Inqilab Logo

মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২২, ০৪ মাঘ ১৪২৮, ১৪ জামাদিউস সানি ১৪৪৩ হিজরী

কয়লা এবং জীবাশ্ম জ্বালানি সম্পূর্ণ অপসারণের দাবি

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১ ডিসেম্বর, ২০২১, ১২:০৫ এএম

বিশ্বনেতারা জলবায়ু সমস্যা সমাধানের জন্য ডাকেন। জলবায়ু সম্মেলন আহŸান করেন। কিন্তু তারা সমস্যার সমাধান করেন না। শুধু আশ্বাস দেন। বিশ্বনেতারাই বিশ্বজুড়ে জলবায়ু সঙ্কটের সৃষ্টি করেছেন। ফলে এর সমাধান আমাদের নিজেদেরই করতে হবে।
গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘২৬তম বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন (কপ-২৬) এর প্রাক্কালে বাংলাদেশের নাগরিক সমাজের প্রত্যাশা এবং প্রস্তাবনা’ শীর্ষক এক নাগরিক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (সিপিআরডি), কোস্ট ফাউন্ডেশন, সিসিডিবি, সিডিপি, ইপসা, মালেয়া ফাউন্ডেশন, এসডিএস, ক্যানসা-বাংলাদেশসহ কয়েকটি বেসরকারি উন্নয়ন সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন পল্লী কর্ম সহায়কের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান ড. কাজী খলিকুজ্জামান আহম্মেদ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিআরডি’র প্রধান নির্বাহী মো. শামসুদ্দোহা। অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন সাবেক অতিরিক্ত সচিব ড. নুরুল কাদের, বাংলাদেশ পরিবেশ সংবাদিক ফোরামের সভাপতি কামরুল ইসলাম, ক্লাইমেট চেঞ্জ জার্নালিস্ট ফোরামের সভাপতি কাওসার রহমান, সিডিপি’র নির্বাহী পরিচালক জাহাঙ্গির হাসান মাসুম, সুন্দরবন ও উপক‚ল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র, কোস্ট ফাউন্ডেশনের পরিচালক সৈয়দ আমিনুল হকসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং নাগরিক সংগঠনের কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা।
এ সময় কয়লা ও জীবাশ্ম জ্বালানি সম্পূর্ণ অপসারণের দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, আমরা অনেক প্রত্যাশা নিয়ে গেলেও হতাশ হই। আমরা ভেবেছিলাম, কপ-২৬ সম্মেলনে অনেক চুক্তি হবে। কিন্তু সেটা হয়নি। যেহেতু এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা, তাই আমাদের বৈশ্বিকভাবেই সমাধান করতে হবে। বক্তারা আরো বলেন, ১ দশমিক ৫ ডিগ্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার জন্য সঠিক হারে কার্বন নির্গমন হ্রাস করতে ব্যর্থ হলে এবারের কপ সম্মেলনের সব প্রচেষ্টা এবং উদ্যোগই বিফলে যেতে পারে। বক্তারা উন্নত দেশগুলোর কাছ থেকে আনুপাতিক হারে নির্গমন গ্রাসকরণের বিষয়ে অঙ্গীকার চান।
কাজী খলিকুজ্জামান বলেন, করোনার সময়ে খুব দ্রæত টিকা বের হয়ে গেলো। এর কারণ ক্ষমতাবানদেরও করোনা ধরেছিল। ক্ষমতাবানরা যখন সমস্যার সম্মুখীন হন, তখন তারা সমাধানের পথ বের করেন। জলবায়ু সমস্যায় বাংলাদেশের মতো দেশগুলো ভুগছে। তাই আমাদেরই এর সমাধানে চেষ্টা করতে হবে। বাংলাদেশে জলবায়ু নিয়ে গবেষণা হয় না মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমরা জলবায়ু ইস্যুতে বাংলাদেশের পক্ষে যারা কথা বলি, তারা মন থেকে বলি না। আমরা অন্যের লেখা ও বলা থেকে ধারণা নিয়ে কথা বলি। নিজেরা গবেষণা ও চিন্তা করি না। তিনি বলেন, আমাদের অগ্রাধিকারে গলদ আছে। আমরা এজন্য অগ্রগতিতে সমাধান পাচ্ছি না। আমাদের সরকারের যথেষ্ট সদিচ্ছা আছে। কিন্তু যারা বাস্তবায়ন করেন, তাদের অগ্রগতিতে সদিচ্ছার অভাব রয়েছে।
প্রধান আলোচক হিসেবে সিপিআরডির প্রধান নির্বাহী মো. শামসুদ্দোহা বলেন, অনেক সীমাবদ্ধতা এবং সমালোচনা থাকলেও কপ-২৬ সম্মেলনে অনেকগুলো ভালো অর্জনও আছে।
ড. নুরুল কাদের বলেন, এ বছর সিভিএফ মোটামুটি সক্রিয় ছিল কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত দেশের প্ল্যাটফর্ম হিসাবে সিভিএফকে আরো বেশি সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।
কামরুল ইসলাম বলেন, আমাদের দেশের নেগোশিয়েটরদের মাঝে সবজান্তা সাজার একটা প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়, কিন্ত কার্যক্ষেত্রে তাদের সেই পান্ডিত্বের প্রতিফলন দেখি না।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: জীবাশ্ম জ্বালানি
আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ