Inqilab Logo

শুক্রবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৭ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী
শিরোনাম

সংরক্ষিত ১০ শতাংশ কোটা হাইকোর্ট বাতিল করলেন

মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৬ নভেম্বর, ২০২১, ১২:০২ এএম

মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশের কোটা বাতিল ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের এবং বিচারপতি মু. মাহবুব উল ইসলামের ডিভিশন বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। অ্যাডভোকেট তৌফিক ইনাম টিপু সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, রায়ে হাইকোর্ট গেজেট অন্তর্ভুক্ত হয়নি এমন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের গেজেটভুক্তির ক্ষেত্রে বিদ্যমান গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যার ১০ শতাংশের বেশী তালিকাভুক্ত না করা সংক্রান্ত জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) বিধান/পরিপত্রটি বাতিল ঘোষণা করেছেন।
২০১৯ সালের ১৮ এপ্রিল জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) ওই পরিপত্রটি জারি করে। পরিপত্রে বলা হয়, প্রত্যেক উপজেলায় গেজেট অন্তর্ভুক্ত হয়নি- এমন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের গেজেটভুক্তির জন্য বিদ্যমান রাষ্ট্রীয় ভাতা-ভোগী সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যার ১০ শতাংশের বেশি তালিকাভুক্ত করা যাবে না। অথচ ২০১৭ সালে উপজেলা যাচাই-বাছাই কমিটির মাধ্যমে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের একটি ‘ক’ তালিকা প্রস্তুত করা হয়। ওই তালিকাতে রিট পিটিশনারগণ তালিকাভুক্ত হন।
কিন্তু আলোচ্য সিদ্ধান্তটির ফলে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা অনেকেই বাদ পড়ে যান। এ কারণেই ‘১০ শতাংশ’ সংক্রান্ত ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সাভার সদর, সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলাসহ বেশ কয়েকটি উপজেলার ‘ক’ তালিকাভুক্ত প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা হাইকোর্টে গত বছর রিট করেন। হাইকোর্ট ওই বছরই জামুকার পরিপত্রটি অর্থাৎ বিধানটি কেন বাতিল করা হবে না মর্মে জানতে চেয়ে জামুকা ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি রুল জারি করেন।
অ্যাডভোকেট তৌফিক ইনাম বলেন, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা শুধু বেআইনিই নয় অসাংবিধানিকও। কারণ প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ১০ শতাংশের কম বা বেশিও হতে পারে। একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাকেও তালিকার বাইরে রাখা যেমন বেআইনি, একইভাবে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা নয় এমন একজনকেও তালিকাভুক্ত করা বেআইনি।
তিনি বলেন, এ ধরণের পরিপত্র জারি করার মাধ্যমে জামুকা যাচাই-বাছাই কমিটিকে একটি ফ্রি লাইসেন্স দিয়েছে। তারা তাদের সুবিধা ও সন্তুষ্টি অনুসারে শুধুমাত্র ১০ শতাংশ প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাকে গেজেটভুক্ত করার জন্য সুপারিশ করতে পারবে। কিন্তু এই সংখ্যা এলাকাভেদে অনেক বেশি। আবার কোথাও কমও হতে পারে। তাই এ ধরণের সংখ্যা নির্ধারণ জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন ও সংবিধান সমর্থন করে না।
রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে হাইকোর্ট ১০ শতাংশ সংক্রান্ত ওই পরিপত্রটি বেআইনি ও অসাংবিধানিক মর্মে ঘোষণা করেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: হাইকোর্ট


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ