Inqilab Logo

শনিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২১, ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২১ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী

ফুটবলার সঙ্কটে হয়নি ক্যাম্প!

স্পোর্টস রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৭ অক্টোবর, ২০২১, ১২:০৬ এএম

শ্রীলঙ্কার চার জাতি টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্যাম্পে ফুটবলার সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে দলের অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে পর্তুগিজ ম্যারিও লেমোসের শুরুটা সুখকর হয়নি। দলের দায়িত্ব নিতে লেমোস ছুটি কাটিয়ে গত রোববার রাতে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ঢাকায় এসে পরের দিন সকালেই জাতীয় দলের প্রাথমিক স্কোয়াড নির্বাচন করেন। লেমোসের নির্বাচিত ২৪ জনের প্রাথমিক দলই ওইদিন বিকালে ঘোষণা করে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনে (বাফুফে)। কথা ছিল দল ঘোষণার পরই ফুটবলাররা সন্ধ্যায় জাতীয় দলের অন্তর্বর্তীকালীন ম্যানেজার ইমতিয়াজ হামিদ সবুজের কাছে রিপোর্ট করে ক্যাম্পে উঠবেন। কিন্তু সোমবার রাত পর্যন্ত ২৪ ফুটবলারের মধ্যে মাত্র তিন জন রিপোর্ট করেন। বিশ্বস্ত সুত্রে জানা গেছে গতকাল রিপোর্ট করেন আরো দু’জন। ফলে শ্রীলঙ্কা সফরের জন্য এই পাঁচ জনকে নিয়ে কাল মাঠের অনুশীলন চালাতে পারেননি কোচ লেমোস। ফলে ক্যাম্পের দ্বিতীয় দিন জিম সেশন করেই সময় কাটান কোচ।
শুধু রিপোর্টিংয়েই সমস্যা নয়, শ্রীলঙ্কা সফরের জন্য জাতীয় দলের ক্যাম্পে থাকতে চাচ্ছেন না তিন গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার সোহেল রানা, মতিন মিয়া ও বিশ্বনাথ ঘোষ। এ প্রসঙ্গে দলের ম্যানেজার ইমতিয়াজ হামিদ সবুজ বলেন, ‘দুজন ফুটবলার যথাক্রমে মতিন ও বিশ্বনাথ পারিবারিক কারণে ক্যাম্পে আসবেন না। সেটা তারা বাফুফেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন। আরেকজন ফুটবলার (সোহেল রানা) রিপোর্টিং না করলেও আজ (গতকাল) ক্যাম্পে এসে তার শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়েছেন।’ ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ ঘোষ সন্তান সম্ভবা স্ত্রীকে সময় দেয়ার জন্য এএফসি বাছাই পর্ব খেলতে অনুর্ধ্ব-২৩ দলের সঙ্গে উজবেকিস্তানে যাননি। আগামী মাসে শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিতব্য টুর্নামেন্ট থেকেও নিজেকে সরিয়ে রাখেতে চাইছেন তিনি। ফরোয়ার্ড মতিন মিয়াও বাবা হবেন এজন্য ছুটি চেয়েছেন। তবে মতিন, বিশ্বনাথ ও সোহেলের বদলে নতুন কাউকে ডাকবেন কি না এ নিয়ে ভাবছেন পর্তুগিজ কোচ লেমোস।
ফিনিশ পাসপোর্ট সমস্যা সমাধান করতে তারিক কাজী এখন ফিনল্যান্ডে অবস্থান করছেন। কবে নাগাদ তিনি দেশে ফিরবেন তা নিয়ে রয়েছে সংশয়। অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়াও দেশে নেই। আর তিন ফুটবলার ক্যাম্পে যোগ দিতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। ২৪ জনের মধ্যে বাকি থাকে ১৯ জন। পাঁচ জন রিপোর্ট করায় ক্যাম্পে এখন অনুপস্থিত ১৪ জন। ফলে ক্যাম্পে খেলোয়াড় সংকট থাকায় কোচ লেমোসের কপালে চিন্তার ভাঁজ। ক্যাম্পে কেন ফুটবলার সংকট? এ ব্যাপারে জানতে জাতীয় দলের কয়েকজন খেলোয়াড়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে মুঠোফোনে কাউকেই পাওয়া যায়নি।
সাফ খেলে ফুটবলাররা মালদ্বীপ থেকে দেশে ফিরেছেন ১৭ অক্টোবর।
এক সপ্তাহের মধ্যেই আবার এক দিনের নোটিশে ক্যাম্প ডাকায় খেলোয়াড় উপস্থিতি কম হয়েছে। স্বচ্ছ চোখে এটা মনে হলেও ফুটবলবোদ্ধাদের ধারণা নতুন ঘরোয়া মৌসুমকে সামনে রেখে ক্লাবগুলোর অনুমতি না পাওয়ায় খেলোয়াড়রা ক্যাম্পে যোগ দিতে দেরি করছেন। জানা গেছে, অনেক ফুটবলার ক্লাবের অনুমতি না পাওয়ার বিষয় বাফুফেকে মৌখিকভাবে জানিয়েছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন