Inqilab Logo

মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২২, ০৪ মাঘ ১৪২৮, ১৪ জামাদিউস সানি ১৪৪৩ হিজরী

মিথেনের মাত্রাও কমাতে পারে অ্যালজি

অনলাইন ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৫ ডিসেম্বর, ২০২১, ১২:৫৬ পিএম

সমুদ্রের তলদেশে কার্বন ধারণের গতি আরো বাড়াতে পারলে বায়ুমণ্ডলে কার্বনের মাত্রা অনেকটাই কমানো সম্ভব। তবে অ্যালজি চাষ ও সদ্ব্যবহার আরো ত্বরান্বিত করতে বিনিয়োগ ও প্রণোদনার প্রয়োজন।

সিমব্রোসিয়া নামের স্টার্টআপ কোম্পানি গবাদি পশুর জন্য অ্যালজি-ভিত্তিক খাদ্য সরবরাহ করে সংবাদ মাধ্যমে বাহবা কুড়াচ্ছে। কিন্তু চাহিদা মেটাতে যথেষ্ট পরিমাণ অ্যালজির জোগান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কারণ সবার আগে অ্যালজি চাষ করতে হবে। কিছু ক্ষেত্রে অ্যালজির কোনো অভাব নেই। যেমন প্রকৃতির কোলেই যথেষ্ট পরিমাণ ‘সার্গাসাম' জাতের অ্যালজি পাওয়া যায়।

সারগাসো সাগর ‘সার্গাসাম' অ্যালজির আস্তানা। এই এলাকা বিশ্বের সব মহাসাগরের শুষে নেওয়া কার্বন-ডাই-অক্সাইডের প্রায় সাত শতাংশের ভাগীদার। প্রত্যেক বছর ক্যারিবীয় অঞ্চল ও মেক্সিকো উপসাগর উপকূলে বিশাল পরিমাণ অ্যালজি ভেসে আসে। ২০১৮ সালে তার পরিমাণ ছিল দুই কোটি টনেরও বেশি।

স্বাভাবিক অবস্থায় ক্ষয়ের মাধ্যমে অ্যালজি আবার উধাও হয়ে যায়। কিন্তু বর্তমানে সেই অ্যালজি উপকূল ভরিয়ে দিচ্ছে। শুধু প্রবল দুর্গন্ধ নয়, পানি দূষণ থেকে শুরু করে প্রাণীমৃত্যু ও প্রবাল ধ্বংসের জন্যও অ্যালজি দায়ী। সি-কম্বিনেটর সংস্থার ভাইস প্রেসিডেন্ট খর্খে ভেগা মাতোস মনে করেন, এত ‘সার্গাসাম' অ্যালজি ধ্বংসের বার্তা বয়ে আনছে।

সি-কম্বিনেটর কোম্পানি সার্গাসাম থেকে পরিবেশবান্ধব পণ্য উৎপাদনে হাত পাকিয়েছে এই সংস্থা। বিশেষ করে সার উৎপাদনের ক্ষেত্রে বিপুল সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। রোমান সাম্রাজ্যেও সার হিসেবে অ্যালজি ব্যবহার করা হয়েছে। বর্তমানে বড় আকারে প্রয়োগের জন্য অ্যালজির নির্যাস বার করা হচ্ছে। খর্খে বলেন, ‘‘আমরা সেটা নানা কম্পাউন্ডে রূপান্তরিত করতে পারি। স্প্রের মাধ্যমে পাতার উপর এর প্রলেপ লাগানো যায়। তরল অথবা দানার আকারে এই সার মাটিতে মেশানো যায়।''

সারের মধ্যে পুষ্টি জমি সমৃদ্ধ করে এবং গাছের মধ্যে রোগের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। ফলে গাছে আরও বেশি ফল হয়, গাছপালা সতেজ থাকে। চাপ ও রোগের ধাক্কা আরো ভালোভাবে সামলাতে পারে। তবে অ্যালজি ব্যবহারের সবচেয়ে সহজ পথ হলো কার্বন-ডাই-অক্সাইড স্টোরেজ হিসেবে এর ব্যবহার।

মৃত্যুর পর অ্যালজি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সমুদ্রের নীচের মাটিতে তলিয়ে গেলে ধারণকৃত কার্বন-ডাই-অক্সাইড সেখানে জমা হয়। সেই প্রক্রিয়ার গতি আরো বাড়ানো সম্ভব। সামুদ্রিক ইকোলজিস্ট হিসেবে মার ফার্নান্ডেস-মেন্ডেস বলেন, ‘‘অ্যালজির মধ্যে ধারণ করা কার্বনের পরিমাণ বাড়াতে চাইলে আমাদের সচেতনভাবে সার্গাসামের মতো অ্যালজি বের করে নিয়ে সংকোচন করে আবার ডুবিয়ে দিতে হবে।''

এর অর্থ, অ্যালজির ওজন বাড়িয়ে অথবা পাম্পের মাধ্যমে সমুদ্রের তলদেশে পাঠাতে হবে। সাম্প্রতিক এক গবেষণা অনুযায়ী মহাসাগরের মাত্র দুই শতাংশ এলাকায় অ্যালজি চাষ ও সমুদ্রের তলদেশে অ্যালজি ডোবাতে পারলে কৃষিক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী নির্গমনের ক্ষতি পূরণ করা সম্ভব হবে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এতকাল কেন এমনটা করা হয়নি? আসলে ম্যাক্রো অ্যালজি হিসেবে সি উইড বা সামুদ্রিক শৈবাল সবচেয়ে বেশি চাষ করা হয়। তবে সেটির বৃদ্ধি তরান্বিত করতে কোথাও না কোথাও ঝোলাতে হয়।

কয়েকটি সি উইড ফার্ম অ্যালজি ডুবিয়ে নজর আকর্ষণ করেছে। তবে বড় আকারে সেই কাজ করতে হলে আরো বড় অবকাঠামোর প্রয়োজন। সার্গাসাম এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে। ফার্নান্ডেস-মেন্ডেস মনে করেন, ‘‘কোনো ম্যাক্রো অ্যালজি ফাইটোপ্ল্যাংকটনের মতো সমুদ্রের যে কোনো অংশে বেড়ে উঠতে পারলে এবং আরো অনেক বেশি দক্ষতার সঙ্গে কার্বন ধারণ করতে পারলেই কেল্লা ফতে। সার্গাসামই সেটা পারে।''

মেক্সিকোর মতো বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে সার্গাসাম সংগ্রহের প্রযুক্তির প্রয়োগ ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। ব্রিটেনের এক স্টার্টআপ কোম্পানি থেকে শুরু করে মেক্সিকোর সরকারের প্রতিনিধিরা সেই প্রক্রিয়া আরো কার্যকর করে তোলার চেষ্টা করছেন। ফার্নান্ডেস-মেন্ডেস বলেন,‘‘জীববিজ্ঞানী হিসেবে শুধু আমার মতো মানুষেরই এমন বিষয় নিয়ে মাথা ঘামানোর প্রয়োজন নেই। গোটা সমাজেরই এগিয়ে আসা উচিত।''

এখনো পর্যন্ত আর্থিক বিনিয়োগের অভাব রয়েছে। কিন্তু অ্যালজি চাষ করে জলবায়ু সংকটের সমাধানে অবদান রাখতে পারলে কার্বন-ডাই-অক্সাইড স্টোরেজ আকর্ষণীয় করার লক্ষ্যে আরো প্রণোদনার প্রয়োজন হবে। শুধু মুখরোচক খাদ্য হিসেবে নয়, অ্যালজির আরো বড় প্রয়োগের সময় এসে গেছে। সূত্র: ডয়চে ভেলে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: পরিবেশ


আরও
আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ