Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ২০১৯, ০৮ ভাদ্র ১৪২৬, ২১ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

এগিয়ে চলছে তিন বিমানবন্দর উন্নয়ন কাজ

প্রকাশের সময় : ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬, ১২:০০ এএম

উমর ফারুক আলহাদী : হযরত শাহজালাল, শাহ আমানত এবং কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের কাজ চলছে। এসব বিমানবন্দরে উন্নীত করা লক্ষ্যে সিভিল এভিয়েশনের প্রকৌশল বিভাগের প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার কয়েকটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এগুলো বাস্তবায়ন হলে দেশের বিমানবন্দরের দৃশ্যপটই বদলে যাবে। সিভিল এভিয়েশনের প্রকৌশল বিভাগের তত্ত্বাবধানে এসব প্রকল্পের কাজ ২০২৫ সালের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। তবে কয়েকটি প্রকল্পের কাজ ২০২১ সালের মধ্যে সম্পন্ন হতে পারে। এমন আশাবাদ ব্যক্ত করছেন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা। শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ ও বিমানবন্দরের নিরাপত্তা সংক্রান্ত সরঞ্জামাদী কেনারও প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে। এছাড়া সিভিল এভিয়েশনের জন্য অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধাসহ কুর্মিটুলায় নির্মাণ করা হচ্ছে এভিয়েশন সদর দপ্তর। শাহ আমানত বিমানবন্দরের জন্য নেয়া হয়েছে ১০ বছর মেয়াদী দীর্ঘ উন্নয়ন পরিকল্পনা। সব কয়টি বিমানবন্দরে উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে বলে জানিয়েছে সিভিল এভিয়েশন প্রকৌশল বিভাগ। কক্সবাজার বিমানবন্দরের জন্য দুই দফায় ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ১৫০ কোটি টাকা। পর্যটন নগরী কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণ কাজ শেষ হলে ২০১৮ সালের মধ্যেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে সরাসরি সুপরিসরের বিমান আসা-যাওয়া করবে এ বিমানবন্দরে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী ১০ বছরের মধ্যেই দেশের আকাশপথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্তের সূচনা হবে।     
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্প, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা সংক্রান্ত যন্ত্রপাতি ক্রয় ও স্থাপন প্রকল্প, শাহ আমানত বিমানবন্দরে যাত্রী টার্মিণাল ভবন সম্প্রসারণ, কার্গো টার্মিনাল ভবন নির্মাণ এবং রানওয়ে সম্প্রসারণসহ বেশ কযটি প্রকল্পের কার্যক্রম হাতে নিয়েছে সিভিল এভিয়েশন প্রকৌশল বিভাগ। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পর্যটন নগরী কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নয়নের কাজও দ্রুত এগিয়ে চলছে। সব কয়টি প্রকল্পের জন্য প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। তবে এ ব্যয় আরো বৃদ্ধি পেতে পারে।
সিভিল এভিয়েশনের প্রধান প্রকৌশলী সুধেন্দু বিকাশ গোস্বামী বলেন, শাহ জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ এখন সময়ের দাবী। তিনি আরো বলেন, শুধু শাহ জালাল বিমানবন্দরেই নয়, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর উন্নয়নে বিভিন্ন পরিকল্পনা নেয়া হয়নি, কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ সব কয়টি বিমানবন্দরের উন্নয়নেও কয়েকটি প্রকল্পের কাজ চলছে।
এ প্রসঙ্গে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি মুহাম্মদ ফারুক খান বলেন, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণসহ সার্বিক উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং এ কার্যক্রমের সর্বশেষ অগ্রগতি বিষয়ে কমিটি অবগত আছে। কমিটির পক্ষ থেকে যত দ্রুত সম্ভব কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশে বিমানবন্দরগুলোর সুরক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) অর্থায়নে একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলমান রয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রামের হযরত শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জন্য এক সেট রাডার, যশোর ও সৈয়দপুর বিমানবন্দরের জন্য দুই সেট ‘ডপলার ভেরি হাই ফ্রিকোয়েন্সি ওমনিডিরেকশনাল রেডিও রেঞ্জ (ডিভিওর)’ ও ‘ডিস্টেন্স মেজারিং ইকুইপমেন্ট (ডিএমই)’ এবং ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জন্য দুটি ফায়ার ভেহিকল, সাতটি হোল্ড ব্যাগেজ স্ক্যানিং মেশিন, দুটি কেবিন লাগেজ স্ক্যানিং মেশিন ও ১৯টি অ্যাকসেস কন্ট্রোল সিস্টেম ক্রয় ও সংস্থাপন করা হবে। প্রকল্পটি ২০১৭ সালের জুন নাগাদ সম্পন্ন হবে বলে মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে।
বিমানবন্দরের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন জানান, বিশ্বে সংঘটিত কতিপয় সন্ত্রাসী কর্মকা-ের পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় নিরাপত্তার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়টি বর্তমানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় বিশ্বজুড়ে বেসামরিক বিমান চলাচল তথা বিমানবন্দরগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। একইভাবে বাংলাদেশেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার লক্ষ্যে অতিরিক্ত বেশকিছু পদক্ষেপ গ্রহণও চলমান রয়েছে।
এদিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা জোরদার করতে চলতি অর্থবছর ‘বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার লক্ষ্যে জরুরি সরঞ্জামাদী সরবরাহ ও সংস্থাপন’  একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন নিরাপত্তা সরঞ্জাম ক্রয় ও সংস্থাপন কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এসব সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে। ডুয়াল ভিউ এক্স-রে স্ক্যানিং মেশিন ফর হোল্ড ব্যাগেজ, ডুয়াল ভিউ এক্স-রে স্ক্যানিং মেশিন ফর কেবিন ব্যাগেজ উইথ ট্রে রিটার্ন সিস্টেম, আন্ডার ভেহিকল স্ক্যানিং মেশিন, ব্যারিয়ার গেট উইথ আরএফআইডি কার্ড রিডার ও ফ্ল্যাপ ব্যারিয়ার ইত্যাদি। এসব সরঞ্জাম স্থাপন হলে আন্তর্জাতিক তিনটি বিমানবন্দরে বহির্গামী যাত্রীদের লাগেজ, ব্যাগেজ, যানবহন ও কার্গো স্ক্যানিংয়ের মাধ্যমে নিষিদ্ধ পণ্য প্রবেশ প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। প্রকল্পটি ২০১৬ সালের জুনে শেষ হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দরে। বাংলাদেশ এ ধরনের হামলার হুমকি রয়েছে। এমনটি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণে গোয়েন্দা প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে। এ বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় কাজ করছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। আর এ জন্যই নিরাপত্তার সরঞ্জামাদী ক্রয় ও স্থাপনের জন্য কয়েকটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এসব প্রকল্পের আওতায় বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নির্বিঘœ করার উদ্যোগ বাস্তবায়নের কার্যক্রম চলছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বিষয়ে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সহযোগিতা রয়েছে। নিরাপত্তা কাজে ব্যবহারের জন্য যুক্তরাজ্য সরকার ২০১২ সালে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে (বেবিচক) দুটি ‘এক্সপ্লোসিভ ট্রেস ডিটেক্টর (ইটিডি)’ যন্ত্র উপহার দিয়েছে। বাংলাদেশ নিয়মিত ঢাকা-লন্ডন রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করে। যুক্তরাজ্যের দেয়া ইটিডি মেশিন পরিদর্শন ও লন্ডনগামী ফ্লাইটের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখতে যুক্তরাজ্যের ‘ডিপার্টমেন্ট ফর ট্রান্সপোর্টেশনের’ প্রতিনিধিরা এরই মধ্যে দু’বার বাংলাদেশ সফর করেছে এবং নিরাপত্তা-সংক্রান্ত পর্যবেক্ষণ ও পরামর্শ দিয়েছে। সে অনুযায়ী বেবিচক এরই মধ্যে বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আধুনিকায়ও ও উন্নয়নের বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে সিভিল এভিয়েশন। এসব উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে বিমানবন্দরে রানওয়ে সম্প্রসারণ, প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ভবন ও কার্গো ভবন সম্প্রসারণ এবং বিমানবন্দরে প্যারালাল ট্যাক্সিওয়ে নির্মাণ। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পের সম্ভাব্য বাস্তবায়নের সময়কাল হলো ২০১৯ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। একইভাবে বিমানবন্দরের প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ভবন ও কার্গো ভবন সম্প্রসারণ প্রকল্পের সম্ভাব্য বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে ২০২০ সালের জুলাই থেকে ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম হাতে নেয়া হবে ২০২০ সালে।
বিমানবন্দরের অন্যান্য উন্নয়ন পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে কার্গো টার্মিনাল ভবনের সামনে কার্গো অ্যাপ্রোন নির্মাণ প্রকল্প। এ প্রকল্পের সম্ভাব্য বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। এছাড়া বিমানবন্দরের রানওয়ে ওভারলে প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে ২০১৬ সালের জুলাই থেকে ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত।
জানা গেছে, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বোর্ডিং ব্রিজ স্থাপন ও কানেক্টিং করিডোর নির্মাণেও প্রকল্প নেয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের সম্ভাব্য বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। ভবিষ্যৎ যাত্রী চাহিদা ও ফ্লাইট কার্যক্রম বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্যারালাল ট্যাক্সিওয়ে নির্মাণে একটি প্রকল্পের পরিকল্পনা রয়েছে বেবিচকের।
শাহ আমানত বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার জন্য প্রথম উদ্যোগ নেয়া হয় ১৯৯৬ সালে। সে সময় কারিগরি ও আর্থিক সহায়তার জন্য জাপান সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা চুক্তিস্বাক্ষর হয়। এ চুক্তির আওতায় ১৯৯৮ সালের ১২ মার্চ উন্নয়ন কাজ শুরু হয়। ২০০০ সালের ১১ ডিসেম্বর উন্নয়ন কাজ শেষ হয়।  সিভিল এভিয়েশন জানায়, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ও সরকারের আওতায় প্রথম পর্যায়ে কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ করণের পুরো কাজ শেষ হতে সময় লাগবে আরো কয়েক মাস। দ্বিতীয় প্রকল্পের কাজ ২০২০ সালের মধ্যেই শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। প্রথম দফায় বিমান বন্দরের বর্তমান রানওয়ে ৬৭৭৫ বর্গফুট থেকে ৯০০০ ফুটে উন্নীত করা হচ্ছে। প্রস্থ বাড়িয়ে ১৫০ ফুট থেকে ২০০ ফুটে উন্নীত করা হচ্ছে। স্থাপিত হবে নতুন ডিভিওআর, ডিএমই, আইএলএস, এয়ার ফিল্ড লাইটিং সিস্টেম। রানওয়ের লাইটিং ফ্যাসিলিটিজও বাড়ানো হবে। পাশাপাশি নেভিগেশন এইড বাজানো হবে। উন্নয়ন কাজ সমাপ্ত হলে বড় আকারের ফাইট ল্যান্ডিংয়ের অনুমতি দেয়া যাবে।
এ প্রকল্পের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে  ১১শ’ ৫০ কোটি ৩২ লাখ টাকা। প্রথম পর্যায়ের এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৭৮ কোটি টাকা।
কক্সবাজার বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মোঃ আমিনুল হাসিব বলেন, দিনদিন বদলে যাচ্ছে কক্সবাজার বিমান বন্দরের চেহারা। এগিয়ে চলছে উন্নয়ন কাজ। রানওয়ে সম্প্রসারণ, মাটি ভরাট, ভূমি উন্নয়ন এবং ড্রেজিংয়ের কাজ চলছে পুরোদমে। ইতিমধ্যে ২০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। প্রকল্প কাজ মনিটরিং করছে ডিডিসি (কনসালটেন্ট কোম্পানী) ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০১৮ সালে কক্সবাজার বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক বিমানের ফ্লাইট অবতরণ করবে। তবে পুরোপুরি ভাবে চালু হতে ২০২০ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। পর্যটন শিল্পকে বিকশিত করা, সমুদ্রসীমা রক্ষা, কক্সবাজারের উন্নয়নসহ দেশি-বিদেশি পর্যটকদের সুবিধার্থে সুপরিসর বিমান চলাচল নিশ্চিতকরণে সরকার বদ্ধপরিকর। বাণিজ্যিক গুরুত্বের পাশাপাশি পর্যটনের প্রসারও ঘটবে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী ও ফ্লাইটের চাপ সামাল দিতে নতুন আরেকটি টার্মিনাল তৈরি করা হচ্ছে। এটি হবে এই বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল। ১৩০ একরের বেশি জায়গায় তৈরি হবে টার্মিনালটি। বাজেট ধরা হয়েছে ১০ হাজার কোটি টাকারও বেশি। ২০১৯ সালের মধ্যে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। ইতোমধ্যে এ প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় জাপান দেয়ার জন্য প্রস্তাব করেছে। সম্প্রতি জাপানী একটি প্রতিনিধি দল বিমান মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী রাশেদ খান মেননের সাথে বৈঠকও করেছেন।
জানা গেছে, খিলক্ষেতে নিকুঞ্জের লা ম্যারিডিয়ান হোটেলের সামনে থেকে টার্মিনাল পর্যন্ত ওভারব্রিজ নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি আন্ডারগ্রাউন্ড ও মেট্রোরেলের রাস্তা দিয়ে যাত্রী ও দর্শনার্থীদের আসা-যাওয়ার ব্যবস্থাও থাকবে। নতুন করে আরেকটি রানওয়ে তৈরির পরিকল্পনা আছে সিভিল এভিয়েশনের। তবে নতুন টার্মিনাল তৈরির ফলে আশপাশের কোনো বাসিন্দা ক্ষতিগ্রস্ত হবে না বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সিভিল এভিয়েশন প্রকৌশল বিভাগ জানায়, থার্ড টার্মিনালের বোর্ডিং ব্রিজের সঙ্গে থাকবে ১৫টি আগমনী বেল্ট। পর্যাপ্তসংখ্যক এসকেলেটর, সাবস্টেশন ও লিফট, রাডার, কন্ট্রোল টাওয়ার, অপারেশন ভবন, বহুতল গাড়ি পার্কিং থাকবে। তিনতলা টার্মিনাল ভবনটির স্থাপত্যে রাখা হবে নান্দনিকতার ছোঁয়া।
বেসরকারি বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব খোরশেদ আলম চৌধুরী জানান, তৃতীয় টার্মিনাল তৈরি করতে সকল কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে চলছে। এই টার্মিনালটি তৈরি হয়ে গেলে যাত্রীসেবার মান আরো বাড়বে তা নিঃসন্দেহে বলা যায়।
জানা যায়, শাহজালাল বিমানবন্দরের টার্মিনাল-১ ও টার্মিনাল-২-এর কার্যক্ষমতা ২০১৮ সালের মধ্যে শেষ হবে। এরপর এ দু’টি টার্মিনালে আর অপারেটিং কাজ করা যাবে না। তবে এই দু’টি টার্মিনাল রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যবহৃত হবে।
সূত্র জানায়, থার্ড টার্মিনাল নির্মাণে কনসালটেন্সি ফার্ম নিয়োগ দেয়া হয়েছে। দেশি ও বিদেশি তিনটি ফার্ম তাদের রিপোর্ট তৈরি করেছে। গত ৩০ জুন রিপোর্ট জমাও দিয়েছে। ভিআইপি লাউঞ্জ থেকে শুরু করে পদ্মা অয়েল পর্যন্ত দুই লাখ ৩০ হাজার বর্গমিটার জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে নতুন টার্মিনালের জন্য। অভ্যন্তরীণ টার্মিনাল সরিয়ে নেয়া হবে উত্তর দিকের কার্গো ভবনের স্থানে। আর কার্গো ভবন নেয়া হবে আরো উত্তর দিকে। রানওয়ের দৈর্ঘ্য ১০ হাজার ৫০০ ফুট থেকে বাড়িয়ে ১২ হাজার ফুট করার কথা আছে, যাতে পৃথিবীর সবচেয়ে সুপরিসর উড়োজাহাজ এয়ারবাস ৩৮০ ওঠা-নামা করতে পারে।




 

Show all comments
  • Shahid Afridi Noman ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬, ১০:৪২ এএম says : 0
    It is a very good news for us
    Total Reply(0) Reply
  • হুমায়ন কবির ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬, ২:৩৭ পিএম says : 0
    নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে।
    Total Reply(0) Reply
  • সোহরাব হোসেন ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬, ২:৩৮ পিএম says : 0
    উন্নয়ন কাজের পাশপাশি সেবার মানও বাড়াতে হবে।
    Total Reply(0) Reply
  • ওয়াসিম ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬, ২:৩৯ পিএম says : 0
    সকল কাজের সঠিক তদারকি হওয়া দরকার।
    Total Reply(0) Reply
  • Abu Noman ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬, ২:৪০ পিএম says : 0
    jak onek din pore akta valo khabor sunlam
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ