Inqilab Logo

বৃহস্পতিবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২১, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ০৪ জামাদিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরী

চকরিয়ায় ওএমএসের পণ্য কালো বাজারে

কক্সবাজার জেলা সংবাদদাতা : | প্রকাশের সময় : ২৬ অক্টোবর, ২০২১, ১২:০৩ এএম

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা খাদ্য অধিদফতরের অধীনে পরিচালিত পৌরসভার চারজন ডিলারের মাধ্যমে বিশেষ ওপেন মার্কেট সেলের (ওএমএস) চাল-আটা বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার ছাড়া সপ্তাহে প্রতিদিন সকাল নয়টা থেকে বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত সরকার নির্ধারিত মূল্যে এসব চাল আটা বিক্রির নির্দেশনা থাকলেও অর্ধেক পরিমাণ বিলি করে ফুরিয়ে গেছে অজুহাতে ডিলাররা দুপুর বারোটার আগে বিক্রি কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। এভাবে প্রতিদিন অবশিষ্ট থাকা চাল-আটা কৌশলে কালোবাজারে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের পরিসংখ্যান মতে, গত ২৫ জুলাই থেকে শুরু হয়ে চলতি অক্টোবর মাসের ২০ তারিখ পর্যন্ত দৈনিক ৬ হাজার কেজি বা ছয় মেট্রিক টন করে চারজন ডিলার কমপক্ষে ৪৩৫ মেট্রিক টন চাল উত্তোলন করেছেন। আর দুপুরের পর মোকামে বিক্রি বন্ধ করে দিয়ে তারা উল্লেখিত সময়ে অর্ধেকের বেশি প্রায় ২০০ মেট্রিক টন সরকারি মূল্যের ৩০ টাকা দামের চাল কালোবাজারে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা দামে বিক্রি করে অন্তত ২০ লাখ টাকা লুটপাট করেছে। অভিযোগ উঠেছে, চকরিয়া পৌরসভার চারটি পয়েন্টে ওএমএস চাল আটা বিক্রিতে নীতিমালা লঙ্ঘন হচ্ছে। পাশাপাশি যিনি চাল ক্রয় করতে আসবেন, তার টিপসই সংরক্ষণ রাখার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা মানা হয়নি। পক্ষান্তরে ডিলাররা তৈরি করছেন টিপসই সংরক্ষণ তালিকা। এছাড়া বরাদ্দ উত্তোলন ও বিপনণের ক্ষেত্রে চাহিদাপত্র দাখিলের নিয়ম থাকলেও তদারক কর্মকর্তাদের কাছে এসব বিষয় উপস্থাপন করা হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা খাদ্য অফিসের দাযিত্বশীল কর্মকর্তা তপন মল্লিক ও খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা ওসিএলএসডি যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে এসব চাল আটা বিক্রিতে অনিয়ম চলে এলেও ডিলারদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। এমনকি নজরদারি না থাকায় গরিবদের জন্য বরাদ্দকৃত বেশিরভাগ চাল কালোবাজারে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। এতে লাভবান হচ্ছেন অফিসের কর্মকর্তা ও কতিপয় ডিলাররা।
উপজেলা খাদ্য বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, সরকারি নির্দেশনার আলোকে গত ২৫ জুলাই থেকে চকরিয়া পৌরসভার বিজয় মঞ্চ, ভাঙ্গারমুখ, থানা সেন্টার ও পালাকাটা স্টেশন পয়েন্টে রশিদ আহমদ, ইয়ার মোহাম্মদ, বেলাল উদ্দিন বিজু ও নুরুল হক নামের চারজন ডিলার ওএমএস কর্মসুচির চাল আটা বিপনণের দায়িত্ব পেয়েছেন।
প্রতিদিন এসব ডিলার পয়েন্টে উত্তোলনকৃত চাল আটা সঠিকভাবে বিক্রি হচ্ছে কী না তা তদারক করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষথেকে চারজন কর্মকর্তাকে টেক অফিসার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এসব অনিয়মের সাথে ওইসব টেক অফিসাররা জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
তাদের মধ্যে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগের একাডেমিক সুপারভাইজার রতন বিশ্বাসকে চকরিয়া বিজয় মঞ্চ, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা নাজমুল হোসেনকে ভাঙ্গারমুখ, আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা গণেশ যাদবকে থানা সেন্টার ও উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা আমির হোসেন ইমনকে পালাকাটা পয়েন্টে তদারক কর্মকর্তা নিয়োগ দেন চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ সামসুল তাবরীজ।
চকরিয়া উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক তপন মল্লিক জানান, উত্তোলনকৃত চাল-আটা ডিলাররা সঠিকভাবে বিপণন করছেন। তারা যাতে কোন ধরণের অনিয়ম করতে না পারে সেইজন্য ইউএনও চারজন কর্মকর্তাকে টেক অফিসার নিয়োগ দিয়েছেন। পাশাপাশি খাদ্য অফিস থেকেও আমি লোক পাঠিয়ে মনিটরিং করছি।
কক্সবাজার জেলা খাদ্য কর্মকর্তা সুদত্ত চাকমা বলেন, চকরিয়া পৌরসভা এলাকায় ওএমএস চাল-আটা বিক্রিতে কিছু অনিয়মের তথ্য শুনেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে অনিয়ম অব্যবস্থাপনা যাতে ডিলাররা করতে না পারে সেজন্য খাদ্য বিভাগের পক্ষথেকে বিকল্প উদ্যোগ নেয়ার চেষ্ঠা করছি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ওএমএসের পণ্য
আরও পড়ুন