Inqilab Logo

বৃহস্পতিবার, ২০ জানুয়ারী ২০২২, ০৬ মাঘ ১৪২৮, ১৬ জামাদিউস সানি ১৪৪৩ হিজরী
শিরোনাম

সাটু‌রিয়ায় চলন্ত বাসে ক‌লেজ ছাত্রী‌কে ধর্ষণ চেষ্টা: চালক গ্রেফতার

স্বামীকে ছাড়াতে থানায় ২ স্ত্রী

সাটু‌রিয়া (মা‌নিকগঞ্জ) সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ৬ নভেম্বর, ২০২১, ১১:২৩ পিএম

ঢাকা আরিচা মহাসড়কের মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার সেকেন্ড গোলড়া এলাকায় চলন্ত বাসে এক কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার আটিয়া বেপারীপাড়া এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে বাস চালক খোকন মিয়া (২৮) আটক করেছে পুলিশ।


এ ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া বাস চালক খোকন মিয়াকে ছাড়াতে থানায় দুই স্ত্রী হাজির হয়েছে।

শনিবার (৬ নভেম্বর) রাতে স্বামীকে ছাড়াতে সাটুরিয়া থানায় তারা হাজির হয় তারা। এর আগে শনিবার দুপুরে ঢাকা আরিচা মহাসড়কের গোলড়া এলাকায় চলন্ত বাসে মানিকগঞ্জ সরকারি দেবেন্দ্র কলেজের অনার্স (বাংলা) প্রথম বর্ষের এক ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনা ঘ‌টে। সে সময় ধর্ষণের হাত থেকে রক্ষা পেতে চলন্ত বাস থেকে লাফ দিয়ে মহাসড়কে ছিটকে পড়ে ওই ছাত্রী।

কলেজ ছাত্রী জানায়, সকালে ধামরাই থানা রোড থেকে কালামপুর এন্টারপ্রাইজের একটি গাড়িতে উঠে মানিকগঞ্জের উদ্দেশে। গাড়িটি কিছু দূর আসার পর সব যাত্রী গাড়ি থেকে নেমে যায়। এরপর সে গাড়ি থেকে নামতে চাইলেও চালক বাধা দেয়।

এভাবে গাড়িটি নয়াডিঙ্গি বাসস্ট্যান্ড অতিক্রম করলে বাস চালক চলন্ত বাসেই তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ সময় বাসের হেলপার বাসটি চালায় বলে জানা গেছে। এক পর্যায়ে বাস চালককে ধাক্কা দিয়ে চলন্ত বাস থেকে লাফ দেয় সে। পরে এক প্রাইভেটকার চালক বিষয়টি হাইওয়ে থানায় অবগত করলে পুলিশ চালককে আটক সাটুরিয়া থানায় হস্তান্তর করে।

গোলড়া হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, চলন্ত বাসে কলেজছাত্রী ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বাসচালককে আটক করে সাটুরিয়া থানায় পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় বাসটি জব্দ করা হয়।

সাটুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল আলম বলেন, ভুক্তভোগী নিজেই সাটুরিয়া থানায় ধর্ষণের চেষ্টা মামলা দা‌য়ের ক‌রে‌ছে। আসামিকে কারাগারে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

জানা যায়, ২০১৪ সালে খোকন মিয়ার প্রথম বিয়ে হয়। খোকন মিয়ার প্রথম স্ত্রীর পৈত্রিক নিবাস গাজিপুরের কালিয়াকৈর এলাকার দেওয়াইর বাজার এলাকায়। তবে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি না নিয়ে আবার বিয়ে করে খোকন। দ্বিতীয় স্ত্রীর বাড়ি খোকনের নিজ এলাকায়।

খোকন মিয়ার প্রথম স্ত্রী বলেন, বিকেলে বাসের মালিক কল দিয়ে জানায় খোকনকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে। খবর পেয়ে স্বামীকে ছাড়াতে থানায় এসেছি। কিন্তু পুলিশ তাকে না ছেড়ে আদালতে যোগাযোগ করতে বলে।

দ্বিতীয় স্ত্রী বলেন, আমরা প্রেম করে বিয়ে করেছি। বিয়ের আগে জানতাম না খোকনের আগে বিয়ে হয়েছে। বিকেলে শুনি খোকনকে থানায় নিয়ে এসেছে। পুলিশ যদি তাকে না ছাড়ে তাহলে ছোট মেয়েকে নিয়ে আমি এখন কি করে চলবো।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন