Inqilab Logo

বৃহস্পতিবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২২, ১৩ মাঘ ১৪২৮, ২৩ জামাদিউস সানি ১৪৪৩ হিজরী

নিশানবাড়িয়া ও সোনাকাটা ইউনিয়নের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ

দ্রুত সংস্কার দাবি

জাহাঙ্গীর কবীর মৃধা, বরগুনা থেকে : | প্রকাশের সময় : ২৪ নভেম্বর, ২০২১, ১২:০১ এএম

পায়রা, বিষখালী ও বলেশ্বর নদীর মোহনার কোলঘেঁষে গড়ে ওঠা নিশানবাড়িয়া ও সোনাকাটা ইউনিয়নের তিন শতাধিক পরিবার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভাঙন ও নড়বড়ে বেড়িবাঁধের কারণে রয়েছে হুমকির মুখে। দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ মেরামত করা না হলে চরম বিপর্যয়ের মুখোমুখি হবেন এ এলাকায় বসবাসরতরা। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ দ্রæত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
তালতলী উপজেলার বাসিন্দাদের ঝড়-বৃষ্টি ও জলোচ্ছ্বাসের প্রভাবে জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে বৃদ্ধি পেলে এ দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে নদী এমনি করে তার ভয়ার্ত হিংস্র রূপ দেখাচ্ছে। গ্রাম রক্ষার বাঁধ না থাকায় এমন দুর্ভোগে দিন কাটে তিন শতাধিক পরিবারের। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ না থাকায় নদীর তীরবর্তী এসব এলাকার বাসিন্দাদের জোয়ার ভাটার পানির সাথে যুদ্ধ করে বাঁচতে হয়। এই এলাকার মানুষ কৃষি ও মৎস্যজীবী পেশায় নিয়োজিত।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, প্রতিবছর কয়েকবার পানিতে ভাসেন তারা। জোয়ারের পানি একটু বেশি হলেই রাস্তা-ঘাট ও বাড়ি-ঘর তলিয়ে যায়। নদীবেষ্টিত এলাকা হওয়ার কারণে ঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও লবণ পানি প্রবেশ ঠেকাতে গ্রামবাসীর জন্য নেই কোনো বেড়িবাঁধ। দীর্ঘদিনের এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার আবেদন করেও মেলেনি প্রতিকার। স্থানীয় বাসিন্দা সেন্টু বিশ্বাস বলেন, বাঁধ ভেঙে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি এমন মানুষ এ এলাকায় খুঁজে পাওয়া মুশকিল। এখানকার মানুষের এখন প্রধান দুঃখ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার নিশানবাড়ীয়া ইউনিয়নের নলবুনিয়া শুভসন্ধ্যা সৈকতের বিপরীত দিকে নিদ্রার চর। এখানে আশ্রয়ন প্রকল্পের ৫০টি পরিবার বেড়িবাঁধ না থাকার কারণে সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নদীর তীরবর্তী হওয়ায় ঝড় জলোচ্ছ¡াস ও জোয়ারের পানিতে ভাসেন তারা। তাদের মতো এ গ্রামে আরো ২৫০ পরিবার বেড়িবাঁধ না থাকার কারণে এমন দুর্ভোগে থাকেন।
স্থানীয় বাসিন্দা বেল্লাল ফরাজী বলেন, নিদ্রা বাজার থেকে ফকিরহাট বাজার পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণ এখন খুবই প্রয়োজন। অন্তত ৩ শতাধিক পরিবার রক্ষা পাবে। বছরের পর বছর এইভাবে থাকলেও জনপ্রতিনিধিরা কেউ দেখে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। নিদ্রার চর এলাকার জেলে মোস্তাফিজ ও আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দা মো. দুলাল জানান, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ না থাকার কারণে দিন দিন নদীর পাড় ভেঙে যাচ্ছে। এখনই যদি উদ্যোগ না নেয়া হয় তাহলে বিলীন হয়ে যাবে এই নিদ্রার চর। এখানকার মানুষজন নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে। বেড়িবাঁধটা থাকলে অন্তত নিরাপদে বসবাস করতে পারতাম।
ইউপি সদস্য শহীদ আকন জানান, প্রায় ১৪ বছর আগে ঘূর্ণিঝড় সিডরের আগে এখানে বেড়িবাঁধ ছিল। কিন্তু সিডরের ভয়াল থাবায় বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর এখন পর্যন্ত এখানে আর কোন বেড়িবাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়নি কেউ। জিও ব্যাগ ও পাইলিংয়ের ব্যবস্থা করে নিদ্রার সøুইজ গেট থেকে ফকিরহাট পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার বেড়িবাঁধ খুবই প্রয়োজন।
সোনাকাটা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সুলতান ফরাজী বলেন, বিষয়টা নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলেছি। তিনি বলছেন, এখানে একটা প্রজেক্ট হবে। তারাই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করবে কিন্তু কি প্রজেক্ট হবে তা জানি না। তালতলী ইউএনও কাওসার হোসেন মুঠোফোনে বলেন, এ বিষয়ে আমি জানি না তবে, খোঁজ-খবর নিয়ে জানানো হবে।

 

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: সোনাকাটা ইউনিয়ন
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ