Inqilab Logo

মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর ২০২১, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৪ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী
শিরোনাম

ইংল্যান্ডের কাছে বাংলাদেশের পরাজয়ে হতাশ ক্রিকেটপ্রেমীরা

সোশ্যাল মিডিয়া ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৮ অক্টোবর, ২০২১, ১০:০৯ পিএম

চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভ পর্বে বাংলাদেশ দলের বাজে পারফরম্যান্সে হতাশ ক্রিকেটপ্রেমীরা। সর্বশেষ ইংল্যান্ডের কাছে বাংলাদেশের পরাজয়ে চরম হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নেটিজেনরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অনেকেই এনিয়ে ক্ষোভ আগলাতে দেখা যায়।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভ পর্বে সাকিবদের টানা দুই হারে দারুণ ক্ষোভ ঝাড়তে দেখা যায় ক্রিকেটপ্রেমীদের। বুধবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের খেলা দেখতে এসে লিটনদের হতাশাজনক পারফরম্যান্সে আশাহত হন কোটি কোটি বাংলাদেশি দর্শক। বেশির ভাগ মানুষ লিটন দাসকে একাদশে রাখায় বেশি ক্ষোভ জানান। দিনের পর দিন এমন অফ ফর্মের একজন ক্রিকেটারকে সুযোগ দেয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেন তারা।

জ্যৈষ্ঠ সাংবাদিক, কলামিস্ট ও গবেষক মেহেদী হাসান পলাশ লিখেছেন, ‘‘শুনতে হয়তো খারাপ লাগতে পারে তবে এটাই সত্য যে, বিশ্ব পর্যায়ে আধুনিক টি-টোয়েন্টি খেলার যোগ্যতা বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের নেই। সেই মানের খেলোয়াড়ও নেই। ম্যান টু ম্যান পর্যালোচনা করলে সাকিব এবং মুস্তাফিজ ছাড়া বাংলাদেশে টি-টোয়েন্টি খেলার মানসম্পন্ন কোন ক্রিকেটার নেই। উদাহরণস্বরূপ আমরা আইপিএলের দিকে তাকাতে পারি। বাংলাদেশের দুইজন খেলোয়াড় সেখানে চান্স পেলেও একজনকে রিজার্ভ বেঞ্চ গরম করেই সিজন কাটাতে হয়। অন্যজনের পারফরম্যান্স গড়পরতা। আফগানিস্তানের ক্রিকেটাররা যেখানে ১০-১২ কোটি রুপিতে বিক্রি হয় বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা সেখানে বেস প্রাইসেই বিক্রি হয়।

অন্যদিকে আফগানিস্তানের বর্তমান টিমের দিকে তাকান এই টিমের অধিকাংশ খেলোয়াড় বিশ্বের নামকরা সকল টি২০ লিগে মর্যাদার সাথে খেলে থাকে। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা যেখানে ছক্কা মারতে গিয়ে অক্কা পায়, আফগানিস্তানের খেলোয়াড়রা বিশাল বিশাল ছক্কা মেরে বল স্টেডিয়ামের বাইরে পাঠায়। আমাদের সাইফুদ্দিন, তাসকিন, রুবেল যে গতিতে বল করে, এই গতিতে বল করে বিশ্বের নামকরা বোলাররা অনেক উইকেট পায়, কিন্তু আমাদের বোলাররা পায় না। কারণ তাদের সুইং নেই, ভেরিয়েশন নেই, নিয়ন্ত্রণ নেই। আমাদের স্পিনাররা তাদের বল স্পিন করাতে পারে না, মূলত অফকাটার ও গতির তারতম্যে আমাদের স্পিনাররা বল করে থাকে।

বাংলাদেশের ক্রিকেটের এই পরিণতির জন্য দায়ী ক্রিকেট বোর্ড। নিজেদের সাফল্য দেখানোর জন্য, বাহবা কুড়ানোর জন্য, প্রধানমন্ত্রীর ফোন পাওয়ার জন্য দেশের ক্রিকেট পিচ গুলোকে ধানক্ষেত, কচুক্ষেত বানিয়ে রাখে। যেখানে বাংলাদেশ ছাড়া আর কেউ খেলতে পারে না কিন্তু এমন পিচে খেলে বাংলাদেশের পরিণতি কী বর্তমান দলের দিকে তাকালে পরিষ্কার বোঝা যায়।’’

ক্ষোভ প্রকাশ করে মেহেদী হাসান রাব্বি লিখেছেন, ‘‘খেলা শেষে এদেরকে টাকা খরচ করে দেশে না এনে ওমানে বা দুবাইতে কন্সট্রাকশন এর কাজে যাতে লাগিয়ে দেওয়া হয়,,,তাতে খরচকৃত টাকা ঔষল হবে আর পাশাপাশি রেমিট্যান্স ও বাড়বে,,,আর বাংলাদেশের যত ক্রিকেট স্টেডিয়াম আছে সব স্টেডিয়ামে শাক সবজি ও ধান সহ যাবতীয় ফসল চাষ করা হোক,,,তাতে আমদানি কমবে আর কৃষকরা স্বাবলম্বী হবে,,,দারিদ্রতা দূর সহ কর্মসংস্থান বাড়বে।’’

মাহবুবুর রহমান লিখেছেন, ‘‘বাংলাদেশের ওয়ানডে ক্রিকেট স্ট্যাটাস পাওয়ার ২৪ বছরে এসে, আমাদের জাতীয় ক্রিকেট দলে খেলা প্লেয়াররা জাতীয় দলে খেলার গৌরবে এতটাই গর্বিত যে তাহারা আজকাল ক্রিকেটার পরিচয়ের বাইরে এসে নিজেদেরকে এক একজন জাতীয় স্টারে পরিনত করে ফেলছে। আমার ধারণা, ক্রিকেট খেলে স্টার হওয়া যায়! এই উপলব্ধিতেই অনেকে এখন ক্রিকেট খেলে! উন্নত জীবনের লোভে, নামের লোভে, ফ্যানের লোভে যখন একজন প্লেয়ার ক্রিকেট খেলে, তখন তার ফোকাস সরে অন্যদিকে যেতে বাধ্য! সাধনার যেই একাগ্রতা, তেজ এবং শক্তি, তা তখন অনুপস্থিত থাকে! তার সবচেয়ে ভালো উদাহরণ আফগানিস্তানের প্লেয়াররা। প্রচন্ড সুবিধাবঞ্চিত, আর্থিক ভাবে অপারগ একটা ক্রিকেট কাঠামোয় শুধুমাত্র খেলোয়াড়দের সাধনা এবং একাগ্রতা থাকার কারণেই তারা আজ আমাদের অনেক পরে ক্রিকেট শুরু করে,ক্রিকেট বিশ্বে অন্যতম ক্রিকেট পরাশক্তি! পাকিস্তানের কথাতো বাদই দিলাম! অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে, আমাদের খেলোয়াড়রা জাতীয়তাবাদি ক্রিকেট স্টারে পরিণত হইছে!! তাদের সমস্ত ক্রেজ এবং গ্রহনযোগ্যতা দেশীয় বিজ্ঞাপনী সংস্থা আর জনগণের হা হুতাশের ভিতরেই সীমাবদ্ধ ! পক্ষান্তরে পাকিস্তান আফগানিস্তানের ক্রিকেটাররা, নিজেদের সাধনা,পরিশ্রম, একাগ্রতা আর জেদের কারণে আজ এক একজন ক্রিকেট শিল্পীতে পরিনত হইছে।’’

মোঃ তানভীর হোসাইন লিখেছেন, ‘‘যারা বিসিবি আছেন তাদের কাছে আমাদের অনুরোধ আপনারা এভাবে আমাদের মনে কষ্ট দিবেন না আপনারা একটু সঠিক বিচার করুন বিবেচনা করে দেখুন কে খেলার যোগ্য কে খেলার যোগ্য না সেই হিসেবে সুযোগ দিন আমরা অনেক আশা নিয়ে খেলা দেখতে বসি আমাদের মন নিয়ে এভাবে খেলবেন না।আমরা জানি বাংলাদেশে অনেক ভালো প্রতিভাবান খেলোয়ার আছে তাদেরকে একটু সুযোগ করে দিন।সবশেষে জিতলেও বাংলাদেশ হারলেও বাংলাদেশ। জানের দেশ বাংলাদেশ ।’’

সাব্বির রহমান লিখেছেন, ‘‘লিটনকে আর বাদ দেওয়ার দরকার নেই, কারণ লিটন বাদ গেলে বাংলাদেশকে হারাবে কে, অদিকে শরিফুল কে আরও বেশি করে সুযোগ দেওয়া হোক যেতে সামনে বাংলাদেশের হয়ে অনেক করে.. ছিড়ে দিতে পারে। পুরা কোচ ও ম্যানেজমেন্ট বাদ না গেলে বাংলাদেশ ক্রিকেট জিম্বাবুয়ের মতো ধ্বংস করে দিবে।’’

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: টি২০ বাংলাদেশ
আরও পড়ুন