Inqilab Logo

সোমবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২২, ০৩ মাঘ ১৪২৮, ১৩ জামাদিউস সানি ১৪৪৩ হিজরী

বাজারে উত্তাপ আরো বেড়েছে

তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং পরিবহন ধর্মঘট সরবরাহব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা ভোক্তাদের ওপরই চাপলো বোঝা তেলের দাম বৃদ্ধি বাজারে আগুন ছড়াবে : ক্যাব

মাহফুজ খান | প্রকাশের সময় : ৬ নভেম্বর, ২০২১, ১২:০১ এএম

নিত্যপণ্যের বাজারে এমনিতেই অস্বস্তি। দ্রব্যমূল্যের টানা ঊর্ধ্বগতিতে ক্রেতার মাথায় হাত বিগত কয়েকমাস ধরে। চাল, আটা, পেঁয়াজ, চিনি, সয়াবিন তেল, আলুসহ বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য বাড়তি দামেই কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।

বাজারে কাজে দিচ্ছে না সরকারের কোনো পলিসি। মন্ত্রণালয়ের ঠিক করা দামেও পণ্য পাওয়া অনেকটা সোনা হরিণ। নুন আনতে পান্তা ফুরায় মধ্যবিত্ত এমনকি উচ্চ মধ্যবিত্তদেরও। বাজারের চরম অস্থিরতার এই মূহুর্তেই ‘মরার উপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে আসলো জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও পরিবহন ধর্মঘটের ঘোষণা। ফলে ধর্মঘটের সুযোগ নিয়ে নিত্যপণ্যের বাজারে উত্তাপ আরো বেড়েছে। সামনে অতিরিক্ত পরিবহন খরচে অজুহাতে দাম বৃদ্ধির এই পরিস্থিতি কোন পর্যায়ে গিয়ে ঠেকে তাই আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে গতকাল থেকে শুরু হওয়া পরিবহন ধর্মঘটের কারণে ইতোমধ্যে সবজিসহ নিত্যপণ্যের সরবরাহ কিছুটা কমেছে। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন দেশজুড়ে পণ্য পরিবহন বন্ধ হওয়ায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল কারওয়ান বাজারে দেখা গেছে এমন চিত্র। অন্যান্য দিনের তুলনায় গত রাতে পণ্যবাহী ট্রাক কম এসেছে বলে জানিয়েছেন বিভিন্ন আড়তের ব্যবসায়ীরা।
গতকাল দুপুরে ছোট ছোট পিকআপ ভ্যানে করে কিছু পণ্য বাজারে এসেছে। আর কয়েকটি ট্রাক আসলেও সেগুলোর জন্য ব্যবসায়ীদের গুণতে হয়েছে অতিরিক্ত ভাড়া। এদিকে পণ্য সরবরাহ কম হওয়ায় এবং পরিবহনে খরচ বাড়ায় কাঁচাবাজারে পণ্যের দাম বৃদ্ধি অনেকটা স্বাভাবিক ঘটনা বলে জানিয়েছেন রাজধানীর কারওয়ান বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীরা বলেন, পণ্য পরিবহন বন্ধ হওয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ঢাকায় আসতে পারছে না সবজি। সরবরাহব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় বরাবরের মতোই সবজির দামও কিছুটা বাড়বে এটাই স্বাভাবিক। আর তার সঙ্গে অতিরিক্ত পরিবহন খরচ তো আছেই। পচনশীল পণ্য হওয়ায় সরবরাহ সঙ্কটের তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ে তরকারির বাজারে। কিন্তু চাল, ডালসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যে প্রভাবটা পড়তে একটু সময় লাগে।
এদিকে, কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) মনে করে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি জনজীবনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরির পাশাপাশি নিত্যপণ্যের বাজারে আগুন ছড়াবে। এক বিবৃতিতে কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি এসএম নাজের হোসাইন এ মন্তব্য। তিনি বলেন, নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি; বিশেষ করে ভোজ্যতেল, চাল, চিনি, সবজির দামের ঊর্ধ্বগতির ফলে সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকায় নাভিশ্বাস ওঠেছে। এর সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে তেলের মূল্য বৃদ্ধি। গ্যাস, বিদ্যুৎ পানির মূল্যও দফায় দফায় বাড়ানো হয়েছে। অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে ডলারের দামও। এ অবস্থায় তেলের দাম বৃদ্ধি ভোক্তা পর্যায়ে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।
গতকাল রাজধানী বাজার সূত্রে দেখা গেছে, গত মাসে বেঁধে দেওয়া দামের চেয়ে প্রতি লিটারে খোলা সয়াবিন তেল ১৫ থেকে ২০ টাকা বেশি দাম নিচ্ছেন খুচরা বিক্রেতারা। নির্ধারিত দাম অনুসারে, খুচরা পর্যায়ে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিনের দর ১৩৬ টাকা ও পামওয়েল ১১৮ টাকা এবং বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১৬০ টাকা এবং পাঁচ লিটার ৭৬০ টাকায় বিক্রি হওয়ার কথা। কিন্তু বাজারে খুচরা বিক্রেতারা প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন ১৫২ থেকে ১৫৫ এবং পামতেল ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকায় বিক্রি করছেন।
গত সপ্তাহে হঠাৎ বেড়ে যাওয়া আলুর দাম কমেনি এখনও। মানভেদে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকায়, যা ৮-১০ দিন আগে বিক্রি হয়েছে ১৬ থেকে ২০ টাকা। গত দেড় থেকে দুই মাস ধরে ভোক্তাকে চরম ভুগিয়েছে পেঁয়াজের দর। শুল্ক প্রত্যাহার ও আমদানি স্বাভাবিক হওয়ার পরও আগের দরে ফেরেনি পণ্যটি। বাজারে দেশি পেঁয়াজ ৬০ থেকে ৬২, ভারতীয় পেঁয়াজ ৪০ থেকে ৪৫ এবং মিয়ানমারের পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি করছেন খুচরা বিক্রেতারা। এছাড়া দেশি রসুন ৬০ টাকা হলেও চড়া দাম রয়েছে ভারতীয় রসুনে। বড় দানার ভারতীয় রসুন কিনতে হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকায়।
গত সপ্তাহের মাঝামাঝি চালের দাম পাইকারি পর্যায়ে দুই-এক টাকা কমে এলেও খুচরায় এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। আগের মতোই মিনিকেট চাল প্রতি কেজি ৫৮ থেকে ৬৫ টাকায়, নাজিরশাইল ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া স্বর্ণা ও বিআর-২৮ জাতীয় চালের কেজি বিক্রি হচ্ছে মানভেদে ৪৬ থেকে ৫০ টাকায়। দুই কেজি আটার দাম ৬৮ থেকে ৭০ টাকা। এছাড়া খোলা চিনির দাম প্রতি কেজি ৭৮ থেকে ৮০ এবং প্যাকেটজাত চিনি ৮৪ থেকে ৮৬ টাকা। ভারতীয় মশুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ৮৫ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে। দেশি মশুর ১০০ থেকে ১০৫ টাকায়।
বাজারে কিছু শীতের সবজি এসেছে। তবে সেগুলোর দাম আকাশচুম্বি। প্রতি কেজি শিম ১২০-১৩০, গাজর ১০০-১১০, টমেটো ১১০-১২০ এবং ছোট জাতের করলা ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিটি ফুলকপির দাম ৩০-৫০, বাঁধাকপি ৩০-৪০ টাকা। অন্যান্য সবজি পাওয়া যাচ্ছে ৪০-৬০ টাকার ভেতর। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে বাজারে এসেছে ইলিশ। তবে দাম ক্রেতার নাগালের বাইরে। এক কেজি ওজনের ইলিশের দাম এক হাজার টাকা আর তার বেশি ওজনের হলে ১১০০-১২০০ টাকা রাখছেন বিক্রেতারা।
তবে গত দুই থেকে আড়াই মাস পর বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার এখন মিলছে ১৬০-১৬৫ টাকার ভেতর। এতে সোনালি মুরগির দামও কমছে, মিলছে ২৮০-৩২০ টাকা কেজি দরে। একডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে কমপক্ষে ১১০ টাকায়।



 

Show all comments
  • Shanto ৬ নভেম্বর, ২০২১, ১০:২০ এএম says : 0
    যতদিন এই পৃথিবী এবং এই পৃথিবীর প্রত্যেকটি দেশের উচ্চপদে বড় বড় মিথ্যুক ভন্ড প্রতারক শোষক মানুষের রূপ ধারী অমানুষ পিচাশরা ক্ষমতা দখল করে থাকবে ততদিন এই পৃথিবীতে সাধারণ মানুষের কোন শান্তি আসবে না, কারণ পিচাসরা সাধারণ মানুষের রক্ত শোষণ করে ক্ষমতা এবং সম্পদের পাহাড় গড়ে...
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: তেলের মূল্য


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ