Inqilab Logo

মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২২, ১১ মাঘ ১৪২৮, ২১ জামাদিউস সানি ১৪৪৩ হিজরী

বাঁশের মাচায় রঙিন স্বপ্ন

বাজারে আসবে ৫ জাতের তরমুজ

কাজি রেজাউল করিম রেজা, ছাতক (সুনামগঞ্জ) থেকে : | প্রকাশের সময় : ৮ ডিসেম্বর, ২০২১, ১২:০৩ এএম

সুনামগঞ্জের ছাতকে পাঁচ তরুণ মিলে আধুনিক পদ্ধতিতে গোল্ডেনক্রাউন, ইয়োলোহানি, থাইসুইটসসহ পাঁচ জাতের তরমুজ চাষাবাদ করেছেন। চুয়াডাঙ্গা থেকে বীজ সংগ্রহ করে তারা সাজিয়েছেন এ বাগান। চার কেদার জায়গা জুড়ে সবুজের সমারোহ। বাঁশের মাঁচায় ঝুলছে বিভিন্ন রংয়ের তরমুজ। বাগানের চারপাশে জাল দিয়ে তৈরি করা হয়েছে বেড়া। এটি পর্যবেক্ষণে স্থাপন করেছেন সিসি ক্যামেরা। উপজেলার কালারুকা ইউনিয়নের তাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, বিশাল এক তরমুজ বাগান। প্রতিটি বাঁশের মাঁচায় ঝুলছে ভিন্ন ধরণের রসালু তরমুজ। গোবিন্দগঞ্জ-ছাতক সড়কের তাজপুর পয়েন্ট থেকে নুরুল্লাহপুর বাজারের পাকা রাস্তার উত্তর পাশেই এ তরমুজের বাগান। তরমুজের ফলন দেখে অনেকেই চাষাবাদে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে কেউ কেউ পরামর্শও গ্রহণ করছেন। তাজপুর বাজারের প্রায় চার কেদার জমির উপর গোল্ডেনক্রাউন, ইয়োলোহানি, থাইসুইটসসহ পাঁচ জাতের তরমুজ চাষাবাদ হয়েছে ওই বাগানে। উন্নত জাতের তরমুজের চাষাবাদে উদ্যোক্তাদের খরচ হয়েছে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বাগানের তরমুজ বিক্রি করে আয় করা সম্ভব বলে উদ্যোক্তাদের ধারণা।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরামর্শসহ সার্বিক সহযোগিতায় গত ৮ অক্টোবর জমিতে তরমুজের চারা রোপন করা হয়। ফুল থেকে তরমুজ যখন ধরতে শুরু করে, তখনি বাঁশ দিয়ে ৩ ফুট উচু মাঁচা তৈরি করে দেয়া হয়। প্রতিটি মাঁচার ফাঁকে ফাঁকে তরমুজগুলোকে নেটের ব্যাগে ঢুকিয়ে রাখা হয়েছে যত্নে। আগামী ১০ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে পরিপুষ্ট তরমুজগুলো পেরে বাজারে বিক্রি করা শুরু হবে। বিক্রি করা তরমুজ থেকে তাদের আয় হতে পারে প্রায় ৬ লাখ টাকা।
তরমুজ চাষাবাদের মূল উদ্যোক্তা ছাতক উপজেলার কালারুকা ইউনিয়নের গড়গাঁও গ্রামের আশরাফুর রহমান বলেন, কৃষিতে অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে এ অঞ্চল অনেক পিছিয়ে আছে। এ চিন্তা থেকে স্থানীয় কয়েকজনকে নিয়ে আধুনিক পদ্ধতিতে তিনি তরমুজ চাষাবাদ করেছেন। বাগানে গাছ রয়েছে ৪ হাজার ৩শ’টি। প্রতিটি গাছে তরমুজ ধরেছে ২-৩টি। একেকটি তরমুজের ওজন প্রায় আড়াই থেকে ৩ কেজি। তিন কেজি ওজনের পরিপুষ্ট তরমুজগুলো আপাতত বাজারজাত করা হবে। প্রাকৃতিক পরিবেশ অনুকূলে থাকলে তরমুজ বিক্রি করে লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। তিনি বলেন, কৃষি বিভাগের সার্বিক সহযোগিতা পেলে আগামীতে আরো বড় আকারে বাগান করার চিন্তা রয়েছে।
সম্প্রতি জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ফরিদুল হাসান বাগানটি পরিদর্শন করে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন উল্লেখ করে ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মশিউর রহমান বলেন, উন্নত জাতের তরমুজের বাগান তৈরির বিষয়ে তিনি ছাড়াও নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছেন উপজেলার কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা। ছাতক উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তৌফিক হোসেন খাঁন বলেন, কৃষি বিভাগকে সমৃদ্ধশালী করতে পাঁচ তরুণের উদ্যোগ অত্যন্ত প্রসংশনীয়। তারা আধুনিক পদ্ধতিতে তরমুজ চাষে সফল হয়েছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় তরমুজের ফলন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি হয়েছে।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বাঁশের মাচায় রঙিন স্বপ্ন
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ