Inqilab Logo

মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২২, ০৪ মাঘ ১৪২৮, ১৪ জামাদিউস সানি ১৪৪৩ হিজরী

ফের সীমান্ত বন্ধ হতে পারে

দরজায় কড়া নাড়ছে ওমিক্রন : স্বাস্থ্য অধিদফতর বেনাপোল বন্দরের বাইরে যেতে পারবেন না ভারতীয় ট্রাকচালকরা

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৬ ডিসেম্বর, ২০২১, ১২:০১ এএম

দক্ষিণ আফ্রিকার করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন ভারতে শনাক্ত হয়েছে। ভারতে এই ভ্যারিয়েন্ট শনাক্তের পর আশপাশের দেশগুলোতে শনান্তের আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের মুখপাত্র ও রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম গতকাল জানিয়েছেন, করোনার দক্ষিণ আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্ট ‘ওমিক্রন’ বাংলাদেশের দরজায় কড়া নাড়ছে। তিনি সকলকে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেন। ভারতে করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনের সংক্রমণ মোকাবিলায় বেনাপোল বন্দরে পণ্য নিয়ে আসা ভারতীয় ট্রাকচালকরা বন্দরের বাইরে যেতে পারবেন না এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। গতকাল রোববার বেনাপোল বন্দরে অনুষ্ঠিত মনিটরিং এন্ড কো-অর্ডিনেশন সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যশোর সিভিল সার্জন অফিসের আয়োজনে এই সভা হয়। যদিও স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, আপাতত সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়া এবং লডকাউনের কোনো পরিকল্পনা নেই।

এর আগে চলতি বছরের প্রথম দিকে ভারতে করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ডেল্টা শনাক্ত হওয়ার পর বাংলাদেশে সীমান্ত বন্ধ করে দেয়া হয়। কয়েক দফায় এই সীমান্ত বন্ধের মেয়াদ বাড়ানো হলেও ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের পাদুর্ভাব বাংলাদেশে ঘটে। তবে সীমান্ত বন্ধ করে দেয়ায় সেটা মহামারি পর্যায়ে যায়নি। চিকিৎসকদের অভিমত সীমান্ত বন্ধ করে দেয়ায় বাংলাদেশে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট মহামারি পর্যায়ে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেনি।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন ভারতে ওমিক্রন ছড়িয়ে পড়া আগেই বাংলাদেশের উচিত সীমান্ত বন্ধ করে দেয়া। কারণ করোনার ভ্যারিয়েন্ট ডেল্টা ভারতের সব রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ার পর সীমান্ত বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। যার কারণে সীমান্ত বন্ধের পরও বাংলাদেশের সীমান্ত জেলাগুলোতে ডেল্টার পাদুর্ভাব ঘটে। পরবর্তীতে সারা দেশে ডেল্টা ছড়িয়ে পড়ে। এবার সেই ভুল করা উচিত হবে না।

জানা গেছে গতকাল বেনাপোল বন্দরে অনুষ্ঠিত হয় মনিটরিং এন্ড কো-অর্ডিনেশন সভা। সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয় করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনের সংক্রমণ মোকাবিলায় বেনাপোল বন্দরে পণ্য নিয়ে আসা ভারতীয় ট্রাকচালকরা বন্দরের বাইরে যেতে পারবেন না। যশোর সিভিল সার্জন অফিসের আয়োজনে এই সভার পর বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক মনিরুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বৈঠক কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এগুলো যথাক্রমে ভারতীয় ট্রাকগুলোতে জীবাণুনাশক স্প্রে করা, ভারতীয় ট্রাকচালকদের বাধ্যমূলক মাস্ক পরতে হবে ও বন্দরের বাইরে যেতে পারবেন না এবং যাত্রীদের বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হবে।

এছাড়া, সভায় ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট যাতে বিদেশ থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ না করতে পারে এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক ও একযোগে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
এদিকে গতকাল রোববার দেশের করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে ওমিক্রন নিয়ে দেশবাসীকে সতর্ক করা হয়। এ সময় অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম বলেন, সংক্রমণের হার বাংলাদেশে এখনো দুই শতাংশের নিচে, এতে আমাদের আত্মতুষ্টিতে ভোগার কোনো কারণ নেই। কারণ ঘরের দরজাতেই ওমিক্রন কড়া নাড়ছে। কাজেই আমরা যদি এই মুহ‚র্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা নিশ্চিত করতে পারি, পরস্পর পরস্পরকে সহযোগিতা, যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি, সঠিক উপায়ে নাক-মুখ ঢেকে আমরা যদি মাস্ক পরি, একইসঙ্গে টিকা কার্যক্রমকে যদি আমরা আরো বেগবান করতে সহায়তা করি, তাহলে সেটি ওমিক্রন হোক বা অন্য কোনো ভ্যারিয়েন্ট হোক সেটিকে আমরা যথাযথভাবে মোকাবিলা করতে সক্ষম হব।

নাজমুল ইসলাম বলেন, ওমিক্রন মোকাবিলায় আমরা প্রস্তুত আছি। তবে এক্ষেত্রে কমিউনিটিতে আমাদের সবার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অংশগ্রহণ জরুরি। একইসঙ্গে অন্যকে অনুপ্রাণিত ও উদ্বুদ্ধ করা ও সহায়তার মধ্য দিয়েই আমরা এই ভাইরাসটিকে শতভাগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারব বলে মনে করি। তিনি বলেন, আমরা মনে করি ওমিক্রন নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার চেয়ে, সতর্ক ও সচেতন হওয়া জরুরি। আমরা যদি নিজেরা সচেতন হই, নিজেদের মুক্ত রাখি, তাহলে আমাদের পরিবারও সুরক্ষিত থাকবে। এমনকি এটি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে পুরো দেশকে সুরক্ষিত রাখবে। আমরা মনে করি রাজনীতিবিদ, সামাজিক ও ধর্মীয় নেতা, উন্নয়ন সহযোগীসহ প্রত্যেকের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অংশগ্রহণের মাধ্যমে করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিরোধের কাজটি আমরা করতে পারব।

শুধু আফ্রিকান দেশগুলো থেকে যারা আসবে, তাদেরকেই প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন করতে হবে, বাকি দেশগুলোর বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতর কী ভাবছে, এমন প্রশ্নের জবাবে এই মুখপাত্র বলেন, আফ্রিকান দেশগুলোতে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হয়েছে বলেই তাদের জন্য বাড়তি বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। অন্য যেকোনো দেশেও যদি কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হয়, তাহলে তাদের বেলায়ও আমরা একইরকম সিদ্ধান্ত নেব। কারণ হলো কমিউনিটি ট্রান্সমিশন আর ইমপরট্যান্ট কেইস কিন্তু এক নয়। আফ্রিকায় যেটি হয়েছে সেটি কমিউনিটি ট্রান্সমিশন, আর ইউরোপে যেটি হয়েছে- সেটি ইমপরট্যান্ট কেইস। তিনি আরও বলেন, ইউরোপের দিকেও আমরা গভীর মনোযোগ রেখেছি। সেখানে যদি কমিউনিটি ট্রান্সমিশন ঘটে, তাহলে বাংলাদেশের ১৭ কোটি মানুষের জীবন-জীবন জীবিকাকে নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় জনস্বাস্থ্য এবং জনস্বার্থ রক্ষা করার জন্য যেসব সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার, তা নিতে স্বাস্থ্য অধিদফতর কখনোই কুণ্ঠাবোধ করবে না।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মুখপাত্র বলেন, মাস্ক আমার সুরক্ষা সবার। আমরা সবাই যদি সুরক্ষিত থাকি, ওমিক্রনসহ যেকোনো বৃষ্টি আসুক না কেন, আমাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। সেই সঙ্গে আমাদের টিকা গ্রহণের কাজটিকে আরো বেশি গতিশীল করতে হবে। একইসঙ্গে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার মাধ্যমে নিজেদের সুরকার দিকটিকে শতভাগ গুরুত্ব দিতে হবে।

ওমিক্রনের পাদুর্ভাব ঠেকানো প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেন বলেন, আমরা একটা সভা করেছি আন্তঃমন্ত্রণালয়ের। সেই সভা থেকে অনেকগুলো সিদ্ধান্ত হয়েছে। সাউথ আফ্রিকা ও ওমিক্রন আক্রান্ত অন্যান্য দেশ থেকে যারা আসবে তাদের ৪৮ ঘণ্টা আগে টেস্ট করে আসতে হবে। তাদের ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। বর্ডারে পরীক্ষা জোরদার করেছি। কোয়ারেন্টিন জোরদার করেছি। বিশেষ করে ঢাকায় যেসব হাসপাতালে আগেও চিকিৎসা হয়েছে সেখানে নিজ খরচে কোয়ারেন্টিন করা যাবে। এ ছাড়াও এয়ারপোর্টে স্ক্রিনিংব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ল্যাবের পরিধি বাড়ানো হয়েছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: করোনাভাইরাস

১৮ জানুয়ারি, ২০২২

আরও
আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ