Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৪ আশ্বিন ১৪২৫, ৮ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

সন্ত্রাস মোকাবেলায় অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছে পাকিস্তান : লন্ডন

প্রকাশের সময় : ২২ অক্টোবর, ২০১৬, ১২:০০ এএম

চীন রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলোর সাথে এবার সুর মিলালো ব্রিটেনও, অস্বস্তি আরো বাড়লো মোদির
ইনকিলাব ডেস্ক : ভারতের গোয়ায় সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে পাকিস্তানকে সন্ত্রাসের জন্মদাতা আখ্যা দিয়ে দেশটিকে কোণঠাসা করতে চেয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে আগ বাড়িয়ে খেলার সেই রণকৌশল নিয়ে শেষমেষ কোনো লাভ হয়নি। চীন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের পর ব্রিটেনও জানিয়ে দিল মোদির সুরে সুর মেলাতে রাজি নয় তারা। এমনকি মিয়ানমারও এব্যাপারে মোদির সাথে একমত হতে রাজি হয়নি। চীনসহ অন্য দেশগুলোর মতো ব্রিটেনও মনে করে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য ত্যাগস্বীকার করেছে পাকিস্তান। আন্তর্জাতিক দুনিয়া থেকে আসা এ ধরনের নারাজি মন্তব্য নয়াদিল্লির জন্য অস্বস্তিকর পরিস্থিত তৈরি করেছে বলে বিপাকে পড়েছে মোদির সরকার।
এই পরিস্থিতিতে মুসলিম দেশগুলোর সামনে ভারতকে পাল্টা আক্রমণ করতে নেমে পড়েছে ইসলামাবাদ। অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশন (ওআইসি)-এর অন্তর্ভুক্ত ৫৭টি দেশের মঞ্চে কাশ্মীর ও সিন্ধু চুক্তিতে ভারতের ভূমিকা নিয়ে ঝড় তুলতে চাইছে পাকিস্তান। উজবেকিস্তানে ওআইসি’র বৈঠক চলছে। সেখানে নওয়াজ শরিফের প্রতিনিধি তারিক ফতেমির অভিযোগ করে বলেছেন, ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে সিন্ধুনদের পানিকে ব্যবহার করতে চাইছে এবং এভাবে ভারত আন্তর্জাতিক চুক্তিকে নস্যাৎ করেছে বলে অভিযোগ তুলেছে পাকিস্তান।
মুসলিম দেশগুলির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এই সম্মেলনে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে কাশ্মীর প্রসঙ্গ করে কাশ্মীরে ভারত মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে এবং সাধারণ মানুষ এর শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ উত্থাপন করা হয়। বিশ্বের মুসলিম জনসংখ্যার প্রায় ১১ শতাংশ লোক ভারতে বসবাস করেন। তবু এই মঞ্চে ভারতকে রাখা হয়নি এই কারণে যে, ওআইসি’র নিয়ম অনুযায়ী কোনো দেশ যদি ওআইসি’র সদস্য দেশের সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়ে থাকে তাহলে ওই জোটের সদস্য সে হতে পারবে না।
পাকিস্তানকে কথিত সন্ত্রাসের জন্মদাতা হিসেবে তুলে ধরতে মোদী আহ্বানে সাড়া দেয়নি বেইজিং। বরং তাদের বক্তব্য ছিল, পাকিস্তান নিজেই জঙ্গি হামলার শিকার। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তারা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে এবং এজন্য অনেক মূল্যও দিতে হচ্ছে পাকিস্তানকে। এ অবস্থায় চীন মনে করে আন্তর্জাতিক মহলের উচিত পাকিস্তানের এই ত্যাগকে সম্মান করা। নয়াদিল্লি এনিয়ে ক্ষুব্ধ হলেও এবার সন্ত্রাসে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে ব্রিটেনের প্রতিক্রিয়াতেও বেইজিংয়ের সুরই ফিরে এলো।
সন্ত্রাস মোকাবেলায় পাকিস্তানের কথা বলতে গিয়ে ব্রিটেনের বলেছে, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়তে ব্রিটেন ও পাকিস্তানের একই রকম স্বার্থ রয়েছে। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে একজোট হয়ে লড়াই করতে আমরা দায়বদ্ধ। এখানেই শেষ নয়। ব্রিটেন বলেছে, সন্ত্রাসের মোকাবিলা করতে পাকিস্তান ও সে দেশের মানুষ যে ত্যাগস্বীকার করছে আমরা তা স্বীকার করি। এমনকি, পাকিস্তানের মাটিতে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর মোকাবিলায় সে দেশের সরকার কাজ করছে এমন কথাও তুলে ধরেছে ব্রিটেন। সে দেশের প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে আগামী ৬ নভেম্বর থেকে তিন দিনের ভারত সফরে আসছেন। এর আগে ব্রিটেনের এই অবস্থান নয়াদিল্লিকে দারুণ অস্বস্তির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। সূত্র : আনন্দবাজার, ওয়েবসাইট।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ