Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১০ ফাল্গুন ১৪২৬, ২৮ জামাদিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

আ’লীগের সম্মেলনে যাবে বিএনপি আলাল

প্রকাশের সময় : ২২ অক্টোবর, ২০১৬, ১২:০০ এএম

স্টাফ রিপোর্টার : আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনে যোগ দেবে বিএনপি। এমন তথ্য জানিয়েছেন দলটির যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। গতকাল শুক্রবার সকালে এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, আমরা খুশি হয়েছি আমাদেরকে দাওয়াত দিয়েছেন, আমরা আনন্দিত। আমাদের সম্মেলনে কিন্তু আপনারা আসেন নাই এবং সৌজন্যবোধের কারণে টেলিফোন করে দুঃখ প্রকাশও করে নাই যে আমরা আসতে পারি নাই। কিন্তু আমরা আপনাদের মতো হীনমন্য নই। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন আপনাদের সম্মেলনে যাওয়ার জন্য বলেছেন। বিএনপি যে একটা উদার গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল সেই প্রমাণ আপনারা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের দিন পাবেন ইনশাল্লাহ। আমরা যাব।
আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে আওয়ামী লীগ। গত বৃহস্পতিবার দলের উপ দপ্তর সম্পাদক মৃনাল কান্তি দাসের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মির্জা ফখরুলের সাথে দেখা করে এই আমন্ত্রণপত্র পৌঁছিয়ে দেন।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে জাতীয়তাবাদী বন্ধু দলের উদ্যোগে মরহুম নেতা আসম হান্নান শাহের স্মরণে এই আলোচনা সভা হয়।
সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, আপনারা যদি শপথ করেন, যদি কোনো নাটক না করেন, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা করে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, যখন তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার বাসার উদ্দেশে রওনা করেছিলেন, ছাত্রলীগ-যুব লীগের ছেলেরা সমস্ত রাজপথে তা-ব করে এমন একটা অবস্থা তৈরি করেছিলো যে, সিকিউরিটি রিজয়নে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীকে ফেরত আসতে বাধ্য হয়েছিলেন। এমন অবস্থা যদি না করেন, ইনশাল্লাহ আপনাদের সম্মেলনে অংশগ্রহণ করার জন্য, আশীর্বাদ করার জন্য, আপনাদের ভুলগুলো ধরিয়ে দিয়ে আপনাদের সংশোধিত পথে ফেরত আসার জন্য আমাদের পক্ষ থেকে আশীর্বাদ-দোয়া-সহযোগিতা-অংশগ্রহণ সবই থাকবে।
আওয়ামী লীগের কাউন্সিল উপলক্ষে সারা ঢাকায় ব্যাপক নিরাপত্তার সমালোচনা করে তিনি বলেন, আমাদের কাছে প্রশ্ন জাগে যে, এই সম্মেলনটা কী র‌্যাবের সম্মেলন, পুলিশ বাহিনীর সম্মেলন, বিজেবির সম্মেলন নাকী ডক স্কোয়াডের সম্মেলন। আমরা দেখছি, একমাস ধরে এমন একটা অবস্থা তৈরি করা হয়েছে, এমন একটা আবহাওয়া তৈরি করা হয়েছে, বিভিন্ন জায়গায় ছোট ছোট মঞ্চ তৈরি হচ্ছে। আজকে থেকে রাস্তা-ঘাটে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। গতকাল রাত থেকে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। তার মানেটা কী? মনে হচ্ছে যেন সরকারের একটা সম্মেলন হচ্ছে। র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ তার সভাপতি হবেন আর ডিএসপি কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া হয়ত সাধারণ সম্পাদক হবেন- এমন একটা ভাব।
আলাল বলেন, আওয়ামী লীগ একটা পুরনো রাজনৈতিক দল। এই দল এতো জনপ্রিয় একটা দল, তার সম্মেলন থাকবে উন্মুক্ত, তাকে দেখার জন্য হাজার হাজার মানুষ আসবে। সেখানে চেকপোস্টের দরকারটি কী ভাই? সেখানে বেনজীর সাহেব ও আসাদুজ্জামান সাহেবের এতো তেজষ্ক্রিয় কণ্ঠে বার বার বক্তব্য দিয়ে আকাশে-বাতাসে হুমকি দেয়ার প্রয়োজনটা কোথায়? কাদেরকে হুমকি দিচ্ছেনÑ সেটাও আমরা বুঝতে পারছি না।
আলাল বলেন, সম্মেলন যদি উৎসবই হয়, কেনো বিভিন্ন রাস্তা-ঘাট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কেনো এতো বিধি-নিষেধ? কী এমন আকাম-কুকাম করেছেন যে, এতো ভীত আপনারা। কারণটা কী? ভালো কাজ যদি করে থাকেন, সম্মেলন উন্মুক্ত করে দেয়া উচিৎ সবকিছু। আওয়ামী লীগের সম্মেলনে কোটি কোটি’ খরচের সমালোচনা করেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগকে আহ্বান জানাব, এই সম্মেলন থেকে আপনারা গণতন্ত্রের মূল চেতনায় ফেরত আসার ঘোষণা দিন। আপনাদের সেই ঐতিহ্য ১৯৬৬-১৯৬৯-১৯৭০-এর নির্বাচনের সেই ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে দিয়ে নতুন প্রজন্মের যারা বাংলাদেশে রয়েছেন, এদেরকে জানিয়ে দিন যে আওয়ামী লীগ সত্যিকার অর্থে একটি গণতান্ত্রিক দল। স্বৈরাচার হিসেবে তাদেরকে যে ডাকা হয়, এই কথাটি ভুল। তাহলে বাংলাদেশের মানুষ অনেক বেশি খুশি হবে এই রঙিন বাতির চেয়ে, এই ডগ স্কোয়াডের চেয়ে, এই র‌্যাব-পুলিশের পাহারার চেয়ে, এই রাস্তা-ঘাট আটকানোর চেয়ে।
বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, আওয়ামী লীগের সম্মেলনে আলোকসজ্জা দেখে মনে হচ্ছে, ঢাকা শহরের বিয়ে। আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের দল বলে নিজেকে দাবি করে। মুক্তিযুদ্ধের দল বা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা দল যদি হয়ে থাকেন আমি দেখতে চাইÑ সম্মেলনের মঞ্চে মুক্তিযুদ্ধের ১১ সেক্টার কমান্ডার ও মুক্তিযুদ্ধে সর্বাধিনায়ক এমএজি ওসমানির ছবি থাকবে। এই সম্মেলনের মধ্যে আমি ঘোষণা শুনতে চাই, আগামী ৭ নভেম্বরে বিএনপি যেখানে সমাবেশ করতে চাইবে, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান যদি চায়, বিএনপির অফিসের সামনে যদি চায়, সেখানে সমাবেশ করতে পারবে।
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শরীফ মোস্তফা জামান লিটুর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদসহ নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন