Inqilab Logo

বুধবার, ১০ আগস্ট ২০২২, ২৬ শ্রাবণ ১৪২৯, ১১ মুহাররম ১৪৪৪
শিরোনাম

জাতিসংঘে প্রথমবারের মতো সর্বসম্মত প্রস্তাব গৃহীত

রোহিঙ্গা ইস্যু

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৯ নভেম্বর, ২০২১, ১২:০০ এএম

জাতিসংঘে এবারই প্রথমবারের মতো সর্বসম্মতিক্রমে রোহিঙ্গা মুসলিম এবং মিয়ানমারের অন্যান্য ক্ষুদ্র জাতি- গোষ্ঠীর মানবাধিকার পরিস্থিতির বিষয়ে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা এই সর্বসম্মত প্রস্তাবকে সঙ্কট নিরসনে আন্তর্জাাতিক সম্প্রদায়ের দৃঢ় সংকল্প বলে উল্লেখ করেছেন।

নিউইয়র্ক সময়ানুযায়ী গত বুধবার জাতিসংঘে ‘মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিমসহ অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানবাধিকার পরিস্থিতি’ শীর্ষক প্রস্তাবটি গ্রহণ করা হয়। প্রস্তাবটি যৌথভাবে উত্থাপন করে ওআইসি এবং ইউরোপিয় ইউনিয়ন। গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাস্তচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় ও মানবিক সহায়তা প্রদান এবং জাতীয় কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন কর্মসূচিতে তাদেরকে অন্তর্ভূক্ত করার মাধ্যমে বাংলাদেশ যে উদারতা ও মানবিকতা প্রদর্শন করেছে, এই প্রস্তাবে তার ভূয়সী প্রশংসা করা হয়। কক্সবাজারের অত্যন্ত জনাকীর্ণ আশ্রয় ক্যাম্প থেকে রোহিঙ্গাদের একটি অংশকে ভাষানচরে স্থানান্তর এবং এ লক্ষ্যে এখানে অবকাঠামোসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা তৈরি করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকার যে প্রচেষ্টা ও বিনিয়োগ করেছে তারও স্বীকৃতি দেয়া হয় প্রস্তবটিতে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ও জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের মধ্যকার সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরকে স্বাগত জানানো হয়।

রেজুলেশনটিতে প্রাথমিকভাবে দৃষ্টি দেয়া হয়েছে, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং পয়লা ফেব্রুয়ারি ২০২১-এ জরুরি অবস্থা জারির প্রেক্ষাপট এর মতো বিষয়গুলোর প্রতি। রোহিঙ্গা সমস্যার মূল কারণ খুঁজে বের করা, বাংলাদেশের সাথে স্বাক্ষরিত দ্বি-পাক্ষিক চুক্তির বাধ্যবাধকতাগুলো পূরণ করা, এবং মিয়ানমারে নিযুক্ত জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূতসহ জাতিসংঘের সকল মানবাধিকার ব্যবস্থাপনাকে পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করতে এবারের রেজুলেশনে মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। চলমান বিচার ও দায়বদ্ধতা নিরুপন প্রক্রিয়ার উপর রেজুলেশনটিতে সজাগ দৃষ্টি বজায় রাখার কথা বলা হয়েছে।

এতে মিয়ানমারে নবনিযুক্ত জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূতকে স্বাগত জানানো হয়েছে এবং মিয়ানমারকে সম্পৃক্ত করে তার জন্য একটি কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণের কথাও বলা হয়েছে। রাখাইন রাজ্যে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি করার ক্ষেত্রে মিয়ানমার, ইউএনএইচসিআর এবং ইউএনডিপি এর মধ্যে স্বাক্ষরিত ত্রি-পাক্ষিক সমঝোতা স্মারকটি নবায়ন ও এর কার্যকর বাস্তবায়ন করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে রেজুলেশনটিতে।

রাষ্ট্রদূত ফাতিমা বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবিক বিবেচনায় ২০১৭ সালে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশের সীমান্ত খুলে দেন। কিন্তু প্রত্যাবাসনের কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদী সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। রোহিঙ্গাদের হতাশা ক্রমশ: তীব্র হচ্ছে যা এ অঞ্চলে নানা ধরণের নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে। তিনি আরো বলেন, আশা করা যায় রেজুলেশনটি নিজভূমি মিয়ানমারে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ গ্রহণের প্রেরণা হিসেবে কাজ করবে যা দীর্ঘস্থায়ী এই সমস্যার টেকসই সমাধানে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এবারের রেজুলেশনটিতে ১০৭টি দেশসহ-পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করেছে, যে সংখ্যা ২০১৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ।



 

Show all comments
  • মোহাম্মদ দলিলুর রহমান ১৯ নভেম্বর, ২০২১, ৪:১৩ এএম says : 0
    পৃথিবীতে এখন গরিব মানুষের অধিকার নেই,মানবজাতির মানবতা শেষ হয়ে গেছে মানবতা দেখবে এমন মানব জাতি নেই,সবাই ইয়া নফছি ইয়া নফছি ,এই জন যারা অসহায় গরিব যারা মানব জাতি হিসাবে এই পৃথিবীতে একটু থাকা খাওয়ার জায়গা পাচ্ছে না,তারা বেঁচে থেকে কি লাভ ,আমি মনে করি এরা সবাই মিলে বড় বড় লোকদের হত্যা করা দরকার এবং কি লুট তারাজ করে নিয়ে আসা দরকার,পরবর্তীতে যদি অধিকারের ক্ষমতা থাকে অধিকার পাবে,নয় জোর জবরদস্তি করে চলাই ভালো হবে,এই পৃথিবীতে যে মানব অসহায় বর্তমান যুগে তাদের আরো অসহায় করতে বড় বড় মাথা গুলি কাজ করেন,বড় বড় লোকদের কথা হলো এরা গরিব এদের দেখব কি জন্য,পৃথিবীর সব দেশেই বর্তমানে এই অবস্থা,এত এব সবাই মিলে সংগ্রাম আরম্ভ করে অরাজগতা সৃষ্টি করতে হবে,পৃথিবীর মান চিত্র বদলি করতে হবে,কেউ খাবে কেউ খাবে না তাহ হবে না....
    Total Reply(0) Reply
  • মোহাম্মদ দলিলুর রহমান ১৯ নভেম্বর, ২০২১, ১:০১ পিএম says : 0
    পৃথিবীতে এখন গরিব মানুষের অধিকার নেই,মানবজাতির মানবতা শেষ হয়ে গেছে মানবতা দেখবে এমন মানব জাতি নেই,সবাই ইয়া নফছি ইয়া নফছি ,এই জন যারা অসহায় গরিব যারা মানব জাতি হিসাবে এই পৃথিবীতে একটু থাকা খাওয়ার জায়গা পাচ্ছে না,তারা বেঁচে থেকে কি লাভ ...
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: রোহিঙ্গা ইস্যু


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ