Inqilab Logo

শনিবার, ০২ জুলাই ২০২২, ১৮ আষাঢ় ১৪২৯, ০২ যিলহজ ১৪৪৩ হিজরী

তুরষ্কের উদ্যোক্তারা বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৯ নভেম্বর, ২০২১, ৭:৫৫ পিএম

তুরষ্কের বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ একটি উৎকৃষ্ট গন্তব্য স্থল, পাশাপাশি বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য বিষয়ক নীতি ও আইনী কাঠামো এবং সার্বিকভাবে বাণিজ্যিক পরিবেশ বৈদেশিক বিনিয়োগের জন্য সহায়ক বলে মন্তব্য করেছেন, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)’তে আগত তুরষ্কের বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের সদস্যবৃন্দ। তুরষ্ক-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল’র চেয়ারপার্সন হুলিয়া জেডিক-এর নেতৃত্বে ১৪ সদস্য বিশিষ্ট একটি বাণিজ্য প্রতিনিধিদল অদ্য ২৯ নভেম্বর, ২০২১ তারিখে ঢাকা চেম্বারের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যবৃন্দের সাথে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আলোচনা সভায় যোগাদন করেন, যেখানে বাংলাদেশে নিযুক্ত তুরষ্কের রাষ্ট্রদূত মান্যবর মোস্তফা ওসমান তুরান উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানিয়ে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি রিজওয়ান রাহমান জানান, ২০১৯-২০ অর্থবছরের দুদেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৬৮৬.৪১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যেখানে আমদানি ও রপ্তানি ছিল যথাক্রমে ২৩৩.৪১ এবং ৪৫৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, তবে ২০২০-২১ অর্থবছরে তুরষ্কে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ ৪৯৯.৭৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যাতে প্রতিফলিত হয় যে, তুরষ্কে বাংলাদেশের রপ্তানি ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশের অবকাঠামো, নির্মাণ, রেলওয়ে, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, অটোমোবাইল, স্বাস্থ্যসেবা, মেডিক্যাল যন্ত্রপাতি, জাহাজ-নির্মাণ, কৃষি এবং হোম এমপ্লায়েন্স প্রভৃতি খাত বৈদেশিক বিনিয়োগের জন্য অন্তত সম্ভাবনাময় বলে উল্লেখ করেন, ডিসিসিআই সভাপতি তুরষ্কের উদ্যেক্তাদের বাংলাদেশে আরো বেশি হারে বৈদেশিক বিনিয়োগে এগিয়ে আসার আহŸান জানান। তিনি বলেন, তুরষ্কের মোট আমদানির মাত্র ০.২১% বাংলাদেশ হতে নিয়ে থাকে এবং দুদেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণে আরো বেশি হারে বাংলাদেশ হতে পণ্য আমদানির প্রস্তাব করেন। এছাড়াও দুদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আরো বৃদ্ধিকল্পে বাংলাদেশ-তুরষ্ক বিজনেস কাউন্সিলের কার্যক্রম আরো গতিশীল করার উপর জোরারোপ করেন ডিসিসিআই সভাপতি।

তুরষ্ক-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল-এর চেয়ারপার্সন হুলিয়া জেডিক বলেন, প্রয়োজনীয় যোগাযোগের অভাবে তুরষ্কের উদ্যোক্তাদের নিকট বাংলাদেশের পরিচিত বেশ কম, এমতাবস্থায় দুদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগের টেকসই উন্নয়নের উপর তিনি জোরারোপ করেন। তিনি জানান, তুরষ্কের উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে উদ্ভুদ্ধকরণের লক্ষ্যে সম্প্রতি তুরষ্কে একটি ‘বাংলাদেশ রিসার্চ সেন্টার’ স্থাপন করা হয়েছে, যার মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আরো সম্প্রসারিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বাংলাদেশে নিযুক্ত তুরষ্কের রাষ্ট্রদূত মোস্তফা ওসমান তুরান বলেন, বাংলাদেশ ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে এবং পৃথিবীর ১০টি বৃহত্তম অর্থনীতির দেশে উত্তরণের লক্ষ্যে তুরষ্ক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, এমতাবস্থায় দুদেশের অভিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিশেষকরে বেসরকারীখাতের পার্টনারশীপ আরো সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের তথ্য-প্রযুক্তি, ফার্মাসিউটিক্যাল এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাত বেশ সম্ভাবনাময় বলে উল্লেখ করে তুরষ্কের উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগে এগিয়ে আসার আহŸান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, তুরষ্কের উৎপাদিত যন্ত্রপাতি বিশ্বমানের হলেও তুলনামূলক ভাবে সাশ্রয়ী মূল্যের হওয়ায় বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের বেশি হারে তুরষ্কের যন্ত্রপাতি আমদানি করতে পারে বলে মত প্রকাশ করেন। রাষ্ট্রদূত মোস্তফা ওসমান তুরান বলেন, তুরষ্কের বেশ কিছু কোম্পানী ইতোমধ্যে বাংলাদেশে তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালাচেছ এবং আশা প্রকাশ করেন, আগামীতে এধরনের কার্যক্রম আরো সম্প্রসারিত হবে।

তুরষ্কের দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সিলর কেনান কালাইসি বলেন, ২০২১ সালের প্রথম নয় মাসে দুদেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য গত বছরের তুলনায় ২০% বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আশা প্রকাশ করেন শ্রীঘই বাংলাদেশ-তুরষ্কের বাণিজ্য ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন