Inqilab Logo

মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২২, ০৪ মাঘ ১৪২৮, ১৪ জামাদিউস সানি ১৪৪৩ হিজরী
শিরোনাম

করযোগ্য ব্যক্তিদের কর দিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াতে বললেন আইনমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৩০ নভেম্বর, ২০২১, ১০:০৭ পিএম

করযোগ্য ব্যক্তিদের কর প্রদান করে দেশের উন্নয়ন ও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেন, ‘করযোগ্য আয় যাদের আছে তাদের কর দেয়া উচিত। করযোগ্য আয়ের উপর কর দিয়ে দেশের রাজস্ব আয় বাড়ান, কর দিয়ে দেশের মানুষের পাশে দাঁডান। অন্যদিকে ব্যয়ের ক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখতে হবে জনগণের করের টাকা যেন অপচয় না হয়।’

আয়কর দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার রাজধানীর সেগুনবাগিচা রাজস্ব ভবন সভাকক্ষে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আয়োজিত ‘রুপকল্প বাস্তবায়ন ও আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে আয়করের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. জামাল উদ্দিন এবং এনবিআর সদস্য মো. আলমগীর হোসেন বক্তব্য রাখেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, দিন দিন প্রত্যক্ষ করের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশকে এগিয়ে নিতে এর বিকল্প নেই। রুপকল্প-২০৪১ এর লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, জনগণের করের টাকা ব্যয়ের ব্যাপারে আমাদেরকে আরও বেশি দায়িত্বশীল হতে হবে। জনগণের করের টাকার যেন কোন অপচয় বা অপব্যবহার না হয় এবং করের টাকার যাতে সর্বোত্তম ব্যবহার হয় তা নিশ্চিত করতে হবে।

অনুষ্ঠানে এনবিআরের চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম বলেন, রাজস্ব প্রশাসন কর নেট বাড়াতে কাজ করছে। অনলাইন রিটার্ন সার্ভিস দেয়া হচ্ছে। রাজস্ব আহরনের বড় খাত আয়কর। তিনি বলেন, আশির দশকে উন্নয়ন প্রকল্পের ১০০ ভাগ উন্নয়ন সহোযোগীদের মাধ্যমে অর্থায়ন হতো। এখন ৯০ ভাগের বেশি দেশীয় রাজস্ব আহরন থেকে আসে। এটি আমাদের বড় অর্জন।

তিনি প্রত্যক্ষ কর রাজস্ব আয় বাড়াতে করনেট সম্প্রসারণের উপর গুরুতা¡রোপ করেন। বলেন, যত বেশি করনেট বৃদ্ধি করতে পারব, তত করহার হ্রাস করা যাবে। তিনি বলেন, কর দিবসে জনগনের প্রতি আহবান, আপনারা স্বত:স্ফূর্তভাবে কর দেন। তাহলে করহার কমানো যাবে।

এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, সরকার ও বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে দেশের লক্ষ্য পূরণে এগিয়ে যেতে হবে। আমরা আমদানি-নির্ভর হয়ে থাকতে চাই না। শিল্প বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে আমদানি নির্ভরতা কমাতে হবে।
‘মুজিব বর্ষের অঙ্গীকার, সবাই মিলে দেব কর’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে মঙ্গলবার সকালে এনবিআরের সামনে বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে ১৪তম জাতীয় আয়কর দিবসের উদ্বোধন করা হয়।

সারাদেশে এনবিআরের ৩১টি করাঞ্চলে দিবসটি উদযাপন হচ্ছে। কোভিড পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য ঝুঁকি বিবেচনায় আয়কর দিবসের র‌্যালি হয়নি এবার। তবে দিবসটি উপলক্ষে সব আয়কর অফিস সজ্জিত করা হয়েছে।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। জাতীয় আয়কর দিবসে জাতীয় পত্রিকায় ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হয়েছে। টেলিভিশন চ্যানেলে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০০৮ সাল থেকে দেশে আয়কর দিবস উদযাপন হচ্ছে। এদিকে, আজ ব্যক্তিশ্রেণীর করদাতাদের আয়কর বিবরণী দাখিলের শেষ দিন। রাত অবধি লাইন ধরে করদাতাদের আয়কর বিবরণী দাখিল করতে দেখা গেছে।

সূত্র: বাসস



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: আইনমন্ত্রী


আরও
আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ