Inqilab Logo

শনিবার, ২১ মে ২০২২, ০৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ১৯ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরী

পেট্রোল-ডিজেলের উপর কর কমাচ্ছেন না মমতা

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১০ নভেম্বর, ২০২১, ১২:০৫ পিএম

নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার অবশেষে পেট্রোল-ডিজেলের উপর থেকে শুল্ক কম করেছে। তবে পশ্চিমবঙ্গে পেট্রোল-ডিজেলের উপর থেকে কর কমাতে রাজি নন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

ভারতের বিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাও তারপর একই পথে হেঁটে রাজ্যস্তরে কর কম করেছেন। ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপরেও পেট্রোল-ডিজেলের উপর থেকে ভ্যালু অ্যাডেড ট্যাক্স (ভ্যাট) কমানোর দাবি উঠেছিল। যে বিজেপি কেন্দ্রীয় স্তরে এতদিন শুধু কর ও শুল্ক বাড়িয়ে দিয়েছে, তারাই এখন রাজ্যে ভ্যাট কম করার দাবিতে আন্দোলন করছে। কিন্তু মমতা এই দাবি পুরোপুরি খারিজ করে দিয়ে জানিয়েছেন, তিনি ভ্যাট কম করবেন না।

কর না কমানোর ক্ষেত্রে তার যুক্তি, কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে তিনি কোনো অর্থ পান না। তিনি টিকাও পান না, টাকাও পান না। তাই তিনি কর কম করবেন না। তার যুক্তি হলো, তিন বছর আগে তিনি পেট্রোল-ডিজেলের উপর থেকে এক টাকা ভ্যাট কমিয়েছেন। এর ফলে তার দেড় হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে।

মমতার অভিযোগ, কেন্দ্রীয় বিভিন্ন প্রকল্পের টাকাও মোদি সরকার দিচ্ছে না। মিড ডে মিল, ঘূর্ণিঝড়ের ত্রাণ, একশ দিনের কাজের টাকা রাজ্য পাচ্ছে না। মমতা বলেছেন, ‘হয় আমাদের টাকা কমিয়ে দেয়া হয়েছে। না হলে টাকা দিচ্ছে না।’ মুখ্যমন্ত্রী মনে করেন, উত্তর প্রদেশ সহ কিছু রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন আসছে বলে এখন লোক দেখানোর জন্য সামান্য কর কমিয়েছে কেন্দ্র।

বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেছেন, ''শুধু কেন্দ্র নয়, বিজেপি শাসিত রাজ্য পেট্রোল-ডিজেলের উপর কর কমিয়েছে। কংগ্রেস শাসিত পাঞ্জাব ও ছত্তিশগড়ও কমিয়েছে। তাহলে পশ্চিমবঙ্গ কমাবে না কেন?'' সুকান্ত জানিয়েছেন, তারা জনগণকে সব তথ্য জানাবেন। আর নবান্ন অভিযানও করবেন। শুক্রবার জেলাগুলিতে আন্দোলন হবে।

ডিজেলের দাম সমানে বাড়লেও তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাসভাড়া বাড়েনি। বস্তুত রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে বাসভাড়া একই আছে। তাই বেসরকারি বাস মালিকদের সংগঠন অবিলম্বে বাস ভাড়া বাড়াবার দাবি জানিয়ে পরিবহণমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে চিঠি দিয়েছেন। ফিরহাদও তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে পারেন।

পশ্চিমবঙ্গে এখন বাসে উঠলেই সাত টাকা টিকিট। তবে প্রবীণ সাংবাদিক শুভাশিস মৈত্র জানিয়েছেন, বেসরকারি বাসে অনেক সময়ই দশ টাকা ভাড়া নেয়া হচ্ছে। অটোর ভাড়া বেড়েছে। ট্যাক্সি মিটারে যেতে চায় না। তারা আগে থেকে দাম ঠিক করে নেয়। ফলে সরকারি বাসে ভাড়া না বাড়লেও বাকি ক্ষেত্রে অঘোষিতভাবে ভাড়া বেড়েছে।

শুভাশিস ডয়চে ভেলেকে বলেছেন, ''সামনেই কলকাতা ও হাওড়ার গুরুত্বপূর্ণ পুরসভা নির্বাচন। তার আগে দাম কমানোটাই স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু তা না কমানোর অর্থ হলো, হয় রাজ্য সরকারের আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ অথবা কলকাতা ও হাওড়ায় জয় নিয়ে মমতার মনে কোনো সন্দেহ নেই।''

আরেক প্রবীণ সাংবাদিক দীপ্তেন্দ্র রায়চৌধুরী ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছেন, ''দাম অবশ্যই কমানো উচিত ছিল। শুধু মমতা নন, নরেন্দ্র মোদীরও অনেক আগে আরো বেশি কর কমানো উচিত ছিল। আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দাম কমেছে, কিন্তু কেন্দ্র বা রাজ্য সরকার কর না কমিয়ে বরং বাড়িয়ে গেছে। অন্তত ডিজেলের ক্ষেত্রে তো কমানো অবশ্যই উচিত ছিল।''

কেন্দ্রের যুক্তি, তারা জলকল্যাণের প্রকল্পের খরচ চালনোর জন্য কর বাড়িয়েছেন। দীপ্তেন্দ্র মনে করেন, ''তার অর্থ হলো, অর্থনীতি সামলাতে সরকার ব্যর্থ। এটা শুধু করোনার দুই বছরের ছবি নয়, গত সাত বছরের ছবি। বারবার পেট্রোল-ডিজেলের কর ও শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। সেখান থেকে পাওয়া অর্থ দিয়ে সরকার অর্থনীতি সামলাচ্ছে। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলি সকলেই অর্থনীতি সামলাতে না পেরে শুধু পেট্রো পণ্যের উপর কর ও শুল্ক বাড়িয়ে গেছে।'' সূত্র: ডয়চে ভেলে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মমতা


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ