Inqilab Logo

মঙ্গলবার, ০৫ জুলাই ২০২২, ২১ আষাঢ় ১৪২৯, ০৫ যিলহজ ১৪৪৩ হিজরী
শিরোনাম

নৌকা সিলেটে বেশিরভাগ ইউপিতে হেরেছে

সংঘাত বাড়ছে আ. লীগের তৃণমূলে

সিলেট ব্যুরো | প্রকাশের সময় : ৩০ নভেম্বর, ২০২১, ১২:০৪ এএম

তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সিলেট বিভাগের চারটি জেলার ৭৭টি ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ হয়। ভোটে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা অর্ধেক ইউনিয়নেও জয়ী হতে পারেননি। ৩১টিতে নৌকা প্রতীক বিজয়ী হয়েছে। আওয়ামী লীগের শৃঙ্খলা ভেঙে প্রার্থী হওয়া ২০ জন হেসেছেন বিজয়ের হাসি। বাকি ২৬টি ইউনিয়নে জয়ী হয়েছেন অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। স্বতন্ত্র বিজয়ীর মধ্যে বিএনপির অনেক তৃণমূল নেতা রয়েছেন।
ইউপি নির্বাচনে নেই বিএনপি। তবে তৃণমূলে ছিল বিএনপির শক্তিশালী কর্মী-সমর্থক। সিলেটে বিভাগে সুবিধা করতে পারছে না ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। নির্বাচনী ফলাফলে কেবল ধাক্কাই খাচ্ছে না, তৃণমূলে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে আ’লীগ বনাম আ’লীগ। চেইন অব কমান্ড হুমকির মুখে। বাড়ছে সংঘাত। অধিকাংশ স্থানে তৃণমূলের ভোটকে উপেক্ষা করে কেন্দ্রে বদলে দেয়া হয়েছে নৌকার প্রার্থী। এতে করে তৃণমূলে নৌকার কাউন্সিলদের সাথে বাড়ছে বদলিকৃত নৌকার মাঝিদের দুরত্ব। প্রার্থী চূড়ান্ত মনোনয়নে স্থানীয় কাউন্সিলদের গুরুত্বহীন করার মধ্যে দিয়ে দলের প্রভাবশালী নেতা ও এমপিরাও হচ্ছেন বিতর্কিত। সবমিলিয়ে দলীয় শৃঙ্খলার অভাব এখন সুস্পষ্ট। তার কারণে নৌকার বিরোধিতার চেয়ে প্রভাবশালী নেতা ও এমপিদের চাপিয়ে দেয়া প্রার্থীদের ডুবাতে মরিয়া হয়ে উঠছে দলের ভোটাররা। তাদের সেই মনোভাবে হারছে নৌকার মাঝিরা। এরমধ্যে দলের নেতাদের দিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিচ্ছে তারা।

প্রথম ধাপের ইউপি নির্বাচনে সিলেটের কোনো ইউনিয়ন পরিষদ ছিল না। গত ১১ নভেম্বর দেশে দ্বিতীয় ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সিলেটের ৪৪টি ইউনিয়নও ছিল। এর মধ্যে একটি ইউনিয়নে গন্ডগোলের কারণে স্থগিত হয় ফলাফল। বাকি ৪৩টির মধ্যে আ’লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীরা নির্বাচিত হন ১৯টিতে। আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা জয় পান ১০টিতে। বাকিগুলোর মধ্যে ১টিতে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী, ২টিতে জামায়াতের প্রার্থী এবং ১১টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে বিজয়ী হন বিএনপি নেতারা। দ্বিতীয় ধাপের ওই নির্বাচনে বেশিরভাগ ইউপিতে দলীয় প্রার্থীদের পরাজয়ের পর তৃতীয় ধাপে আরো আঁটঘাট বেঁধে মাঠে নামে আ’লীগ। কিন্তু এ ধাপেও দমানো যায়নি বিদ্রোহীদের। সিংহভাগ ইউপিতে পরাজয় মানতে হয়েছে নৌকার প্রার্থীদের।

তৃতীয় ধাপের সিলেট জেলার ১৬টি, সুনামগঞ্জের ১৭টি, মৌলভীবাজারের ২৩টি এবং হবিগঞ্জ জেলার ২১টি ইউনিয়নে নির্বাচন। এসব ইউনিয়নের বেশিরভাগেই বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। সিলেট জেলায় ১৪ জন, সুনামগঞ্জে ২৮ জন, মৌলভীবাজারে ২৪ জন এবং হবিগঞ্জে ১৮ জন মিলিয়ে দলটির ৮৪ জন বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। এদিকে, তৃতীয় ধাপে ৭৭টি ইউনিয়নের মধ্যে আ’লীগের প্রার্থীরা অন্তত ৫০টিতে বিজয়ীর হাসি হাসতে পারতেন, যদি না মাঠে থাকতেন বিদ্রোহীরা। ২০টি ইউনিয়নে জয় পেয়েছেন বিদ্রোহী প্রার্থীরা। বিদ্রোহীরা না থাকালে এসব ইউনিয়নে সিংহভাগ জয় লাভ করতো আ’লীগ। দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপ মিলিয়ে সিলেট বিভাগের ১২০টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫০টিতে জয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। দলটির বিদ্রোহীরা জয়ী হয়েছেন ৩০টি ইউনিয়নে।

স্থানীয় রাজনীতিকরা বলছেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি ছাড়া অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর ভিত্তি মজবুত নয় সিলেট বিভাগে। নির্বাচনে এবার ছিল না বিএনপি। ফলে প্রায় শতভাগ ইউনিয়নে জয়-জয়কারের সুযোগ ছিল আ’লীগের। কিন্তু ক্ষমতাসীন দলটি সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি। অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, বিশৃঙ্খলা, প্রার্থী বাছাইয়ে পক্ষপাতিত্ব, অযোগ্য ও বিত্তশালীদের মনোনয়ন প্রদান প্রভৃতি কারণে সুযোগ হারিয়েছে আ’লীগ। রাজনৈতিকভাবে আ’লীগের পরাজয় ঘটলেও অনেক স্থানে বিত্তশালী প্রার্থীদের মনোনয়ন নিশ্চিত করে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন প্রভাবশালী নেতারা।

তৃতীয় ধাপের ফলাফল বলছে, সিলেট জেলার ১৬টি ইউনিয়নের মধ্যে ৯টিতে আওয়ামী লীগ, ৩টিতে দলটির বিদ্রোহী, ২টিতে স্বতন্ত্রের মোড়কে বিএনপি, ১টিতে জাতীয় পার্টি ও ১টিতে জয় পেয়েছেন জাসদের প্রার্থী। সুনামগঞ্জের ১৭টি ইউনিয়নের মধ্যে মাত্র দু’টিতে জয় পেয়েছেন নৌকা প্রতীক। ৫টিতে আ’লীগের বিদ্রোহী, ২টিতে জাতীয় পার্টি, ১টিতে জমিয়ত ও ৯টিতে বিজয়ীর হাসি হেসেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। মৌলভীবাজারের ২৩টি ইউপির মধ্যে আ’লীগ বিজয়ী হয়েছে ১২টিতে। আ’লীগের বিদ্রোহীরা ৭টিতে, স্বতন্ত্র থেকে বিএনপি নেতারা দু’টিতে এবং অপর দুটিতে জয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। হবিগঞ্জের ২১টি ইউনিয়নের মধ্যে নৌকার জয় পেয়েছে ৮টিতে। পাঁচটিতে জয়ী হয়েছেন আ’লীগের বিদ্রোহীরা। বাকিগুলোতে জয় পেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন


আরও
আরও পড়ুন