Inqilab Logo

বৃহস্পতিবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২১, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৬ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী

প্রশ্ন : বিশ্বনবী (সা:) কি রাহমাতুল্লীল আলামীন?

| প্রকাশের সময় : ৪ নভেম্বর, ২০২১, ১২:০৩ এএম

উত্তর : সমগ্র বিশ্বের রাহমাতুল্লীল আলামীন হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন হযরত মুহাম্মদ (স.)। তিনি মানবজাতির জন্য রহমত। সমগ্র সৃষ্টিজগতের জন্য রহমত। তাঁর আগমনে সারা পৃথিবীর সৃষ্টি উল্লাসিত হয়েছিল। তিনি মানবজাতিকে আল্লাহ প্রদত্ত সহজ সরল পথ প্রদর্শন করেছেন। পবিত্র কোরআনুল কারীমে বর্ণিত আছে ওয়ামা আরসালনাকা ইল্লা রাহমাতাল্লীল আলামীন। অর্থাৎ আমি আপনাকে পৃথিবীতে প্রেরণ করেছি রহমতস্বরুপ। তাই তিনি সমগ্র সৃষ্টি জগতের জন্য রহমত। দুনিয়া এবং পরকালে তাঁর প্রদর্শিত পথের অনুসারীরাই বিজয়ী হবেন এবং মুক্তি পাবেন। মহান আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে হেদায়াতের বাণী নিয়ে এ ধরাতে প্রেরণ করেছেন বিশ্বনবী মুহাম্মদ (স.) কে। তিনি আসমানের জন্য রহমত। জমিনের জন্য রহমত। পশুপাখির জন্য রহমত। নদী সাগরের জন্য রহমত। এক কথায় সৃষ্টিজগতের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব রাহমাতুল্লীল আলামীন মুহাম্মদ (স.)। সকল ধর্মের মানুষের তিনি রহমত হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দের ১২ রবিউল আউয়াল সুবহে সাদিকের সময় পৃথিবীতে তিনি তাশরীফ আনেন। তাঁর আগমনে সমস্ত সৃষ্টির মধ্যে আনন্দ খুশি পরিলক্ষিত হয়েছিল। সর্বশেষ নবী হিসেবে তাঁর আগমন ছিল পৃথিবীতে। পবিত্র কুরআনুল কারীম সর্বশেষ আসমানী কিতাব হিসেবে তাঁর উপর অবতীর্ণ হয়েছে। সে মহাগ্রন্থ আল কুরআনে মানবজাতির সমস্ত জীবন সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। যে কুরআনের মাধ্যমে আমরা নবী করীম (স.) কে রহমতস্বরুপ পেয়েছি, সে কুরআনেই অন্য জায়গায় বলা হয়েছে, ইন্নাকা লা আলা খুলুকিন আজীম। সৃষ্টির জন্য উত্তম চরিত্র হিসেবে আপনাকে প্রেরণ করা হয়েছে। হে নবী আপনি হচ্ছেন সৃষ্টিজগতের জন্য উত্তম চরিত্র । এ উত্তম চরিত্র কি , সেটা হচ্ছে মানুষের সাথে মানুষের সুসম্পর্ক তৈরি করা। গোত্রের সাথে গোত্রের অমীমাংসিত সমস্যা সংশোধনের মাধ্যমে সুসম্পর্ক তৈরি করা। মারামারি হানাহানি অত্যাচার নির্যাতন জুলুম ব্যভিচার দূর করার জন্যেই মহানবীর আগমন। মহানবীর শিক্ষা হলো সৃষ্টিজগতকে সম্মান কর। আল্লাহর কোনো সৃষ্টির প্রতি অবজ্ঞা অবহেলা করোনা। সমগ্র সৃষ্টি জগত মানবতার কল্যাণের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে। রাসূল (সা.) এর উম্মত হিসেবে মানবজাতি শ্রেষ্ঠ জাতি। মানবজাতি কখনো অপর মানবতার ক্ষতি সাধন করতে পারেনা। মানবতার মুক্তির দূত মুহাম্মদ (স.) শিক্ষা দিয়েছেন কখনো মানবজাতিকে কষ্ট দিবেনা। পৃথিবীর মানুষ কষ্ট পায় এমন কাজ করোনা। যা করবে মানবতার কল্যাণেই করবে। মানবতার কল্যাণ করার জন্যেই মহানবীর আগমন। তাই মানুষ হিসেবে অপর মানুষকে অপর ধর্ম অপর গোত্র সব ধর্ম সব মানুষকে শ্রদ্ধা করা ইসলামের আদর্শ, প্রিয়নবীর আদর্শ। নবীর আদর্শ হলো যার যার ধর্ম সে পালন করবে। কখনো অপর ধর্মের ওপর আঘাত প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা নবীর আদর্শের পরিপন্থী। নবীর রেখে যাওয়া সুন্নাহ, আচার-অনুষ্ঠান পালন করা সকল আশেকে রাসূলের জন্য অবশ্যই পালনীয়। আশেকে রাসূল হোব্বে রাসূল তারাই হবেন যারা আজানের পর মসজিদে গমন করবেন। যারা ৫ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সহিত আদায় করবেন। নামাজ ঘরে বাইরে প্রতিষ্ঠা করবেন। নবীর প্রতিটি সুন্নত আচার-অনুষ্ঠান পদে পদে অনুসরণ অনুকরণ করবেন তারাই প্রকৃতপক্ষে আশেকে রাসূল এবং হোব্বে রাসূল। নবীর সুন্নাহ আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য সশস্ত্রভাবে যুদ্ধ করার কথা বলা হয়নি। নবীর সুন্নাহ কায়েম করার জন্য মানুষকে দাওয়াত দেয়ার কথা বলা হয়েছে। মানুষকে পাড়াই মহল্লায় ঘরে ঘরে গিয়ে নবীর আদর্শ প্রচারের কথা বলা হয়েছে। বলা হয়েছে পবিত্র হাদীসের মধ্যে বাল্লিগো আন্নি ওলাউ আয়াÑ তোমরা আমার একটি বাণী হলেও জাতির নিকট পৌছিঁয়ে দাও। এ বাণী থেকে পরিস্কারভাবে বুঝা যায় যে দ্বীন ধর্ম এসেছে প্রচারের মাধ্যমে। তলোয়ার এবং যুদ্ধের মাধ্যমে কোনো ইজম বা মতাদর্শ প্রচার করা বা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। একমাত্র দাওয়াত এবং প্রচারের মাধ্যমেই দ্বীন ধর্ম প্রচার করাটাই সঠিক পথ ও পন্থা। প্রকাশ্যে কোরআন এবং হাদীসের বাণীর মাধ্যমে ধর্মের প্রচার হতে হবে। ধর্মের মধ্যেই গোপনীয়তা বলতে কিছু নেই। সমস্ত কিছু মানবজাতির জন্য বিশ্বনবী মুহাম্মদ (সা.) পরিস্কার করে গেছেন। লাখ লাখ পবিত্র হাদীসের বাণীর মাধ্যমে মানবজাতির কল্যাণ অকল্যাণ সবকিছু প্রচারিত হয়েছে। মানবতার মুক্তি কোন পথে আর শাস্তি কীভাবে সবকিছু নবীর হাদীসের মধ্যে বর্ণিত আছে। সুতরাং ইসলামের মধ্যে জঙ্গীবাদ সন্ত্রাস নৈরাজ্যের কোনো অবকাশ নেই। নবী এসেছিলেন জঙ্গীবাদ সন্ত্রাস নৈরাজ্যকে পদদলিত কওে শান্তির পথ মানবজাতির নিকট প্রদর্শনের জন্য। আর সে পথ হচ্ছে নবীর কোরআন সুন্নাহর পথ। নবী কারীম (স.) ৬৩ বছর জীবন পৃথিবীর এ ধরায় অতিবাহিত করেছেন। তিনি জীবন যাপন করেছেন। বিবাহ শাদী সংসার করেছেন। তিনি সমাজকে সংশোধন করার জন্য যুব বয়সে হিলফুল ফুযুল সংগঠন প্রতিষ্ঠা করে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি সাংসারিক জীবন যাপন করে সমাজের সাম্যতা প্রতিষ্ঠা করেছেন। মানবতার কল্যাণ অকল্যাণ কোন পথে এবং কীভাবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব তা তিনি তাঁর পবিত্র জিন্দেগীর মধ্যে বাস্তবায়ন করে দেখিয়েছেন। আমাদেন নবী প্রকৃত বাস্তব একটি জ্বলন্ত আদর্শ। তাঁর জীবনাদর্শের মধ্যে সমগ্র জাতির উন্নতি কল্যাণ অগ্রগতি খুঁজে পাওয়া যাবে।
উত্তর দিচ্ছেন : মাহমুদুল হক আনসারী। সংগঠক, গবেষক, কলামিষ্ট



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: রাহমাতুল্লীল আলামীন
আরও পড়ুন