Inqilab Logo

রোববার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৯ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী
শিরোনাম

উনিশ মাসেরও বেশী সময় পরে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে লাল দোতালা বাস

প্রিয় স্বপ্নিল ক্যম্পাসে উচ্ছাস ভরা মনে ৮ হাজার ছাত্র-ছাত্রী

নাছিম উল আলম | প্রকাশের সময় : ২৮ অক্টোবর, ২০২১, ৬:১৭ পিএম | আপডেট : ৬:১৯ পিএম, ২৮ অক্টোবর, ২০২১

দীর্ঘ ১৯ মাস দশ দিন পরে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যম্পাসে ফিরল বিআরটিসি’র লাল দোতালা বাস। করোনা মহামারি কাটিয়ে ফের উচ্ছাস ভরা ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে রাষ্ট্রীয় সড়ক পরিবহন সংস্থার চীরচেনা বাস ক্যাম্পাসে প্রবেস করায় সবাই উচ্ছসিত। গত বছর ১৭ মার্চ সারা দেশের মত বরিশাল বিশ^বিদ্যালয়ও বন্ধ হয়ে যাবার পড়ে গত বৃহস্পতিবারই খুলে দেয়া হয়েছে দক্ষিণাঞ্চলের বৃহত এ বিশ্ববিদ্যাল। প্রথম দিন থেকে কতৃপক্ষ ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য পরিবহনের ব্যবস্থা করতে পারেন নি নানা জটিলতায়।
তবে সেদিনই ভিসি প্রফেসর ড. মোঃ সাদেকুল আরেফিন জানিয়েছিলেন ‘সব কিছু খুব দ্রুত স্বাভাবিকে হয়ে আসবে’। বিআরটিসি কতৃপক্ষও ১৯ মাসের প্রতিক্ষার অবশান ঘটিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের পরিবহন সুবিধা দেয়ার লক্ষ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রেখেছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়েন জন্য ৬টি দোতালা সহ মোট ৭টি বাস-এর ৪টি বৃহস্পতিবার চালু হয়েছে।
এরইমধ্যে অনেক অনিশ্চিত অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের কোলাহলে আবার মুখরিত হয়ে উঠেছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যম্পাস। পুরনো বন্ধুদের কাছে পেয়ে এবং প্রিয় ক্যাম্পসে ফিরতে পেরে বেশীরভাগ ছাত্র-ছাত্রীই যথেষ্ঠ আবেগ আপ্লুত। অনেকেই প্রিয় বন্ধুদের কাছে পেয়ে জড়িয়ে ধরে মুখ ভরা হাসির সাথে চোখের পানিও ধরে রাখতে পারেছে না।
তবে দক্ষিণাঞ্চলে করোনা মহামারী পরিস্থিতির যথেষ্ঠ উন্নতি হলেও তা দেশ ছেড়ে যায়নি। তাই বিশ^বিদ্যায় কতৃপক্ষ এখনো যথেষ্ঠ সতর্ক। মাস্ক পরিধান সহ সব ধরনের স্বাস্থ্যবিধি অনুসরনে ভিসি ড. মোঃ সাদেকুল আরেফিন সহ শিক্ষক মন্ডলি সার্বক্ষনিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষন করছেন। পরিক্ষা বা ক্লাসের পরে অনেক ছাত্র-ছাত্রীই ক্যম্পাসের বিভিন্নস্থানে পুরনো আড্ডায় মেতে উঠছেন প্রতিদিন।
প্রিয় বন্ধুরা সব সময়ই অতি কাছের। তবে করোনা মহামারীর সতর্কতায় মাস্ক পড়ে এবং শ্রেণী কক্ষে দুরত্ব বজায় রেখেই বসতে হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি অনুসরনে বিশ^বিদ্যালয় ক্যম্পসে নানা নির্দেশনাও টানান হয়েছে।
তবে করোনার চোখ রাঙানী সহ অনেক বাধা বিপত্বি অতিক্রম করেই প্রায় ৮ হাজার ছাত্রÑছাত্রীকে নিয়ে বরিশাল বিশ^বিদ্যলয় ক্যম্পাস গত এক সপ্তাহে ফিরেছে তার সরূপে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. মোঃ সাদেকুল আরেফিন জানান, সব ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মেনেই ছেলে মেয়েদের চলতে বলছি। আমরাও তদারক করছি। করোনা মহামরীতে বন্ধের কারনে সেসনজট প্রসঙ্গে ভিসি বলেন, বন্ধের মধ্যেও অন লাইনে ক্লাস নিয়েছি। অনেক বিভাগের পরিক্ষা সশরিরেও অনুষ্ঠিত হয়েছে। তার পরেও কিছুটা পিছিয়ে পরলেও তা সম্ভব স্বল্পতম সময়ে কাটিয়ে ওঠার সর্বত্মক চেষ্টা চলবে বলেও জানান তিনি।
ইতোপূর্বেই বিশ^বিদ্যলয়ের ৪টি হলের ৩টিতে একডোজ ভ্যাকসিন গ্রহনকারী ছাত্রÑছাত্রীরা উঠে গেলেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির বেশীরভাগই কোন টিকা গ্রহন করতে পারেনি জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায়। ফলে অনেক ছাত্রÑছাত্রী এখনো হলে ওঠা নিয়ে জটিলতা রয়েছে।
বিশ^বিদ্যালয়ের ভিসি তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রÑছাত্রীদের দ্রুত এনআইডি প্রদান বা জন্ম নিবন্ধন সনদের মাধ্যমে ভ্যাকসিন প্রদানের লক্ষে নির্বাচন কমিশন সহ স্বাস্থ্য বিভাগের সাথে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রক্ষা করে চললেও খুব অগ্রগতি হয়নি বলে জানা গেছে। বিশ^বিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনেও ছাত্রÑছাত্রীদের হালনাগাদ তালিকা পাঠান হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। খুব শিঘ্রই দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠতিষ্ঠানের ছাত্রÑছাত্রীদের ভ্যাকসিন নিয়ে একটি বিজ্ঞানসম্মত সমাধান সূত্র অনুযায়ী কাজ শুরু হবে বলেও আশাবাদ ব্যাক্ত করেছেন ভিনি প্রফেসর ড. মোঃ সাদেকুল আরেফিন।
দক্ষিণাঞ্চলের অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও অভিভাবকগনও করোনা ভ্যাকসিন নিয়ে উদ্বিগ্ন। কিন্তু ‘এ ব্যাপারে যথেষ্ঠ তৎপড়তা থাকলেও খুব দ্রুত কার্যকর কিছু হচ্ছে না’ বলে মনে করছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বশীল মহল।




 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ