Inqilab Logo

বৃহস্পতিবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২১, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৬ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী

স্বপ্নের সিঁড়িতে জয়-রাজা

| প্রকাশের সময় : ২৫ নভেম্বর, ২০২১, ১২:০১ এএম

নতুন বধু বাড়িতে এলে যেমন তাকে ঘিরে বাড়তি উচ্ছ¡াস থাকে, প্রথম বারেরমতো জাতীয় দলের অনুশীলনে আসা ক্রিকেটারের দিকেও নজরটা থাকে একটু বেশি-ই। মাহমুদুল হাসান জয় আর রেজাউর রহমান রাজার বেলায়ও তার ব্যাতিক্রম হয়নি। পাকিস্তানের বিপক্ষে আগামীকাল থেকে শুরু হতে যাওয়া দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথমটিকে ঘিরে গতকালই প্রথম অনুশীলনে নেমেছে বাংলাদেশ দল। ম্যাচ ভেন্যু চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌঁধুরি স্টেডিয়ামে তাই ছিল উৎসুক চোখের ভিড়। সেই ভিড়েই ধরা পড়েছে স্বপ্নের সিঁড়িতে থাকা জয়-রাজার প্রতি বাড়তি নজর।

বিশ্বজয়ের আলোয় উজ্জ্বীবিত জয়
ওপেনার সাদমান ইসলামের সঙ্গে শুরুতেই পাশাপাশি নেটে ব্যাটিং পেলেন মাহমুদুল হাসান নয়। স্পিন বল মোকাবেলা করে গেলেন আরেক নেটে থ্রো ডাউনে ব্যাট করতে। মাঝে প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো আর টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজনের সঙ্গে কুশল বিনিময় করলেন। দিনের শেষভাগে ব্যাটিং কোচ অ্যাশওয়েল প্রিন্সের সঙ্গে আলাদাভাবে কাজ করতে দেখা গেল তাকে। কুড়ালেন প্রশংসাও।
এমনিতে আঁটসাঁট টেকনিকের ব্যাটসম্যান জয়। আছে লম্বা ইনিংস খেলার টেম্পারমেন্ট। ইনিংস তৈরি করতে পারার সহজাত ক্ষমতাও আছে। তবে টেস্ট দলে একটু তাড়াতাড়ি ডাক পেয়ে গেলেন কিনা এই নিয়ে অনেকের প্রশ্ন ছিল।
কিন্তু দলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অন্তত প্রথম দিনে তাকে মনে হলো বেশ সপ্রতিভ। স্পিন বলে পায়ের কাজ ছিল জুতসই, পেসাদের বিপক্ষে ক্রিজের ব্যাবহার করতে দেখা গেছে তাকে। নেটের শেষ দিকে এই তরুণকে আলাদা ডেকে কাজ করলেন প্রিন্স।
কোন বল ছাড়তে হবে, কোন বলে করতে হবে প্রান্ত বদল। কোচের তালিম বুঝে নিঁখুতভাবে তা অনুসরণ করে যাচ্ছিলেন জয়। এই তরুণের আত্মবিশ্বাস মন কাড়ল প্রিন্সেরও। বেশ কয়েকবার বললেন- ‘ওয়েলডান’, ‘পারফেক্ট’। দলের নিয়মিত ওপেনার সাইফ হাসানের আগে নেটে ব্যাটিং পেয়েছেন, যথেষ্ট আগ্রহ তৈরি করেছেন কোচদের। এমনিতে ওপেনার নন। খেলেন মিডল অর্ডারে। টেস্ট দলে ওপেনারদের ব্যাকআপ না থাকায় তাকে সেই জায়গায় বিবেচনা করার একটা আভাস মিলছে।
চাঁদপুরের ছেলে জয় পাদপ্রদ্বীপের আলোয় আসেন যুব বিশ্বকাপে। আসরের সেমিফাইনালে করেন ম্যাচ জেতানো দারুণ সেঞ্চুরি। এরপরে ঘরোয়া ক্রিকেটের বিভিন্ন ধাপেও রাখেন উন্নতির ছাপ। এবারের জাতীয় লিগে খেলেছেন ৪ ম্যাচ। তাতে দুই সেঞ্চুরি ও একটি ৮৩ রানের ইনিংস তার। শেষ রাউন্ডে ৮৩ রানের ইনিংস খেলার পরই ডাক পড়ে জাতীয় দলে। একদিন আগেই জাতীয় লিগ ছেড়ে যোগ দেন জাতীয় দলের স্কোয়াডে। অনুশীলনে নামার আগে নিজের উচ্ছ¡াস প্রকাশ করেন একুশ পেরুনো এই ডানহাতি ব্যাটার, ‘আসলে এই অনুভ‚তিটা প্রকাশ করার মতো না। সবারই স্বপ্ন থাকে টেস্ট স্কোয়াডে সুযোগ পাওয়ার। আমি প্রথমবারের মতো টেস্ট দলে সুযোগ পেয়েছি। আমি অনেক খুশি। হ্যাঁ! জাতীয় লিগে বেশ কয়েকটি ইনিংস ভালো খেলেছি। আমার আত্মবিশ্বাস এখন ভালো আছে। তার আগে এইচপি ও এ টিমের প্রস্তুতি ম্যাচেও আমি ভালো একটা ইনিংস খেলেছি। তাই আমি প্রস্তুত আছি, সামনের ম্যাচগুলোতে ভালো খেলার জন্য।’

গতিই সব ‘খ্যাপ’ খেলা রাজার
রেজাউর রহমান রাজার টেস্ট দলে সুযোগ পাওয়া অনেকটা আচমকাই বলা যায়। তাসকিন আহমেদ চোটে না পড়লে হয়ত দলের অনুশীলনে সহায়তাকারী হিসেবেই থাকতেন তিনি। তবে তাসকিনের চোটেও তার দলে আসায় কিছুটা বিস্ময় থাকছে। তিনি যে বিবেচনায় এসেছেন সৈয়দ খালেদ আহমেদকে টপকে। নিশ্চিতভাবে তার মধ্যে বিশেষ কিছু দেখেই তাকে বেছে নেওয়া। ২২ বছরের তরুণ ডানহাতি পেসার জানালেন, তার ক্ষমতা অন্যদের থেকে একটু ভিন্ন।
বেশ সহজ সাবলীল অ্যাকশন। খালি চোখে দেখে মনে হয় বলে খুব বেশি গতি নেই। কিন্তু লেন্থ থেকে হুট করে লাফায়, কিছু বল স্কিড করে। গতকাল দুপুরে চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে অনুশীলনের শুরুতেই বল হাতে পান সিলেটের ছেলে রাজা।
প্রথমদিন খুব আহামরি কিছু করেননি, তবে তার সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠে আসার পথ বেশ চমক জাগানিয়া। সিলেটের ওসমানীনগরে বছর তিন-চার আগেও তিনি টেপ টেনিসে ‘খ্যাপ’ ক্রিকেট খেলতেন। স্থানীয় পর্যায়ে ক্রিকেট বলে একটি টুর্নামেন্ট খেলতে গিয়েই বদলে যায় তার গতিপথ। সেখান থেকে এবার জাতীয় ক্রিকেট লিগে তিন ম্যাচ খেলে ১২ উইকেট নিয়েছেন রাজা। খুলনার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই নিয়েছিলেন ৮ উইকেট। ২০১৯ সালে প্রথম শ্রেণীতে অভিষেক হওয়ার পর খেলেছেন ১০ ম্যাচ। তাতে ২৪.২৭ গড়ে ৩৩ উইকেট তার। জানালেন নিজের সামর্থ্যরে জায়গা হচ্ছে ক্রমাগত বল করে যাওয়া। এবং টানা বল করলেও শক্তিটা ধরে রাখা, ‘ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রথম শ্রেণিতে ভালো করেছি। চারদিনের খেলায় কয়েকটা স্পেলে বোলিং করতে পারি। আমার স্ট্রেন্থটা ধরে রাখতে পারি, এটাই আমার শক্তি।’
দিনের খেলা যত বাড়তে থাকে, বেশিরভাগ পেসারই গতি হারান। রাজা জানালেন, তার শক্তির ভিন্নতা হচ্ছে এখানেই। গতি কমার চেয়ে নাকি দিনের শেষে গতি আরও বেড়ে যায়, ‘আমার নিজের যেটা মনে হয় যে, এক জায়গায় টানা বল করতে পারি। বলে কিছু মুভমেন্ট করাতে পারি। এক ছন্দে টানা বল করতে পারি। দিনের শুরুতে যেই পেসে বোলিং করি, দিনের শেষে আলহামদুলিল্লাহ তার চেয়ে একটু বেশি পেসে বল করতে পারি।’
লাল বলের ক্রিকেটে বাংলাদেশের পেস আক্রমণ মানেই সিলেটের যোগস‚ত্র। টেস্ট দলে তাসকিন বাদ দিলে বাকি সবাই সিলেটের। আবু জায়েদ রাহি, ইবাদত হোসেন, খালেদ আহমেদদের কাছ থেকে প্রেরণা নেওয়ার কথা জানালেন রাজা, ‘চ্যালেঞ্জ নেওয়া পছন্দ করি। আমাদের বড় ভাইদের কাছ থেকে অনুপ্রাণিত হওয়ার চেষ্টা করছি। আমাদের সিলেটে যেমন রাহি ভাই, এবাদত ভাই, খালেদ ভাইদের কাছ থেকে মোটিভেশন পাচ্ছি। এসব থেকেই পেস বোলার হওয়ার একটা উৎসাহ জেগেছে।’



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ক্রিকেট


আরও
আরও পড়ুন