Inqilab Logo

বৃহস্পতিবার, ১১ আগস্ট ২০২২, ২৭ শ্রাবণ ১৪২৯, ১২ মুহাররম ১৪৪৪
শিরোনাম

হৃদরোগ হাসপাতালে দুদিন পানি নেই

চরম দুর্ভোগে পড়েছেন রোগী ও স্বজনরা।

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৩০ অক্টোবর, ২০২১, ১২:০১ এএম

রাজধানী ঢাকা শহরের সরকারি হাসপাতাল জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট যেন কারবালার প্রান্তর। দুদিন থেকে পানি নেই। পানির অভাবে রোগীরা নিদারুণ দুর্ভোগে পড়েছেন।
হৃদরোগে আক্রান্তদের জন্য দেশের একমাত্র বিশেষায়িত এই হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার ভোর থেকে পানির সংকট দেখা দিয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন রোগী ও স্বজনরা। রোগীদের অভিযোগ, দুদিন ধরে পানি না থাকলেও এখন পর্যন্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, সাময়িকভাবে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান পেতে পাঁচ থেকে ৭ দিনের মতো সময় লাগতে পারে।
গতকাল শুক্রবার হাসপাতালটিতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পানির সংকটের কারণে শৌচাগারের গন্ধে হাসপাতালে ঢোকাই কঠিন। যেসব রোগীরা চিকিৎসাধীন আছেন, তারা নাকমুখ চেপে কোনোরকমে দুর্গন্ধ সহ্য করেই থাকছেন।
পানির সংকটে ক্ষোভ শুধু রোগীদেরই নয়, চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে কর্তব্যরত চিকিৎসক, নার্স, ওয়ার্ড বয় থেকে শুরু করে নিরাপত্তারক্ষীদের মাঝেও। হাসপাতালটির সিসিইউতে কর্মরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নার্স বলেন, সিসিইউতে প্রতিদিনই দু-তিনজন রোগী মারা যাচ্ছেন। পানির সংকটের কারণে আমরা হাতটা পর্যন্ত ধরতে পারছি না। হাসপাতালে থাকাকালীন সময়ে কিছু খেতেও পারছি না। আপাতত আমাদের জন্য হ্যান্ড স্যানিটাইজার এবং টিস্যুই একমাত্র অবলম্বন।
রাজধানীর বাড্ডা এলাকা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা মোহাম্মদ জয়নাল আবেদিন বলেন, আমি এখানে চার-পাঁচ দিন ধরে চিকিৎসাধীন আছি। গত দুই দিন পানির সমস্যার কারণে খুবই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পানি না থাকায় শৌচাগারে ঢোকা যাচ্ছে না। পাশ দিয়ে গেলেও নাক মুখ চেপে ধরতে হচ্ছে। যে অবস্থা, মনে হচ্ছে সুস্থ হতে এসে আরো অসুস্থ হয়ে ফিরে যাওয়া লাগবে। হাসপাতাল থেকে পানির কোনো ব্যবস্থা বা আশ্বাস দেওয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, দুদিন পানি নেই। কর্তৃপক্ষ কোনো খোঁজই নেয়নি। জিজ্ঞেস করলে বলে আরো পাঁচ থেকে সাত দিন সময় লাগতে পারে।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ভোর থেকে এই ভোগান্তি শুরু হয়। রোগী ও স্বজনরা কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেন। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গণপূর্ত অধিদফতরের প্রকৌশলীদের বিষয়টি জানান। প্রকৌশলীরা সরেজমিন অনুসন্ধান করে জানান, গভীর নলকূপে পানির স্তর নেমে যাওয়ায় পাম্প দিয়ে পানি উঠছে না। এর বদলে বালু উঠছে।
গণপূর্তের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঢাকা শহরে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর অনেকটা নেমে গেছে। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে আমাদের যে পাম্পটি আছে, ওটার পানির স্তর নিচে নেমে গেছে। এই কারণে পাম্প থেকে পানির বদলে বালু উঠছে। স্থায়ী সমাধানের জন্য নতুন করে গভীর নলকূপ খনন শুরু হয়েছে। এই কাজ শেষ করতে আরও পাঁচ থেকে সাত দিন সময় লাগবে।
জানতে চাইলে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক মীর জামাল উদ্দিন বলেন, পানির সমস্যা সমাধানে আমরা ওয়াসার সাথে যোগাযোগ করেছি। আপাতত পাশের একটা বিল্ডিং থেকে পানি এনে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো চালাচ্ছি। ওয়াসা জানিয়েছে, হাসপাতালে আরেকটি বিকল্প পানির লাইন তারা স্থাপন করে দেবে। আশা করি, আজকের মধ্যেই পানির সংকট কাটিয়ে ওঠা যাবে। ##



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: হৃদরোগ হাসপাতাল
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ