Inqilab Logo

বুধবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২২, ০৫ মাঘ ১৪২৮, ১৫ জামাদিউস সানি ১৪৪৩ হিজরী

চবির আবাসিক হলে আসন বরাদ্দ নেই চার বছর

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

মো. জারিফ খন্দকার, চবি সংবাদদাতা : | প্রকাশের সময় : ২৭ নভেম্বর, ২০২১, ১২:০৪ এএম

চার বছর ধরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আবাসিক হলগুলোর আসন বরাদ্দ দিচ্ছেনা কর্তৃপক্ষ। প্রশাসনের উদাসীনতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাজীবন শেষ হয়ে গেলেও আবাসিক হলে আসন বরাদ্দ পায়নি অনেক শিক্ষার্থী। সর্বশেষ ২০১৭ সালে আবাসিক হলগুলোতে আসন বরাদ্দ দেয় কর্তৃপক্ষ। এরপর ২০১৯ সালের মার্চে আসন বরাদ্দের জন্য বিজ্ঞপ্তি দিলে প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী ফরম জমা দেয়।
কিন্তু তৎকালীন ভিসি প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দীন চৌধুরি ও বর্তমান ভিসি প্রফেসর ড. শিরীণ আখতারের পালা বদলে হলগুলোতে আসন বরাদ্দ পায়নি শিক্ষার্থীরা। ফলে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশের কটেজ ও চট্টগ্রাম শহরে থাকতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। এতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তবে ভিসি প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার বলেন, করোনার জন্য হলে আসন বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। সামনে দেওয়া হবে। রেজিস্ট্রার এস এম মনিরুল হাসান বলেন, মাত্রতো ভর্তি পরীক্ষা শেষ হলো। হলে আসন বরাদ্দ দেওয়া সময়ের ব্যাপার।
এদিকে এই চার বছরে ছাত্রলীগের বিভিন্ন বগিভিত্তিক গ্রæপ ও উপ গ্রæপ হলগুলো দখল করে নিয়েছে। একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে হলগুলো এখন নিয়ন্ত্রণ করছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। আলাওল, এ এফ রহমান কিংবা সোহরাওয়ার্দী হলে সিট প্রয়োজন হলে বিজয় গ্রæপের কর্মী হতে হয়। শাহ আমানত কিংবা শহীদ আব্দুর রব হলের কোনো সীটে থাকতে হলে হতে হবে সিএফসি গ্রæপের কর্মী। আবার সিক্সটি নাইনের কর্মী না হলে শাহজালাল হলে থাকার অনুমতি পাওয়া যায় না।
যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের নুর নবী রবিন বলেন, চতুর্থ বর্ষে উত্তীর্ণ হলেও এখনো হলে সিট পাইনি। ফলে অতিরিক্ত খরচসহ বিভিন্ন বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। ক্যাম্পাসের হলগুলো পুরোপুরি ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণে আছে। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় হলগুলোতে নেতাদের বছরের পর বছর অবস্থান এই আবাসন সঙ্কটকে আরো প্রকট করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত মানবিক বিবেচনায় হলগুলোতে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সিট বরাদ্দ দেওয়া।
প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী আলতাফ হোসাইন বলেন, দুই বছর আগে হলে সিটের জন্য আবেদন করেছিলাম। এখন অনার্স ফাইনাল পরীক্ষা দিচ্ছি। এখনো হলে সিট বরাদ্দ পাইনি। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে কি আমি হলে সিট বরাদ্দ পাবো না?
২০১৫ সালের ৮ অক্টোবর ছাত্রদের জন্য ১৮৬ আসনবিশিষ্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল এবং ছাত্রীদের জন্য ৭৫০ আসনবিশিষ্ট জননেত্রী শেখ হাসিনা হলের উদ্বোধন করা হয়। একই সাথে উদ্বোধন হওয়া শেখ হাসিনা হলে ছাত্রীদের আন্দোলনের মুখে আসন বরাদ্দ দেওয়া হলেও বঙ্গবন্ধু হলে ছাত্রদের আসন বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। নির্মাণকাজ শেষ হলে আসন বরাদ্দ না দিয়ে দেড় বছর পর ২০১৭ সালের মে থেকে হলটির উর্ধ্বমুখী স¤প্রসারণের কাজ শুরু হয়।
প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠন ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি গৌড়চাঁদ ঠাকুর বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আসন বরাদ্দ বন্ধ থাকলেও হলগুলোতে কোনো আসন খালি পড়ে নেই। বেশিরভাগ আসনে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা থাকছে এবং হলগুলোতে সংগঠনটির একচ্ছত্র আধিপত্য। এমন কি লকডাউনেও আবাসিক হলে থেকেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। বিষয়টি যে প্রশাসনের অজানা তা কিন্তু নয়। তবু তারা কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি যা প্রশাসনের নতজানু নীতির পরিচায়ক।

 

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ