Inqilab Logo

বুধবার, ২৯ জুন ২০২২, ১৫ আষাঢ় ১৪২৯, ২৮ যিলক্বদ ১৪৪৩ হিজরী

সখিপুর সরকারি মুজিব কলেজে অনার্সে ছাত্রী ভর্তি নিষেধ!

সখিপুর (টাঙ্গাইল) উপজেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ২৫ নভেম্বর, ২০২১, ৮:০৮ পিএম

বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে যখন নারী-পুরুষ সমান গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে, বাংলাদেশেও নারী প্রধানমন্ত্রী দেশ শাসন করছেন, নারী-পুরুষের সম-অধিকার প্রতিষ্ঠায় সোচ্চার ভূমিকায় রয়েছে সরকার, ঠিক একই সময়ে খোদ উচ্চশিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে নারী বৈষম্য তৈরি হয়ে আছে সরকারি একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। টাঙ্গাইলের সখিপুর উপজেলার সরকারি মুজিব কলেজে স্নাতকে (অনার্স) ভর্তি হতে পারছেন না নারী শিক্ষার্থীরা। জানা যায়, গত ৯ বছর ধরে ওই কলেজে দুটি বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) খোলা রয়েছে। কিন্তু জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বেঁধে দেওয়া একটি শর্তের কারণে স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে মেয়ে শিক্ষার্থীরা ভর্তি হতে পারছেন না। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের ধারণা, সরকারি মুজিব কলেজই সম্ভবত এমন শর্তযুক্ত দেশের একমাত্র উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যেখানে মেয়ে শিক্ষার্থীরা ভর্তি হতে পারছেন না।

ওই কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৯৭২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি মুজিব মহাবিদ্যালয় নামে কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়।এর প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বীরোত্তম। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে এটিই প্রথম কলেজ। । পরে ২০১৫ সালের ৮ অক্টোবর কলেজটি সরকারিকরণ(জাতীয়করন) করা হয়। এর আগে ২০১২ সালের ৫ জুলাই সমাজকর্ম ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে ছাত্র ভর্তির অনুমতি পায়। কিন্তু জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন কলেজ পরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত) ড. মো. আনোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত ওই স্নাতক (সম্মান) শিক্ষা কার্যক্রমের অধিভুক্তিপত্রে শুধু ছেলে শিক্ষার্থী ভর্তি করার শর্ত দেওয়া হয়। ওই শর্তের কারণেই স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে ভর্তি হতে পারছেন না নারী শিক্ষার্থীরা। অথচ একই কলেজের একাদশ, দ্বাদশ, ডিগ্রি (পাস) কোর্সে ছেলে-মেয়ে (কো-এডুকেশন) উভয়ই পড়াশোনা করছে, ব্যতিক্রম শুধু স্নাতক (সম্মান) ভর্তির ক্ষেত্রে।

স্থানীয় অভিভাবক নুরুল ইসলাম সাগরের মেয়ে সরকারি মুজিব কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেছেন। তার একান্ত ইচ্ছা ছিল মেয়েকে ওই কলেজেই অনার্সে পড়াশোনা করাবেন। কিন্তু বেঁধে দেওয়া শর্তের কারণে তিনি তাঁর মেয়েকে ওই কলেজে ভর্তি করাতে পারেননি। অভিভাবক নুরুল ইসলাম সাগর ক্ষোভ প্রকাশ করে আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘এইটা কোনো নিয়ম হলো নাকি, যে কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করল, সেই কলেজে উচ্চ শিক্ষা স্নাতক (সম্মান) চালু থাকলেও মেয়েরা ভর্তি হতে পারছে না! এই আধুনিক যুগে এসেও এমন বৈষম্য কেন করা হয়েছে বুঝে আসে না।’ তিনি আরও বলেন, `আমি একজন ছাত্রীর অভিভাবক হিসেবে এই আজব শর্তের নিন্দা জানাই, দ্রুত ওই শর্ত বাতিলের দাবি জানাই।'

কলেজের অধ্যক্ষ ড. ছদরুদ্দীন আহমদ বলেন, `আমি যোগদান করার পর শর্তটি জেনে অবাক হয়েছি। যেহেতু এই কলেজে অন্যান্য শ্রেণিতে ছেলে-মেয়ে উভয়েই পড়াশোনা করছে, শুধু স্নাতকে (সম্মান) মেয়েরা ভর্তি হতে পারে না। এটি নারী শিক্ষার বিকাশে প্রতিবন্ধকতা বলে মনে করছি। এরই মধ্যে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ করেও কোনো কাজ হয়নি। ছাত্রী ভর্তির অনুমতি দিই-দিচ্ছি বলে আর হচ্ছে না।' এ বিষয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।

অধ্যক্ষ আরও বলেন, ‘কলেজে আরও ১১টি বিষয়ে অর্নাস খোলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বর্তমানে এই কলেজ স্নাতক (সম্মান) পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবেও স্বীকৃতি পেয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নামে প্রতিষ্ঠিত কলেজটিতে সখিপুরসহ আশপাশের উপজেলাগুলোর ছাত্রছাত্রীরাও উচ্চশিক্ষা লাভের সরকারি সুযোগ পাবে বলে আমি আশা করি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত) ফাহিমা সুলতানা মোবাইল ফোনে বলেন, ‘অধিভুক্তির সময় ঠিক কী কারণে এমন শর্ত দেওয়া হয়েছিল আমার জানা নেই। আমি অধিভুক্তির ওই কাগজ খুঁজে দেখব। যথাযথ প্রক্রিয়ায় অভিভাবক অথবা কলেজ কর্তৃপক্ষ ছাত্রী ভর্তির আবেদন করলে অধিভুক্তি কমিটির অনুমতি সাপেক্ষে ওই শর্ত বাতিল করা সম্ভব। তবে বিষয়টি অবশ্যই অধিভুক্তি কমিটির আলোচনা ও অনুমতি সাপেক্ষে হবে।’



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: টাঙ্গাইল


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ