Inqilab Logo

মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২২, ০৪ মাঘ ১৪২৮, ১৪ জামাদিউস সানি ১৪৪৩ হিজরী

হাইকোর্টে ‘অর্থ পাচারকারী’ হিসেবে ব্যবসায়ীদের নাম

দুদকের তালিকায় নেই আমলা-রাজনীতিক-পদস্থ কর্মকর্তারা

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৬ ডিসেম্বর, ২০২১, ১২:০০ এএম

বিদেশে অর্থ পাচার করছেন- এমন অভিযোগে শুধুমাত্র ২৯ ব্যবসায়ী এবং ১৪ শিল্প প্রতিষ্ঠানের তালিকা দাখিল করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ তালিকায় কোনো সরকারি আমলা, পদস্থ কর্মকর্তা কিংবা অর্থ পাচারকারী আলোচিত কোনো ব্যক্তিদের নাম নেই।

গতকাল রোববার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার এবং বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের ডিভিশন বেঞ্চে এ তালিকা দাখিল করেন দুদকের কৌঁসুলি খুরশিদ আলম খান। এর আগে খুরশিদ আলম খান গত শনিবার তালিকাভুক্ত ১৪ প্রতিষ্ঠান ও ২৯ ব্যক্তির নাম প্রকাশ করেন।

দুদকের তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন, এফবিসিসিআই’র সাবেক সভাপতি আব্দুল আউয়াল মিন্টু, তার স্ত্রী এবং উইমেনস এন্টারপ্রেনার্স অ্যাসোসিয়েশেন অব বাংলাদেশ (ওয়েব)র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নাসরিন ফাতেমা আউয়াল, তাদের পুত্র মাল্টিমোড লি:’র মালিক তাবিথ আউয়াল, একই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক তাফসির আউয়াল, তাজওয়ার আউয়াল, তাইরন পিআই’র মালিক মোগল ফরিদা ওয়াই, ব্যবসায়ী শহিদউল্লাহ, চৌধুরী ফয়সাল, ব্রামার অ্যান্ড পার্টনার্স অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট বাংলাদেশ লি:’র আহমাদ সামির, ভেনাস ওভারসিজ কোং লি:’র মুসা বিন শমসের, ডাইনামিক এনার্জি’র মালিক ফজলে এলাহী, এন্ট্রিপিড গ্রুপ কে এইচ আসাদুল ইসলাম।

খালেদা শিপিং কোম্পানি লি:’র মালিক জুলফিকার আহমেদ, জেমিকো ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল’র মালিক তাজুল ইসলাম তাজুল, বেঙ্গল শিপিং লাইনসের মালিক মোহাম্মদ মালেক, ওশান আইস শিপিং কোম্পানি’র মালিক ইমরান রহমান, শামস শিপিং লি:’র মালিক মোহাম্মদ এ আউয়াল, ডবিøউএমজি লি:’র মালিক এরিক জনসন আনড্রেস উইলসন, ইন্ট্রিডিপ গ্রুপের মালিক ফারহান ইয়াকুবুর রহমান, জেমিকো ট্রেড ইন্টা:’র মালিক তাজুল ইসলাম, পদ্মা টেক্সটাইলের মালিক আমানুল্লাহ চাগলা, নিউটেকনোলজি ইনভেস্টমেন্ট’র মালিক মোহাম্মদ আতিকুজ্জামান, মোহাম্মদ রেজাউল হক, জেমিকো ট্রেড ইন্টারন্যাশাল’র মালিক মোহাম্মদ কামাল ভুইয়া, তুহিন ও সুমন।

সেলকন শিপিং কোম্পানি, মাহতাবা রহমান, জেমিকো ট্রেড ইন্টা:’র মালিক ফারুক পাওয়ান, গ্লোবাল এডুকেশন সিস্টেম’র মালিক মাহমুদ হোসাইন এবং সাউদার্ন আইস শিপিং কোম্পানির মালিক শাহনাজ হুদা রাজ্জাক।

উল্লেখ্য, গতবছর ১৮ নভেম্বর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, বিদেশে বেশি অর্থ পাচার করেন সরকারি চাকুরেরা। তিনি বলেন, গোপনে কানাডার টরেন্টোতে অবস্থিত বাংলাদেশিদের বিষয়ে খোঁজ নেয়া হয়েছে। আমার ধারণা ছিল রাজনীতিবিদদের সংখ্যা বেশি হবে। কিন্তু আমার কাছে যে তথ্য এসেছে, যদিও এটি সামগ্রিক তথ্য নয়, সেটিতে আমি অবাক হয়েছি। সংখ্যার দিক থেকে আমাদের অনেক সরকারি কর্মচারীর বাড়িঘর সেখানে বেশি আছে এবং তাদের ছেলেমেয়েরা সেখানে থাকে। আমার কাছে ২৮টি কেস এসেছে। এর মধ্যে রাজনীতিবিদ হলেন চারজন। এ ছাড়া কিছু আছেন আমাদের তৈরি পোশাকশিল্পের ব্যবসায়ী। আমরা আরো তথ্য সংগ্রহ করছি। তবে পাচারে শুধু কানাডা নয়, মালয়েশিয়াতেও একই অবস্থা।

তবে অর্থ পাচার রোধ দুদকের কাজ নয় বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির কমিশনার (তদন্ত) মো. জহুরুল হক। এছাড়া ২০১৫ সালে মানিলন্ডারিং আইন সংশোধনীর মাধ্যমে অপরাধ সংশ্লিষ্ট ২৮টি ধারার মধ্যে ২৭ ধারাই সিআইডিসহ অন্য প্রতিষ্ঠান নিয়ে গেছে। এ কারণে বেসরকারি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অর্থ পাচার সংক্রান্ত অপরাধ তদন্তের এখতিয়ার এখন দুদকের নয়-মর্মে সংস্থাটি বার বার জানিয়ে আসছে। এ প্রেক্ষাপটে সংস্থাটি ‘অর্থ পাচারকারী প্রতিষ্ঠান’ ও ‘ব্যক্তি’র নামের তালিকা দাখিল করল দুদক। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী এবং পদস্থ কর্মকর্তাদের অর্থ পাচার সংক্রান্ত অভিযোগের অনুসন্ধান-তদন্তের এখতিয়া দুদকের রয়েছে। কিন্তু দাখিলকৃত ‘অর্থ পাচারকারীর তালিকা’য় কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর নাম নেই। একটি মামলার সূত্র ধরে অর্থ পাচারকারী প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির তালিকা চেয়েছিলেন হাইকোর্ট। এ প্রেক্ষিতে সংস্থাটি এ তালিকা দাখিল করে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: দুদক

১৭ জানুয়ারি, ২০২২

আরও
আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ