Inqilab Logo

রোববার, ২২ মে ২০২২, ০৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২০ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরী

অভিযুক্ত নিজেই ৫ মামলার আসামি

যুবককে আটকে রেখে নির্যাতন

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) উপজেলা সংবাদদাতা : | প্রকাশের সময় : ৩০ নভেম্বর, ২০২১, ১২:০৪ এএম

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে অটোরিকশা চুরির অপবাদ দিয়ে রাসেল শেখ নামের এক যুবককে ৬ দিন ধরে ঘরে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে।

তবে অভিযুক্ত দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের সদস্য ওসমান কাজী নিজেই অস্ত্র, মাদকসহ ৫ মামলার আসামি বলে পুলিশ জানিয়েছে। ভুক্তভোগী রাসেল শেখ গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের সৈদাল পাড়ার নজরুল শেখের ছেলে। এ ঘটনায় গত শনিবার রাসেলের পরিবারের পক্ষ হতে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় ইউপি সদস্য ওসমান কাজী, তার পরিবারের সদস্য ও সহযোগীসহ মোট ১০ জন ও অজ্ঞাত নামা আরো ৬ থেকে ৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ মকবুল কাজী নামের একজন এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেফতার করেছে। সে ইউপি সদস্য ওসমান কাজীর ছোট ভাই। এ ঘটনার পর ওসমান কাজী ও তার অন্যান্য সহযোগিরা পলাতক রয়েছেন। এ বিষয়ে গত সোমবার দৈনিক ইনকিলাবে গোয়ালন্দে যুবককে আটকে রেখে নির্যাতন শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এদিকে গোয়ালন্দ ঘাট থানা সূত্রে জানা যায়, ওসমান কাজীর বিরুদ্ধে বর্তমান মামলাটি ছাড়াও পূর্বের আরো ৪টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি অস্ত্র, দুইটি মাদক ও একটি মারামারির মামলা। তবে চারটি মামলাতেই তিনি জামিনে রয়েছেন। ভুক্তভোগী রাসেল শেখ জানায়, ওসমান মেম্বার ও তার লোকজন আমাকে বেদম মারপিট করে এবং আমাকে কেটে টুকরো টুকরো করে লাশ বস্তায় ভরে পদ্মা নদীতে ফেলে দেয়ার হুমকি দেয়। সে প্রকৃত অটো চোরদের আড়াল করতে আমাকে বলির পাঠা বানানোর চেষ্টা করে। আমি ঢাকায় থাকি। এলাকার এ সকল বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। আমি এর বিচার চাই। দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান মন্ডল জানান, রাসেলকে ঘরে আটকে রাখার বিষয়টি তার জানা ছিল না।
অভিযুক্ত ইউপি সদস্য ওসমান কাজী মুঠোফোনে দৈনিক ইনকিলাবকে জানান, রাসেলকে নিয়ে গত ২০ নভেম্বরের শালিসে উপস্থিত গোয়ালন্দ পৌরসভার মেয়র নজরুল ইসলাম মন্ডল, চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান মন্ডলসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের অনুরোধে আমি রাসেলকে আমার হেফাজতে নেই। এছাড়া তাকে কোনো ধরনের নির্যাতন করা হয়নি। আমার বিরুদ্ধে থাকা অন্যান্য সকল মামলায় আমি জামিনে রয়েছি। গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল তায়াবীর জানান, এজাহারভুক্ত আসামি হওয়া সত্ত্বেও আমার নিজেরও ক্ষমতা নেই কাউকে ২৪ ঘন্টার উপর থানায় আটকে রাখার। সেখানে একজন ইউপি সদস্য ও তার লোকজন যেটা করেছে তা সম্পূর্ণভাবে আইনের লংঘন। এ ঘটনায় ভিকটিম রাসেলের পরিবারের পক্ষ হতে থানায় মামলা করা হয়েছে।
একজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। অবশিষ্ট ওসমান কাজীসহ অন্যান্য আসামিরা পলাতক রয়েছে। তাদেরকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: নির্যাতন


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ