Inqilab Logo

মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২২, ০৪ মাঘ ১৪২৮, ১৪ জামাদিউস সানি ১৪৪৩ হিজরী

ছাত্রলীগের লাঞ্ছনায় শিক্ষকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা, কু‌য়েট বন্ধ ঘোষণা

খুলনা ব্যুরো | প্রকাশের সময় : ৩ ডিসেম্বর, ২০২১, ১:০৩ পিএম

কুয়েটে ছাত্রলীগ নেতাদের লাঞ্ছনায় শিক্ষকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উদ্ভুত উত্তেজনাকর পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে আগামী ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আজ শুক্রবার বিকাল ৪টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে সকালে সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ভিসি অধ্যাপক কাজী সাজ্জাদ হোসেন। গতকাল বৃহষ্পতিবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের জরুরী সভা বসেছিল। তবে কোনো প্রকার সিদ্ধান্ত ছাড়াই সভা মুলতবি ঘোষণা করা হয়।
সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার দুপুরে কুয়েট শিক্ষক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সেলিম হোসেনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতা অপমান-অপদস্ত করে। এর পরপরই বাসায় ফিরে তিনি হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান। এ মৃত্যুতে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন শিক্ষকও শিক্ষার্থীরা। অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতাদের চিহ্নিত করে বিচার, বহিষ্কার, বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতি নিষিদ্ধসহ ৫ দফা দাবিতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন শুরু করেন। প্রতিবাদ সমাবেশ করে শিক্ষকরা সকল একাডেমিক কাজ থেকে বিরত থাকার ঘোষণা দেন। শিক্ষকরা কালো ব্যাজ ধারণ করেন ও রেজিস্টারের কাছে একটি স্বারকলিপি দেন। পুরো ক্যাম্পাস উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
কুয়েটের রেজিস্টার (ভারপ্রাপ্ত) প্রকৌশলী মোঃ আনিছুর রহমান ভূঞা জানান, প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সেলিম হোসেনের মৃত্যুর ঘটনার তদন্তে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করে কর্তৃপক্ষ। কমিটির সভাপতি ছিলেন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আরিফুল ইসলাম। এছাড়া দুইজন সদস্য হলেন, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. আতাউর রহমান ও ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. কল্যাণ কুমার হালদার। তবে, অধ্যাপক ড. কল্যাণ কুমার হালদার লিখিত ভাবে ও ড. মো. আরিফুল ইসলাম মৌখিক ভাবে তদন্ত করতে অপারগতা জানান।
কী ঘটেছিল সেদিন ?
মঙ্গলবার (৩০ নভেম্বর) দুপুর ৩ টার দিকে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান কুয়েট শিক্ষক প্রফেসর ড. মো. সেলিম হোসেন। তিনি কুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ও লালন শাহ হলের প্রভোষ্ট ছিলেন।
কুয়েটের বর্তমান ছাত্রলীগ সভাপতি সরকারি চাকুরি পাওয়ার পর পরই নতুন কমিটি আসার প্রাক মুহুর্তে সম্পূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ ভাগ হয়ে পড়েছে কয়েকটি উপদলে। এর ভেতর একটি প্রভাবশালী উপদলের নেতৃত্বে রয়েছেন কুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদমান নাহিয়ান সেজানের নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। সম্প্রতি কুয়েটের লালন শাহ হলের ডিসেম্বর মাসের খাদ্য-ব্যবস্থাপক ( ডাইনিং ম্যানেজার) নির্বাচন নিয়ে, সাধারণ সম্পাদক সাদমান নাহিয়ান সেজান প্যানেলের বিরুদ্ধে নির্বাচন প্রক্রিয়া প্রভাবিত করার প্রচেষ্টার অভিযোগ ওঠে। ওই প্যানেলের সদস্যরা, হলের প্রভোষ্ট ড. সেলিম হোসেনকে নিয়মিত হুমকি দিয়ে আসছিল তাদের মনোনীত প্রার্থীকে নির্বাচন করার জন্য। তারই ধারাবাহিকতায়, মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে সাদমান নাহিয়ান সেজানের নেতৃত্বাধীন ছাত্রলীগের একটি ক্যাডার গ্রুপ ক্যাম্পাসের রাস্তা হতে ড. সেলিম হোসেনকে জেরা করা শুরু করে। পরবর্তীতে তারা শিক্ষককে অনুসরণ করে তার ব্যক্তিগত কক্ষে ( তড়িৎ প্রকৌশল ভবন) প্রবেশ করে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, তারা আনুমানিক আধা ঘন্টা ওই শিক্ষকের সাথে রুদ্ধদার বৈঠক করে। এতে তিনি মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েন ও অসুস্থ হয়ে যান। পরবর্তীতে, শিক্ষক ড. সেলিম হোসেন দুপুরে খাবারের উদ্দেশ্যে ক্যাম্পাস নিকটস্থ বাসায় যাওয়ার পরপরই ২ টা ৩০ মিনিটের এ তার স্ত্রী লক্ষ্য করেন তিনি বাথরুম থেকে বের হচ্ছেন না। পরে, দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে, কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ছাত্রদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ড. সেলিম একজন অত্যন্ত সজ্জ্বন সৎ মেধাবী শিক্ষক। ছাত্রবান্ধব হিসেবে তার যথেষ্ট সুনাম ছিল ৷ ব্যক্তিজীবনে অত্যন্ত অল্প বয়সে তিনি দেশের বাইরে থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করে ২০২০ সালে অধ্যাপক পদোন্নতি পান৷ কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে তার কোনো সম্পৃক্ততা ছিলোনা।
এ বিষয়ে জানতে কুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদমান নাহিয়ান সেজানের নাম্বারে একাধিক বার কল দিলে তিনি রিসিভ করেননি।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ