Inqilab Logo

শনিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২২, ১৫ মাঘ ১৪২৮, ২৫ জামাদিউস সানি ১৪৪৩ হিজরী

সেনারা গুলি চালিয়ে নিরীহ ১৫ গ্রামবাসীকে খুন করে

উত্তাল ভারতের নাগাল্যান্ড রাজ্য

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৬ ডিসেম্বর, ২০২১, ১২:০৮ এএম

ভারতের নাগাল্যান্ড রাজ্যে জঙ্গি মনে করে ১৫জন গ্রামবাসীকে গুলি করে হত্যা করেছে সেনাবাহিনী। এই ঘটনার পরেই রণক্ষেত্র চেহার নেয় এলাকা। হামলা হয় সেনাবাহিনীর উপর। একের পর এক গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ওই ঘটনায় আহত হয়ে তাদের একজন সৈনিক মারা গেছে।

ভারতের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, একটি অ্যামবুশ অভিযান চালানোর সময় প্রথমে একটি ট্রাকে গুলি করে ছয় জনকে হত্যা করে সেনাবাহিনী। সেই হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে যারা জড়ো হয়েছিলেন, পরবর্তীতে সেই ভিড়ের ওপরেও গুলি করা হয়। মিয়ানমার সীমান্তের কাছের ওই রাজ্যের মন জেলায় যখন শ্রমিকরা দিনের কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরছিল, তখনি সৈন্যদের গুলিতে ছয় জন নিহত হয়। ওই এলাকায় কর্মকান্ড রয়েছে, এমন জঙ্গিদের ধরতে অতর্কিতে হামলা চালিয়েছিল সেনা সদস্যরা। পরিবারের সদস্যরা বাড়ি না ফেরায় পরবর্তীতে স্বজন এবং গ্রামবাসীরা নিখোঁজদের খুঁজতে এসে নিহতদের শনাক্ত করে। এরপর তারা সেনাবাহিনীর সদস্যদের মুখোমুখি হয়ে এর কারণ জানতে চায়। নাগাল্যান্ড পুলিশের একজন কর্মকর্তা সন্দীপ তামগে এএফপিকে বলেছেন, ‘তখন দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয় এবং নিরাপত্তা কর্মীরা তাদের ওপর গুলি করে। সেই সময় আরও নয় জন নিহত হয়।’

এএফপি জানিয়েছে, দ্বিতীয় দফার গুলিবর্ষণে আরও নয় জন বেসামরিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন, যাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তামগে জানিয়েছেন, ওই এলাকার পরিস্থিতি এই মুহূর্তে ‘খুবই উত্তেজনাপূর্ণ’। ভারতীয় সেনাবাহিনী একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, ওই ঘটনায় একজন সৈনিক নিহত হয়েছে এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘বিশ্বাসযোগ্য তথ্যের’ ভিত্তিতে নাগাল্যান্ডের মোন জেলার তিরু এলাকায় একটি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে হতাহতের যেসব ঘটনা ঘটেছে, সেটি সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে তদন্ত করা হচ্ছে। ওই ঘটনায় তারা ‘গভীর দুঃখ প্রকাশ’ করেছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে।

এই ঘটনার পর নাগাল্যান্ডের মুখ্যমন্ত্রী নেইফু রিও সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে তদন্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন। নাগাল্যান্ডের রাজধানী কোহিমা থেকে ৩৫০ কিলোমিটার দূরে মোন জেলাটি অবস্থিত। ভারতের অন্যান্য রাজ্য থেকে নাগাল্যান্ড এবং অন্য উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলো সরু একটি করিডোর দিয়ে সংযুক্ত। বহু বছর ধরে এসব এলাকায় বিচ্ছিন্নতাবাদী এবং জাতিগত গোষ্ঠীগুলোর আন্দোলনের কারণে অস্থিরতা চলছে। এই এলাকায় অসংখ্য ছোট ছোট জাতিগত এবং ছোট গেরিলা বাহিনী রয়েছে। আরও বেশি স্বায়ত্তশাসন থেকে শুরু করে তাদের ভারত থেকে আলাদা হওয়ার দাবি রয়েছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। ইতিমধ্যে ঘটনার তদন্তের কথা বলেছেন অমিত শাহ। একই সঙ্গে ক্ষমাও চেয়েছেন। কিন্তু এই ঘটনার জন্যে সরাসরি অমিত শাহকে দায়ী করেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তার সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে এই ঘটনার নিন্দা করেছেন। ঘটনার পর টুইট করে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দুঃখপ্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন। একই সঙ্গে এই ঘটনায় আক্রান্তরা যাতে বিচার পায় তা সুনিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। আর তা যেন সুনির্দিষ্ট তদন্তের ভিত্তিতে হয় সেটাও উল্লেখ করেছেন তিনি।

এই ঘটনায় গতকাল সকাল থেকেই উত্তাল এলাকা। বিচার না পাওয়া পর্যন্ত দেহ নেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছে মৃতদের পরিবার। আর এই দাবিতেই চলছে নাগাল্যান্ড। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গেই বিক্ষোভে সামিল বেশ কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠন। দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি এবং ব্যবস্থার দাবিতে তারাও আন্দোলনে সামিল হয়েছেন। এই ঘটনার পরেই বাড়ানো হয়েছে সে রাজ্যের নিরাপত্তা। সূত্র : বিবিসি নিউজ, ডন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ভারত

২৩ জানুয়ারি, ২০২২

আরও
আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ