Inqilab Logo

রোববার, ১৪ আগস্ট ২০২২, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৯, ১৫ মুহাররম ১৪৪৪

ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ গেল আরো ৫ জনের

পুরান ঢাকায় আতঙ্কের নাম কেমিক্যাল গোডাউন পুড়ে ছাই অসংখ্য পরিবারের স্বপ্ন

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৬ নভেম্বর, ২০২১, ১২:০১ এএম

পুরান ঢাকার বাসিন্দাদের কাছে আতঙ্কের নাম কেমিক্যাল (রাসায়নিক) গোডাউন। কিছুদিন পরপর লাগা কেমিক্যালের দোকান অথবা কারখানায় আগুন লেগে মরছে মানুষ। পুড়ে ছারখার হয়ে যাচ্ছে অসংখ্য পরিবারের স্বপ্ন। সর্বশেষ গতকাল সোয়ারীঘাটের কামালবাগে রোমানা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ নামে জুতার কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে পাঁচজনের প্রাণ গেছে। তবে এই আগুনের শেষ কোথায় বলতে পারছেন না কেউ। কারণ প্রতিবার অগ্নিকাণ্ডের পর তদন্ত হয়। কিন্তু কমিটির সুপারিশ আর আলোর মুখ দেখে না।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সোয়া ১টায় সোয়ারীঘাটের একটি জুতার কারাখানায় আগুন লাগার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় ৮টি ইউনিট। প্রায় দুই ঘণ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুন লাগার কারণ তদন্ত সাপেক্ষে জানা যাবে। নিহত শ্রমিকদের লাশ স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে।
চকবাজার থানার ওসি মো. আবদুল কাইউম জানান নিহতরা হলেন- চাঁদপুরের মনির হোসেন, বরিশালের আব্দুর রহমান, মানিকগঞ্জের আমিনুল, শেরপুরের কামরুল ইসলাম ও কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরের মো. শামিম মিয়া। সবাই কারখানার শ্রমিক। এদিকে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রোমানা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ কারখানায় বার্মিজ ও স্পন্সের জুতা তৈরি হতো। কারখানাটিতে জুতা তৈরিতে ব্যবহৃত রাবার, প্লাস্টিক ও কেমিক্যালভর্তি অনেক ড্রাম ছিল। এসব দাহ্য পদার্থের কারণেই আগুন ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করে।
গতকাল সরেজমিনে দেখা যায়, কারখানার অবস্থান কামালবাগের আবাসিক এলাকার সন্নিকটে। দুই তলা বিশিষ্ট ভবনটিতে প্রবেশের সময় নিচতলায় কেমিক্যালভর্তি একাধিক ড্রাম রয়েছে। এছাড়া উপর-নিচে জুতা তৈরিতে ব্যবহৃত প্লাস্টিক ও রাবার পড়েছিল। আগুনে এসব প্লাস্টিক ও রাবারসহ গোটা গোডাউন পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনে কারখানার পাশে মদিনা বাজার নামে একটি কাঁচাবাজারও সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। ভবনটি মূলত দোতলা হলেও একতলার ওপর পাটাতন দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে শ্রমিকদের থাকার জন্য খোপ তৈরি করা হয়েছিল। সেখান থেকেই নিহত পাঁচ শ্রমিকের লাশ উদ্ধার করা হয়। পুড়ে যাওয়া জুতার কারখানার আশপাশে একাধিক কেমিক্যালের দোকানও রয়েছে।
আগুনে পড়ে যাওয়া কারখানার পাশে অপর একটি কারখানায় বৃহস্পতিবার রাতে নাইট ডিউটিতে ছিলেন আমির হোসেন। তিনি বলেন, রাত ১টার দিকে বিকট শব্দ শুনতে পাই। পরে আগুন আগুন বলে চিৎকার শুনে দৌড়ে গিয়ে দেখি, কারখানাটি দাউ দাউ করে জ্বলছে। আগুনের তাপ অনেক বেশি হওয়ায় এর আশপাশে যাওয়া যাচ্ছিল না। কারখানার পাশে মদিনা ট্রান্সপোর্ট মার্কেটের সুভারভাইজার মো. রফিক বলেন, ১০ থেকে ১২ বছর আগে রফিক হাজী জমি লিজ নিয়ে কারখানাটি তৈরি করেন। রফিক হাজীর বাসা চকবাজারের রহমতগঞ্জের হাজী রোডে। রাতে মার্কেটের নাইট গার্ড ফোনে আগুন লাগার কথা জানান। সকালে এসে দেখি কারখানাটি সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে।
এদিকে গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ঘটনাস্থলে আলামত সংগ্রহ করে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট। ইউনিটের প্রধান ইন্সপেক্টর মো. সাইফুর রহমান ভুঁইয়া বলেন, বেশকিছু কেমিক্যাল সদৃশ আলামত সংগ্রহ করেছি। এগুলো সিআইডির রাসায়নিক ল্যাবে পরীক্ষার পর বলা যাবে আসলে এগুলো দাহ্য পদার্থ ছিল কি না।
ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের সহকারি উপ-পরিচালক হাফিজুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থলে প্রচুর পরিমাণে রাবার জাতীয় কাঁচামাল পাওয়া গেছে। রাবার এক ধরনের পেট্রোলিয়াম জাতীয় পদার্থ। এছাড়া ডিওপি তেল মজুদ ছিল, যা দাহ্য পদার্থ। তবে আগুনের প্রকৃত কারণ তদন্ত সাপেক্ষে জানা যাবে।
স্থানীয়রা বলছেন, একেকটি আগুন ট্র্যাজেডি ঘটে আর সরকারের পক্ষ থেকে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়। কিন্তু কিছুই বাস্তবায়ন হয় না। ২০১০ সালের ৩ জুন নিমতলীতে রাসায়নিকের গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১২৪ জনের মৃত্যু হয়। ৯ বছর পর ২০১৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি চকবাজারের চুড়িহাট্টায় ওয়াহেদ ম্যানশনের আগুনে মারা যান ৭১ জন। দুই বছর পর এবার আরমানিটোলার হাজী মুসা ম্যানসনের অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ যায় ৪ জনের। সর্বশেষ সোয়ারীঘাটে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ গেল আরো ৫ জনের।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: কেমিক্যাল গোডাউন
আরও পড়ুন

মার্শাল আর্টে দেশসেরা কুরআনে হাফেজ নাসির

img_img-1660499097

তিনি পবিত্র কোরআনের হাফেজ। হেফজ শেষ করে গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকায় আসেন মাদরাসায় উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করতে। পড়াশোনার পাশাপাশি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার হাফেজ মোহাম্মদ আলীমুজ্জামান নাসির আগ্রহী ছিলেন শরীরচর্চায়। মার্শাল আর্ট ভালো লাগত তাঁর। মাদরাসার ছাত্র হয়ে মার্শাল আর্ট পছন্দ করার কথা বলতে পারছিলেন না কাউকেই। সাহস করে একদিন বড় ভাইকে কথাটা জানালে ভাই তাকে সমর্থন দেন। বড় ভাইয়ের চেষ্টায় ২০১৭ সালের দিকে ঢাকায় মেজবাহ আর্ট একাডেমিতে ভর্তি হন নাসির। সেখানে এস এম মেজবাহ উদ্দীনের তত্ত্বাবধানে শুরু করেন কঠোর অনুশীলন। নাসিরের প্রতিভা দেখে মেজবাহ উদ্দীন তাঁকে একটি ম্যাচ খেলার সুযোগ করে দেন। সে ম্যাচটি হারেন নাসির। এরপর তাঁকে হারাতে পেরেছেন খুব কম খেলোয়াড়। নিজের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রেখে এখন তিনি মার্শাল আর্টে দেশসেরা। গত ৫ থেকে ৮ আগস্ট চার দিনব্যাপী ঢাকার পুরানা পল্টনে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ জিমনেসিয়ামে বাংলাদেশ মার্শাল আর্ট ফেডারেশন শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামাল স্মৃতি জাতীয় মার্শাল আর্ট প্রতিযোগিতা আয়োজন করে। এতে গোপালগঞ্জ স্পোর্টি ক্লাব, ঢাকা ক্রীড়া সংস্থা, নরসিংদী ক্রীড়া সংস্থা, বরিশাল ক্রীড়া সংস্থা, নোয়াখালী ক্রীড়া সংস্থা, গাজীপুর ক্রীড়া সংস্থা ও রংপুর ক্রীড়া সংস্থার ৬০ জন প্রতিযোগী অংশ নেন। সবাইকে পেছনে ফেলে দেশসেরা হন নাসির। গোপালগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে চারটি সোনা, পাঁচটি রুপা ও একটি ব্রোঞ্জ পদক জিতেছেন তিনি। এর আগে ২০২১ সালের কিশোরগঞ্জের নেহাল পার্কে অনুষ্ঠিত বঙ্গবন্ধু জাতীয় কুংফু প্রতিযোগিতায় দেশের ১৮টি জেলার ৬৫ জন প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে স্বর্ণপদক পান নাসির। এরপর গত মার্চে কক্সবাজার পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় তাইচি কুংফু প্রতিযোগিতায় ১৮টি জেলার ২০০ প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে প্রথম হন তিনি। নিজের সাফল্যের মূল কৃতিত্ব পরিবারকেই দিলেন নাসির। বললেন, এই কৃতিত্বের পেছনে আমার বাবার অবদান অনেক। বাবা সব সময় আমাকে উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। আমার বড় ভাইও আমাকে নানা ধরনের সহযোগিতা করেছেন। মেজবাহ স্যার নিজের ছেলের মতো আমাকে গড়ে তুলেছেন। তাঁদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞ আমি। নাসির আরও বলেন, প্রতিটি মানুষের জন্য মার্শাল আর্ট শেখা খুবই জরুরি। শরীরকে সুস্থ রাখা, মনোবল বাড়ানো, আত্মরক্ষা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। এ জন্যই আমি মার্শাল আর্ট পছন্দ করতাম। কিন্তু জাতীয় প্রতিযোগিতায় এত বেশি পদক পাব, কখনো ভাবিনি। নাসিরের সাফল্যে উচ্ছ্বসিত কাশিয়ানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মাদ আলী খোকন। বলেন, ছেলেটা আমাদের খায়েরহাট গ্রাম আর পুরো গোপালগঞ্জ জেলার মুখ উজ্জ্বল করেছে। এ জন্য আমি এবং আমার ইউনিয়নবাসী আনন্দিত ও গর্বিত। আমার বিশ্বাস, আরও অনেক দূর এগিয়ে যাবে কুরআনে হাফেজ নাসির।  

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ