Inqilab Logo

শুক্রবার, ২১ জানুয়ারী ২০২২, ০৭ মাঘ ১৪২৮, ১৭ জামাদিউস সানি ১৪৪৩ হিজরী

যমুনা সারকারখানায় ৩০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ব্যবস্থাপক বরখাস্ত বিভাগীয় মামলার নির্দেশ

সরিষাবাড়ী (জামালপুর) | প্রকাশের সময় : ৪ ডিসেম্বর, ২০২১, ২:২৯ পিএম

এশিয়ার বৃহত্তম ইউরিয়া সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান যমুনা সারকারখানার সার কেলেংকারী ও ৩০ কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক ওয়ায়েছুর রহমানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাষ্ট্রিজ কর্পোরেশন (বি সি আই সি)।

বিসিআইসি প্রধান কার্যালয়ের এক অভিযোগ বিবরণীতে জানা যায়, সরিষাবাড়ীর তারাকান্দিতে অবস্থিত যমুনা ফার্টিলাইজার কোম্পানী লিমিটেড এর কর্মরত বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক ওয়ায়েছুর রহমানের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে অবহেলা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে অসদাচরণ, অদক্ষতা, চুরি, আত্মসাৎ, তহবিল তছরুপ এবং প্রতারণার দায়ে অভিযুক্ত সহ প্রায় ২০ হাজার মেঃটন ইউরিয়া সার যার মুল্য প্রায় ৩০ কোটি ২৬ লক্ষ ২৯ হাজার ৬৩৬ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তদন্তে প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে ।
জানা যায়, গত ০৯-০৯-২০২১ তারিখের স্বারক নং ৩৬.০০.০০০০.০৬২.৯৯.০৫৬.২০.৩০১ মুলে যমুনা সারকারখানা এর ২০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সারের মূল্য প্রায় ৩০ কোটি টাকা আত্মসাৎ পরিকল্পনার অভিযোগ তদন্তের নির্দেশনা প্রদান করা হয়। তার প্রেক্ষিতে সংস্থা হতে গত ২৬-০৯-২০২১ তারিখ স্বারক নং ৩৬.০১.০২৭.০১ ০২.৪৫৪২.২০২১/১৮২ দ্বারা বিসিআইসি প্রধান কার্যালয় হতে ৬ সদস্য বিশিষ্ট প্রাথমিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। বিসিআইসি প্রধান কার্যালয় হতে গঠিত তদন্ত কমিটি সরেজমিন তদন্ত শেষে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বরাবর রিপোর্ট দাখিল করে।
বিসিআইসির তদন্ত কমিটি গত ২৯-০৯-২০২১ তারিখে জেএফসিএল এর উৎপাদিত সারের পরিসংখ্যান/ মজুত হিসাব তার নিকট হতে সংগ্রহ করে। তার স্বাক্ষরকৃত লিখিত তথ্য অনুযায়ী গত ২৯-০৯-২০২১ তারিখে জেএফসিএল এর উৎপাদিত ব্যাগ সারের মজুদের পরিমাণ ৩৭,৫৭৪.৭০ মেট্রিক টন ও লুজ সারের পরিমাণ ৫১,৮৬৬.৬০ মেট্রিক টন। কিন্তু বিসিআইসি তদন্ত কমিটি গত ২৯-০৯-২০২১ তারিখে সরেজমিনে জেএফসিএল এর উৎপাদিত ব্যাগ সারের মজুদের পরিমাণ ২১,৩১০.৩৫ মেট্রিক টন এবং লুজ সারের পরিমাণ ৫১,৬৪৯.৯২ মেট্রিক টন পেয়েছে। প্রকৃত পক্ষে জেএফসিএল এর উৎপাদিত ব্যাগ সার ১৬,২৬৪.৩৫ মেট্রিক টন, এস এফ সি এল এর সার ১২১.১০ মেট্রিক টন এবং লুজ সার ২১৬.৬৮ মেট্রিক টন সহ মোট ১৬,৬০২.১৩ মেট্রিক টন সার পাওয়াা যায়নি। যার আর্থিক মূল্য তেইশ কোটি চব্বিশ লক্ষ উনত্রিশ হাজার আটশত বিশ টাকা। বিক্রয় শাখা প্রধান হিসেবে ঘাটতি কৃত সার এর দায়ভার তার ওপর বর্তায়। গত ২৯-০৯-২০২১ তারিখে তার স্বাক্ষরকৃত লিখিত তথ্য অনুযায়ী, জেএফ সিএল এর ০২ নং গোডাউনে রক্ষিত কাফফো সার ১,১১৩.০০ মেট্রিক টন এস এফ সি এল এর সার ১২১.১০ মেট্রিক টন এবং আমদানি সার ২,৭০৮.০০ মেট্রিক টন মজুত রয়েছে। তার প্রদত্ত তথ্যের সাথে বাস্তব গণনায় কোন মিল পাওয়া যায়নি। প্রকৃতপক্ষে জেএফসিএল এ রক্ষিত আমদামী সার ১,৫০৮,০০ মে,টন ও কাফকো সার ১,০২৩,০০ মে, টন সহ সর্বমোট ২৫৩১,০০ মে.টন সার পাওয়া যায়নি। এর বিক্রয় শাখা প্রধান হিসেবে ঘাটতিকৃত ২৫৩১.০০ মেট্রিক টন সার এর দায়ভার তার ওপর বর্তায়। জেএফসিএল এর ১৯,১৩৩.১৩. মেট্রিক টন সার আত্মসাতের দায়ে তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
এছাড়া বিসিআইসির প্রধান কার্যালয় হতে গঠিত তদন্ত কমিটির জেএফসিএল এর ২০ হাজার মেট্রিক টন সার কেলেংকারীর অভিযোগ সরেজমিনে তদন্তের সময় তদন্ত টিমকে বিক্রয় শাখা প্রধান হিসেবে ও গণনায় চরম অসহযোগিতা করার অভিযোগসহ অসদাচরণের অভিযোগ রয়েছে।
এ ব্যাপারে শনিবার সকালে তারাকান্দি সার কারখানায় এলাকায় গিয়ে বরখাস্তকৃত ব্যবস্থাপক ওয়ায়েছুর রহমানের ব্যাবহৃত ফোন নাম্বারে বার বার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ