউভি রশ্মির মাধ্যমে জীবাণুমুক্ত করতে পারবে। বিশ্বের প্রথম স্বয়ংক্রিয় ও চালকবিহীন ট্রেন চালু করছে জার্মানি। যৌথভাবে ট্রেনটি নির্মাণ করেছে জার্মান ডয়চে ভান ও সিমেন্স। আগামী ডিসেম্বরে চালু হবে এই ট্রেন। ট্রেনটিতে চালক না থাকায় সময় বাঁচবে। অন্যান্য সাধারণ ট্রেনের চেয়ে এই ট্রেনটির শক্তি বেশি ও জ্বালানির দিক থেকেও হবে সাশ্রয়ী। ট্রেনের জন্য আলাদা কোনো রাস্তার প্রয়োজন হবে না। এর আগে স্বয়ংক্রিয় ও চালক বিহীন মোটরযান চালু হয়েছে। কৃষির চাষ, সেচ, বপন, নিড়ানি, ওষুধ ছিটানো, কাটা, মাড়াই, ঝাড়া, বস্তাবন্দী ইত্যাদি হচ্ছে মেশিনের মাধ্যমে। ৫জির মাধ্যমে বহু দূর থেকেও ডাক্তার জটিল ব্যাধির অপারেশন করছেন সফলভাবে। প্রযুক্তির উন্নতি এরূপ আরও অসংখ্য উদাহরণ হয়েছে এবং তা জীবনাচরণের প্রতিটি ক্ষেত্রেরই। উপরন্তু আগামী বছর থেকে শুরু হতে চলেছে ৬জির যাত্রা। তখন প্রযুক্তি খাতে মহাবিপ্লব শুরু হয়ে যাবে।
অর্থাৎ প্রযুক্তির উৎকর্ষ ও ব্যবহার ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলেছে। গত ডিসেম্বরে মাস্টারকার্ডের ডিজিটাল বুদ্ধিমত্তা সূচক প্রকাশকালে সংস্থাটির এশিয়া-প্যাসিফিকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ম্যাথিউ বলেছেন, কভিড-১৯ মাত্র কয়েক মাসে ডিজিটাল ইকো সিস্টেমের উন্নয়ন ঘটিয়ে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসগারীয় অঞ্চলে প্রযুক্তির প্রচলন ও ব্যবহারকে অন্তত পাঁচ বছর এগিয়ে দিয়েছে। ভোক্তাদের প্রবল আস্থা ও সম্পৃক্ত হওয়ার সুবাদে ক্ষুদ্র ব্যবসায়েও প্রযুক্তির ব্যবহার ব্যাপক হারে বেড়েছে। ফলে এ অঞ্চলে ডিজিটাল ইকোনমির অমিত সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। তাই প্রযুক্তি উদ্ভাবনে প্রবল প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে সমগ্র বিশ্বে। গত ১০-১৩ সেপ্টেম্বর বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত হয় ‘বিশ্ব রোবট মেলা’, যাতে বিশ্বের মোট ১১০টি শিল্প প্রতিষ্ঠান তাদের ৫০০টিরও বেশি রোবট তাদের ক্ষমতা প্রদর্শন করেছে। প্রযুক্তির ব্যবহার যত বৃদ্ধি পাবে, কাজের মানুষের প্রয়োজনীয়তা তত হ্রাস পাবে। তাই প্রযুক্তি স্বল্প মানুষের দেশের জন্য খুবই কল্যাণকর। কিন্তু ঘন বসতিপূর্ণ দেশের জন্য ক্ষতিকর। কারণ, বেকারত্ব ব্যাপক বৃদ্ধি পাবে। গত ২৭ জুলাই এক দৈনিকে প্রকাশ, ‘এক গবেষণায় দেখা গেছে, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রভাবে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে ৬০%, আসবাবপত্র শিল্পে ৫৫%, প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্য শিল্পে ৪০%, চামড়া ও জুতা শিল্পে ৩৫% এবং সেবা শিল্পে ২০% লোক কর্মহীন হয়ে পড়বে’। অপরদিকে, মন্ত্রীপরিষদ সচিব সম্প্রতি বলেছেন, ‘চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রভাবে দেশে ৫৩ লাখ পেশাজীবীকে পেশা পরিবর্তন করতে হবে’। এই অবস্থায়ও আমাদের প্রযুক্তি বিমুখ হলে চলবে না। প্রযুক্তি বিমুখ হলে কোন ক্ষেত্রেই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা সম্ভব নয়। কারণ, প্রযুক্তির সহায়তায় উৎপাদিত পণ্যের উৎপাদন ব্যয় খুব কম, মানও ভালো। তাই উদ্ভাবিত প্রযুক্তির শতভাগকেই কাজে লাগাতে হবে। কিন্তু সে জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ লোক দরকার। নতুবা বিদেশ থেকে দক্ষ লোক এনে কাজ করতে হবে। তাতে লাভের ধন পিঁপড়াই খেয়ে ফেলবে। তাই প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রয়োজনীয় লোক দেশেই তৈরি করতে হবে। সে জন্য শিক্ষাকে ঢেলে সাজিয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক করতে হবে। বয়স্কদের প্রযুক্তি ব্যবহারের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। সর্বোপরি দেশে প্রযুক্তি উদ্ভাবনে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। প্রযুক্তির অগ্রগতি সম্পর্কে ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে। তাহলে জাতি প্রযুক্তিমনস্ক হবে। প্রযুক্তির কিছু অপব্যবহারও হচ্ছে, যার অন্যতম হচ্ছে, ই-কমার্সে প্রতারণা, মোবাইলে শিশুদের আসক্তি, নারী নির্যাতন, অশ্লীলতা ও সাইবার অ্যাটাক।এসব বন্ধ করতে না পারলে প্রযুক্তি ব্যবহারে হিতে বিপরীত হবে।
লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন