Inqilab Logo

সোমবার, ১৫ আগস্ট ২০২২, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৯, ১৬ মুহাররম ১৪৪৪

দর্শক ও টেলিভিশন অঙ্গনের সুবিধার্থেই ডিজিটাল পদ্ধতি

সাংবাদিকদের তথ্যমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১ নভেম্বর, ২০২১, ১২:০৩ এএম

দেশে টিভি কেবল নেটওয়ার্ক ডিজিটাল হলে টেলিভিশনের দর্শক, মালিক, কেবল অপারেটরসহ সকলেই উপকৃত হবেন বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।
গতকাল রোববার দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্স-এটকো এবং কেবল ডিস্ট্রিবিউটর ও অপারেটরদের প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি একথা বলেন। মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মকবুল হোসেনের পরিচালনায় এটকো’র সভাপতি অঞ্জন চৌধুরী, সিনিয়র সহ-সভাপতি ইকবাল সোবহান চৌধুরী, সহ-সভাপতি আরিফ হোসেন, সদস্য আব্দুস সামাদ বাবু, আহমেদ জোবায়ের, হুমায়ুন কবীর বাবলু, ডিস্ট্রিবিউটর প্রতিনিধি মোহাম্মদ আবুল খায়ের চৌধুরী, অপারেটর প্রতিনিধি এসএম আনোয়ার পারভেজ প্রমুখ সভায় অংশ নেন। মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো, মিজান-উল-আলম, অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রচার) খাদিজা বেগম, বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক সোহরাব হোসেন এসময় উপস্থিত ছিলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে পূর্বে ঘোষিত সময়সীমা অনুযায়ী ঢাকা ও চট্টগ্রাম শহরে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে এবং গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জসহ সকল আদি জেলা শহরে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে টিভি কেবল নেটওয়ার্ক ডিজিটাল পদ্ধতিতে রূপায়ণের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়েছে। মন্ত্রী এসময় বিদেশি চ্যানেলের ক্লিনফিড বাস্তবায়ন এবং কেবল নেটওয়ার্ক ডিজিটাল করতে সরকারের সাথে একযোগে কাজ করার জন্য কেবল অপারেটরদের ধন্যবাদ জানান।
তিনি বলেন, সরকারের নির্দেশনা মেনে বাংলাদেশে ক্লিনফিড চালু করার ক্ষেত্রে যেভাবে তারা সহায়তা করেছেন সেজন্য তাদেরকে ধন্যবাদ। এতে করে দেশ উপকৃত হয়েছে, আমাদের আইন বাস্তবায়িত হয়েছে একইসাথে সরকার যে রাজস্ব হারাচ্ছিল এবং আমাদের মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রি যেভাবে বঞ্চিত হচ্ছিল, সেটির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। এই কাজটি চূড়ান্ত বাস্তবায়ন করেছে কেবল অপারেটররা।

ড. হাছান বলেন, আমাদের প্রথম সিদ্ধান্ত বিদেশি চ্যানেলের ক্লিনফিড বাস্তবায়িত হয়েছে। অপরাপর সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করার জন্য আজকের এ বৈঠকে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়েছে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে ঢাকা এবং চট্টগ্রাম শহরে এবং গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জসহ সকল আদি জেলা শহরে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে টিভি কেবল নেটওয়ার্ক ডিজিটাল করার সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে। কেবল অপারেটরদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সময় বাড়ানোর প্রয়োজন নেই, তারা ইতোমধ্যেই তাদের প্রান্তে ডিজিটাল- হেড স্থাপন করেছেন। এখন গ্রাহকদের সেট-টপ বক্স নিতে হবে জানিয়ে সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, সময়সীমার মধ্যে উল্লিখিত শহরগুলোতে গ্রাহকদের সেট-টপ বক্স না থাকলে টেলিভিশন দেখার ক্ষেত্রে ব্যত্যয় হবে। সহজ কিস্তিতে সুলভ মূল্যে কেবল অপারেটরা গ্রাহকদের সেট-টপ বক্স সরবরাহ করবে। এটকো প্রতিনিধিরা এবিষয়ে সমস্ত টেলিভিশন চ্যানেলে ব্যাপকভাবে প্রচারণা চালানো হবে বলেছেন।

মন্ত্রী বলেন, আমাদের এই বাংলাদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশ হয়েছে, কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আমাদের কেবল নেটওয়ার্কিং সিস্টেম এখনো ডিজিটালাইজ হয়নি। ভারত এবং নেপালে হয়েছে, আমাদের দেশে এটি করলে সবার জন্যই সুবিধা। গ্রাহকরা আরো ভালোভাবে টেলিভিশন দেখতে পাবে। দ্বিতীয়ত ডিজিটাল না হওয়ার কারণে সরকার প্রতি মাসে ১শ’ ২৫ থেকে দেড়শ’ কোটি টাকার ভ্যাট হারাচ্ছে। কেবল অপারেটররাও গ্রাহকদের কাছ থেকে যতখানি পাওয়ার কথা সেটি পায় না। কেবল অপারেটররা যে ফিড অপারেটরের মাধ্যমে পরিচালনা করে, দেখা যায় তাদের গ্রাহক আছে ১০ হাজার, ফিড অপারেটর হিসাব দিচ্ছে ১ হাজার। এভাবে তারাও বঞ্চিত হচ্ছে। টেলিভিশনের কর্তৃপক্ষও তাদের দর্শকসংখ্যা জানতে পারছেন না। যখন নেটওয়ার্কিং সিস্টেম ডিজিটাল হবে তখন কোনো চ্যানেল যদি পে-চ্যানেল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চায়, সেটি তখন সহজ হবে। সরকার দেশের অর্থনীতির জন্যও এটি মঙ্গল বয়ে আনবে।

হাছান মাহমুদ বলেন, ওটিটি প্লাটফমের জন্য নীতিমালার খসড়া তৈরি হয়েছে। হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছি। দেখা যাচ্ছে, যে সমস্ত চ্যানেল কেবল নেটওয়ার্কে মাধ্যমে ক্লিনফিড ছাড়া দেখা যাচ্ছে না, সে সমস্ত চ্যানেল অনেক ক্ষেত্রে ওটিটি প্লাটফর্মের মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে। এটিও আইনের বরখেলাপ এবং নীতিমালার আলোকে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: সাংবাদিকদের তথ্যমন্ত্রী


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ