Inqilab Logo

শনিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২২, ০৮ মাঘ ১৪২৮, ১৮ জামাদিউস সানি ১৪৪৩ হিজরী

ইঁদুর ধরে পেয়েছেন জাতীয় পুরস্কার

মুহাম্মদ আবু মুসা, জয়পুরহাট থেকে | প্রকাশের সময় : ১৭ নভেম্বর, ২০২১, ১২:০২ এএম

২৮ বছর ধরে ইঁদুর ধরে জীবিকা নির্বাহ করছেন কৃষকের বন্ধু আনোয়ার। এ কাজে প্রয়োগ করছেন, নিজের আবিস্কৃত নানা কৌশল। ফসলের মাঠ আর বসত বাড়ির ইঁদুর নিধনের জন্য তাকে কেউ দেন চাল, কেউ দেন গম, কেউ দেন ডাল, কেউবা দেন অন্যান্য খাদ্য দ্রব্য; আবার কেউ কেউ দেন টাকাও দিয়ে যাচ্ছে।
জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার তিলকপুর ইউনিয়নের ভট্টপশালী গ্রামের আনোয়ার হোসেন স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি পেয়েছেন জাতীয় পুরস্কার। বয়স বাড়ার সাথে সাথে ফসল বিনাশী ইদুর শিকারে বেশ দক্ষ হয়ে ওঠেন আনোয়ার। নেশা থেকে একসময় ইঁদুর বিনাশই হয়ে ওঠে তার পেশা। নাম ছড়িয়ে পড়ে ইঁদুর আনোয়ার হিসেবে। দূর দূরান্ত থেকে আনোয়ারের ডাক আসে ইঁদুর পাকড়াও করার জন্য। যে কোনো ধরণের ফসল ক্ষেত, বাড়ি বা গাছের ইঁদুর ধরতে সিদ্ধহস্ত আনোয়ার। নিজের বুদ্ধিতে উদ্ভাবন করেছেন বালু আর পাইপের ফাঁদ।
এখন গ্রামের উৎসাহীদের ইঁদুর নিধনের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন আনোয়ার। ইতোমধ্যে অর্ধশত মানুষ তার কাছে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। আনোয়ার জানান, ইঁদুর নিধনের জন্য তিনি স্থানীয় এবং জাতীয়ভাবে পুরস্কৃত হয়েছেন।
পেয়েছেন নানা পদক আর সনদ। ২০০৪ সালে ২৩ হাজার ৪৫১টি ইঁদুর নিধনের জন্য তাকে কৃষি বিভাগ জাতীয়ভাবে পুরস্কৃত করেছেন। উপহার দিয়েছেন ১৪ ইঞ্চি রঙিন টেলিভিশন। এছাড়া ইঁদুর নিধনের জন্য স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে পেয়েছেন জমিতে ওষুধ দেয়ার স্পেয়ার মেশিন, নগদ টাকাসহ নানা উপহার সামগ্রী। এবছর স্থানীয় কৃষি বিভাগ তাকে ১ হাজার ৫০০ টাকা উপহার দিয়েছেন। তিনি আরও জানান, এখন তিনি প্রতিদিন ২০ থেকে ৫০টি ইঁদুর ধরেন। এ পর্যন্ত তিনি ৫৭ জনকে ইঁদুর ধরার কৌশল শিক্ষা দিয়েছেন। তারা প্রত্যেকেই এখন ইঁদুর ধরাকেই জীবিকা নির্বাহের পেশা হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক শফিকুল ইসলাম জানান, ইঁদুরের হাত থেকে ফসল রক্ষা করাটা এখন বেশ দুষ্কর। প্রতিবছর উৎপাদিত ফসলের ১০ থেকে ১৫ ভাগ ফসল যাচ্ছে ইঁদুরের পেটে। বিষ প্রয়োগসহ নানান কৌশলেও কাজ হচ্ছে না। কিন্তু অতি সহজ পদ্ধতিতেই এই অসাধ্য সাধন করে যাচ্ছেন আনোয়ার। গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন আনোয়ার। আগামীতে তার জন্য সরকারি সহযোগিতার ব্যবস্থা করা হবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন