Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ০৩ ভাদ্র ১৪২৬, ১৬ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

চট্টগ্রামে স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর বেহাল দশা : চিকিৎসাসেবা বঞ্চিত দরিদ্র জনগোষ্ঠী

প্রকাশের সময় : ২১ অক্টোবর, ২০১৬, ১২:০০ এএম

আইয়ুব আলী : চট্টগ্রাম জেলার ১৪ উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও কমিউনিটি ক্লিনিকে দীর্ঘদিন ধরে ডাক্তার, নার্স, অ্যাম্বুলেন্স, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধ সঙ্কট বিরাজ করছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে এক্স-রে মেশিন থাকলেও টেকনিশিয়ান নেই। টেকনিশিয়ান থাকলেও এক্স-রে মেশিন বিকল। পাশাপাশি হাসপাতালে নিয়োগ পাওয়ার পর চিকিৎসকরা প্রশিক্ষণে চলে যাচ্ছেন। অনেক স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিকে ডাক্তারদের অবস্থান করার কথা থাকলেও বাসাবাড়িতে চলে যান। এভাবে চলছে জেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো। ফলে গ্রামীণ বিপুল দরিদ্র জনগোষ্ঠী চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছে।
সরকার গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রসহ প্রতিটি ইউনিয়নে কমিউনিটি ক্লিনিক চালু করলেও সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। মেডিক্যাল সহকারী, নার্স ও কর্মচারীরা রোগীদের প্রয়োজনীয় সেবা দিতে না পারায় চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো অনিয়ম ও দুর্নীতিতে আকণ্ঠ নিয়োজিত থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ তদারকি না থাকায় গ্রামীণ জনগণ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। গত বুধবার চট্টগ্রাম জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় খোদ জেলার বিভিন্ন উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর মেয়ররা এসব চিত্র তুলে ধরেন।
সমন্বয় সভায় চন্দনাইশ পৌরমেয়র মাহবুবুল আলম খোকা বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জোড়াতালি দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চলছে। দ্বিতল ভবনের সংস্কারকাজে বড় দুর্নীতি হয়েছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে লুটপাট আর দুর্নীতি চলছে। উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা প্রয়োজন। তিনি আরো বলেন, আবাসিক ভবনে একজন চিকিৎসকও থাকেন না। চিকিৎসাসেবা থেকে শুরু করে ওষুধপত্র, সংস্কার, উন্নয়নকাজে কোনো শৃঙ্খলা নেই। বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুল আলম বলেন, হাসপাতালে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য আউট সোর্সিংয়ের মাধ্যমে ৪ জন লোক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ১০ মাস ধরে তারা বেতন পাচ্ছেন না। এছাড়াও হাসপাতালে এক্স-রে মেশিন নষ্ট। কাজ না করেও বেতন নিচ্ছেন টেকনিশিয়ান।
পটিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ টিপু বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে একজন চিকিৎসকও যান না। এতে জনগণ চিকিৎসাসেবা পাচ্ছে না। কুকুরের উপদ্রব বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশন এলাকা থেকে কুকুর ধরে গ্রামাঞ্চলে ছেড়ে  দেয়া হচ্ছে। এতে জনগণ আতঙ্কে রয়েছে। তিনি উপজেলা হাসপাতালগুলোতে কুকুরের ভ্যাকসিন সরবরাহের দাবি করেন।
বাঁশখালী উপজেলা চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ২৮ লাখ টাকার কাজে পুকুর নয়, সাগর চুরি হয়েছে। সরকারি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্ত প্রয়োজন।
ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৮ জন চিকিৎসক ডেপুটেশনে রয়েছে। এতে স্বাস্থ্যসেবা বিঘিœত হচ্ছে। সীতাকু- উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাও একই অভিযোগ করেছেন।
আনোয়ারা উপজেলা চেয়ারম্যান তৌহিদুল আলম জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে বেশি অভিযোগ রয়েছে। এনেসথেসিয়ার অভাবে চার বছর ধরে অপারেশন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। চিকিৎসকরা সময়মতো হাসপাতালে আসেন না। তিনি তদন্ত করে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।
বাঁশখালী মেয়র সেলিমুল হক চৌধুরী, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আলী শাহ ও বিভিন্ন উপজেলার চেয়ারম্যান, মেয়র ও ইউএনওরা একই অভিযোগ করেন।
চট্টগ্রামের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা: অজয় দে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর অভিযোগের বিষয়ে বলেন, কোনো স্থানে চিকিৎসকরা না গেলে উপস্থিতি নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে। ডেপুটেশনের বিষয়ে উদ্যোগ  নেয়া হবে। তিনি বলেন, ১৪ উপজেলায় মাত্র ৪ জন এনেসথেসিয়া রয়েছে। নার্সদের বিষয়টি আমরা মন্ত্রণালয়ে লিখেছি। নিয়োগ দেয়ার পর নার্স সঙ্কট কিছুটা লাঘব হবে।
জেলা প্রশাসক মো: সামসুল আরেফিন বলেন, স্বাস্থ্যসেবা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তিনি সমস্যাগুলো সমাধানের বিষয়ে সিভিল সার্জনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।




 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ