Inqilab Logo

বৃহস্পতিবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২১, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৬ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী

আপনার জিজ্ঞাসার জবাব

| প্রকাশের সময় : ২৮ অক্টোবর, ২০২১, ১২:০৪ এএম

প্রশ্ন ঃ আল্লাহর রঙে রঙিন হওয়া কি?
উত্তরঃ ইরশাদ হয়েছে, ‘আমরা আল্লাহর রঙ গ্রহণ করেছি; রঙে আল্লাহ অপেক্ষা কে অধিকতর সুন্দর? এবং আমরা তাঁহারই ইবাদতকরী।’(সূরা বাকারা:১৩৮)। আল্লাহর রঙ বলতে আল্লাহতায়ালার মনোনীত দ্বীন, ফিতরাত ও হিদায়াতের রাস্তা অনুসরণকে বুঝানো হয়েছে। আল্লাহর আমাদের রব। আমরা তাঁরই আনুগত্য প্রকাশ করি। পুণরায় তাঁর নিকটই ফিরে যাবো। মহাগ্রন্থ আল-কোরআনে আল্লাহতায়ালা তাঁর পছন্দনীয় রঙের বিশদ বর্ণনা দিয়েছেন। কোরআনে বর্ণিত বিধি-বিধান অনুযায়ী দৈনন্দিন জীবন পরিচালনা করার অর্থই হলো আল্লাহর রঙে নিজেকে রঙিন করা।
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা:) হতে বর্ণিত হয়েছে, (জাহেলীয়াতের যূগে) খৃষ্টানদের ঘরে কোনো শিশু ভূমিষ্ট হলে সাতদিন পর তাকে মামুদিয়া নামক রঙিন পানিতে চুবিয়ে দিতো। তারা ধারনা করতো, এতে শিশু পবিত্র হয়ে যায় এবং তার সমস্ত ক্লেদ দূরীভূত হয়। এ কাজটি তারা খতনার পরিবর্তে করতো। ওই জলরঞ্জনের সময় তারা বলতো, শিশুটি এবার খাঁটি খৃষ্টান হয়ে গেলো। তাদের এই অলীক বিশ্বাসের বিরুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছে-‘রঙে আল্লাহ অপেক্ষা কে অধিকতর সুন্দর?’ (তাফসীরে মাজহারি:১/২৬৬)। আল্লাহতায়ালা মুসলিম নবজাত শিশুর ক্লেদ বা বালা-মুসিবত দূর করার মাধ্যমে হিসেবে আমাদের জন্য আকীকার বিধান সুনির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। হযরত সালমান ইবনে আমির (রা:) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা:) কে বলতে শুনেছি যে, সন্তানের সঙ্গে আকীকাহ সম্পর্কিত। তার পক্ষ থেকে রক্ত প্রবাহিত অর্থাৎ আকীকা কর এবং তার অশুচি দূর করে দাও।’(বোখারি:৭/৫৪৭১)।
বর্তমানে আমরা এমন একটি সময় অতিক্রম করছি, কোরআনের বাহিরে মানুষ আল্লাহর রঙে রঙিন হতে গিয়ে উল্টো ঘোমড়াহিতে জড়িয়ে পড়ছে। মানুষ তার নিজের খেয়াল -খুশির অনুসরণের ফলে সীমালংগনকারীদের অর্ন্তভূক্ত হয়ে পড়ছে। সমাজে ফেতনার সৃষ্টি হচ্ছে। সময়ের পরিক্রমায় মুসলমান নানান দলে উপদলে বিভক্ত হওয়ার ফলে ক্রমশ: দুর্বল হয়ে তার অতীত ঐতিহ্য হারাচ্ছে। ইরশাদ হয়েছে,‘বরং সীমালংঘনকারীগণ অজ্ঞানতাবশত তাদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করে।’ (সূরা রূম: ২৯)। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস বর্ণনা করেছেন, হযরত রাসূল (সা:) ইরশাদ করেছেন,‘আমার উম্মত বিভক্ত হবে তিয়াত্তরটি দলে, তন্মধ্যে একটি দল ব্যতীত অন্য সকল দল হবে জাহান্নামী। জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! ওই দলটি কোন দল। তিনি বললেন, আমি ও আমার সহচরবৃন্দের দল।’ (তাফসীরে মাজহারি:৯/৩০২)।
আল্লাহর রঙে রঙিন হতে হলে হযরত রাসূল (সা:) এর দেখানো পথ অনুযায়ী চলতে হবে। পরিবার, সমাজ এবং দৈনন্দিন আমল ইবাদত করার ক্ষেত্রে নিজেদের মনগড়া কোনো কিছু করা যাবে না। ইরশাদ হয়েছে,‘রাসূল তোমাদিগকে যাহা দেয় তাহা তোমরা গ্রহন কর এবং যাহা হইতে তোমাদিগকে নিষেধ করে তাহা হইতে বিরত থাক।’ (সূরা হাশর:৭)। ‘তুমি একনিষ্ঠ হইয়া নিজকে দ্বীনে প্রতিষ্ঠিত কর। আল্লাহর প্রকৃতির অনুসরণ কর, যে প্রকৃতি অনুযায়ী তিনি তোমাকে সৃষ্টি করিয়াছেন; আল্লাহর সৃষ্টির কোন পরিবর্তন নাই। ইহাই সরল দ্বীন; কিন্ত অধিকাংশ মানুষ জানে না।’(সূরা রূম:১/২৯৮)। আল্লাহতায়ালা আমাদেরকে সঠিক দ্বীন বুঝে তাঁর রঙে রঙিত হওয়ার তৌফিক দান করুক। আমীন।
উত্তর দিচ্ছেন: ফিরোজ আহমাদ, ইসলামিক চিন্তাবিদ ও গবেষক।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন