Inqilab Logo

শুক্রবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২২, ১৪ মাঘ ১৪২৮, ২৪ জামাদিউস সানি ১৪৪৩ হিজরী

যশোরে ইপিজেড স্থাপনের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ করতে চিঠি

যশোর থেকে স্টাফ রিপোটার | প্রকাশের সময় : ৩ নভেম্বর, ২০২১, ৪:৩৯ পিএম

সরকার যশোরে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। এজন্য যশোর অভয়নগরের প্রেমবাগ এলাকায় ৫০৩ একর ভূমি অধিগ্রহণ করার জন্য জেলা প্রশাসককে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এই ইপিজেড নির্মিত হলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দেড় লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। অন্তত পাঁচ লাখ মানুষের জীবনযাত্রার ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। স্থানীয় মানুষের ব্যবসা-বাণিজ্যের নতুন দ্বার উন্মোচনের আশা করা হচ্ছে।

ইপিজেডের প্রকল্প পরিচালক আশরাফুল কবির স্বাক্ষরিত যশোর জেলা প্রশাসক বরাবর দেয়া চিঠিতে বলা হয়েছে, যশোর জেলায় শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে অভয়নগর উপজেলার প্রেমবাগ ইউনিয়নের চেঙ্গুটিয়া এলাকায় চাষাবাদ অনুপযোগী জলাবদ্ধ খালে ইপিজেড স্থাপন করা হবে। এ জন্য অভয়নগরের প্রেমবাগ, মাগুরা, রাজাপুর, চেঙ্গুটিয়া, আরাজি বাহিরঘাট, বালিয়াডাঙ্গা, মহাকাল এবং আমডাঙ্গা মৌজার ৫০৩ একর ভূমি অধিগ্রহণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করা হলো।
যশোরের জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের বলেন, ভবদহ এলাকায় ইপিজেড স্থাপনের জন্য প্রশাসনিক অনুমোদন পাওয়া গেছে। ভূমি অধিগ্রহণে তার দপ্তরে চিঠি এসেছে। শিগগিরই কার্যক্রম শুরু করা হবে।
ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটি ও স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, যশোর সদর, অভয়নগর, মণিরামপুর ও কেশবপুর উপজেলার মধ্যবর্তী স্থানে ভবদহ এলাকা। ভবদহ বিল পাড়ের ১২০ গ্রামের অন্তত ৫ লাখ মানুষ স্থায়ী জলাবদ্ধতার শিকার হয়েছে। ওই এলাকার প্রায় প্রতিটি বাড়ির উঠানে এখন পানি আছে। প্রেমবাগ ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও বনগ্রামের বাসিন্দা আসাদুজ্জামান বলেন, ভবদহের স্লুইসগেট গেটে পলি জমে পানিনিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। যে কারণে ধলের বিলসহ দক্ষিণের প্রায় ২৭টি বিলের পানি জমে আছে। এসব বিলপাড়ের মানুষ অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছে। এই এলাকায় ইপিজেড স্থাপিত হলে লাখো মানুষ কাজ পাবেন। ইপিজেডের কারখানা মালিকেরাও সস্তায় শ্রমিক পাবেন। লাভবান হবে উভয়ই।
প্রেমবাগ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মফিজ উদ্দীন বলেন, যশোরের দুঃখ হিসেবে পরিচিত ভবদহের জলাবদ্ধতা। যুগের পর যুগ ক্ষতিগ্রস্ত এখানকার মানুষ। ইপিজেড স্থাপিত হলে এই এলাকার অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে।
ভবদহ এলাকার পানিনিষ্কাশনের জন্য দুটি কমিটি আন্দোলন সংগ্রাম করে আসছে। কমিটির নেতাদের দাবি, বড় কোন প্রকল্প স্থাপনের আগে স্থানীয় জনগণের মতামত নেওয়া উচিৎ। কিন্তু এই প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জনগণের জনমত জরিপ করা হয়নি। ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ইকবাল কবির বলেন, ইপিজেড স্থাপন করা হলে জেলার অর্থনৈতিক উন্নতি হবে। তবে এর সঙ্গে জনগণের ভূমি অধিগ্রহণ, ক্ষতিপূরণসহ নানা বিষয় থাকে। এসব বিষয়ে স্থানীয় জনগণের মতামত নেওয়ার আহবান জানান তিনি। তবে যশোরের জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান অবশ্য বলেছেন ভবদহ এলাকায় ইপিজেড স্থাপনের বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও জনগণ অবহিত আছেন।
প্রকল্প পরিচালক আশরাফুল কবীর বলেন, ৫০৩ একর ভূমি অধিগ্রহণের জন্য যশোর জেলা প্রশাসককে বলা হয়েছে। প্রকল্পের ডিপিপি তৈরির কাজ চলছে। চট্টগ্রাম ও ঢাকার সাভারের ইপিজেডের মতোই হবে যশোর ইপিজেড। ভবদহপাড়ের অন্তত পাঁচ লাখ মানুষের জীবনযাত্রা বদলে যাবে।

 

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: উদ্যোগ


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ