Inqilab Logo

শনিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২২, ০৮ মাঘ ১৪২৮, ১৮ জামাদিউস সানি ১৪৪৩ হিজরী

রাতভর দুই শিক্ষার্থীকে ছাত্রলীগের মারধর

ঢাবির মাস্টার দ্য সূর্যসেন হলে

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৯ নভেম্বর, ২০২১, ১২:০১ এএম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মাস্টার দ্য সূর্যসেন হলে দুই আবাসিক শিক্ষার্থীকে রাতভর নির্যাতন করেছে হল ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ছাত্রলীগের প্রেগ্রামে না যাওয়ায় গত রোববার রাতভর নির্যাতনের শিকার হয়ে ভোর বেলা হল ছাড়তে বাধ্য হন ওই দুই শিক্ষার্থী। তারা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৭-১৮ সেশনের নৃবিজ্ঞান বিভাগের আরিফুল ইসলাম ও নাট্যকলা বিভাগের তরিকুল। ভুক্তভোগীদের দাবি- বেশ কয়েকদিন ধরে ছাত্রলীগের প্রোগ্রামে না যাওয়া ও ব্যক্তিগত ক্ষোভের জের ধরে তাদেরকে রোববার রাতভর নির্যাতন করে হল থেকে বের করে দিয়েছে ছাত্রলীগের দুই কর্মী। তবে বিষয়টি অস্বীকার করেছেন অভিযুক্তরা।

জানা যায়, নির্যাতনের শিকার আরিফুল ও তরিকুল থাকতেন সূর্যসেন হলের ৩৫৭ নাম্বার রুমে। ছাত্রলীগের রাজনীতিতেও ছিল সক্রিয়। কিন্তু সম্প্রতি পড়াশোনার চাপের কারণে সাম্প্রতিক কিছু কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেননি তারা। আর এই অপরাধেই তাদেরকে মারধর করে হল থেকে বের করে দেয় তাদের এক ব্যাচ সিনিয়র সিফাত উল্লাহ ও মাহমুদুর রহমান অর্পণ। সিফাত বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী। অর্পণ আধুনিক ভাষা শিক্ষার অধীনে ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ বিভাগের শিক্ষার্থী। তারা দু’জনে থাকেন একই হলের ৩৫১ নাম্বার রুমে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম বলেন, আমি আমাদের এলাকার ঢাকাস্থ শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত একটি সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হয়েছি এবং হল সংসদেরও সদস্য হয়েছি। সিনিয়র হিসেবে সিফাত ভাই এগুলো মানতে পারেনি। এছাড়াও পড়াশোনার চাপের কারণে বেশ কিছুদিন ধরে আমরা দু’জন ছাত্রলীগের প্রোগ্রাম থেকে একটু দূরে ছিলাম। এসবের জের ধরে রোববার রাত আড়াইটার দিকে তাদের রুমে ডেকে নিয়ে আরো কিছু ভাইসহ দু’ঘণ্টা যাবত রড নিয়ে বসে আমাদেরকে যাচ্ছে তাই গালিগালাজ করেছে এবং একপর্যায়ে আমাদেরকে মেরেছে। আমাদের হুমকি দিয়ে বলেছে, হল থেকে না গেলে মেরে ট্যাংকির মধ্যে ফেলে দিবে। নির্যাতনের একপর্যায়ে আমি অসুস্থ হয়ে পড়লেও বের হতে দেয়নি। পরে ভোররাতে হল থেকে বের করে দিয়েছে।
তিনি বলেন, তরিকুলের বিরুদ্ধে জামায়াত-শিবিরের অভিযোগ এনে ফোন চেক করে। কিন্তু ফোনে তেমন কিছুই পায়নি বলে তাকে বেশি কিছু করেনি।

মারধরের বিষয়টি অস্বিকার করে সিফাত উল্লাহ বলেন, ছাত্রলীগের হল কমিটিকে কেন্দ্র করে আমার ইমেজ নষ্ট করার জন্যই আমার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ দেওয়া হচ্ছে। মূলত তাদেরকে রুমে ডাকার কারণ ছিল- তারা ২০১৮-১৯ সেশনের দুই শিক্ষার্থীকে হল থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল। তাই তাদেরকে শুধু জিজ্ঞেস করতে রুমে ডেকেছিলাম যে কেন তাদেরকে হুমকি দিয়েছে। তাদের গায়ে কোনো হাত তোলা হয়নি।
এদিকে হলে শীর্ষ পদ প্রত্যাশী ও সিফাতের গ্রুপের নেতা ইমরান সাগর বলেন, এর সাথে ছাত্রলীগের কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। যদি এরকম কোনো ঘটনা ঘটে থাকে এবং কেউ প্রমাণ করতে পারে তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যে সিদ্ধান্ত নিবে আমিও তা মেনে নিব।

জানা যায়, সিফাত-অর্পণ ও তাদের প্রার্থী ইমরান সাগর ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়ের অনুসারী। তাই বিষয়টি নিয়ে ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল করিম সুমনের সাথে কথা বললে তিনি জানান, বিষয়টি আমি কেবল শুনেছি এবং তাদেরকে ডেকেছি। বিস্তারিত জেনে একটা সমাধানে আসব।
এ বিষয়ে সূর্যসেন হলের প্রভোস্ট প্রফেসর মো. মকবুল হোসেন ভূঁইয়া বলেন, বিষয়টি আমি দেখছি। আমি কিছু সময় নিয়ে বিষয়টা মিটমাট করে দিব।

ঢাবি প্রক্টর প্রফেসর ড. একেএম গোলাম রব্বানী বলেন, বিষয়টি আমরা শুনেছি কিন্তু তারা আমাদেরকে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। তবুও আমি হল প্রশাসনের সাথে কথা বলে তাদেরকে বিষয়টি দেখতে বলেছি। এর আগেও ২০১৮ সালে সিফাত ও অর্পণসহ আরো একজনকে অর্থনীতি বিভাগের দুই শিক্ষার্থীকে মারধরে সম্পৃক্ততায় সাময়িকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ছাত্রলীগ


আরও
আরও পড়ুন