Inqilab Logo

শুক্রবার, ২১ জানুয়ারী ২০২২, ০৭ মাঘ ১৪২৮, ১৭ জামাদিউস সানি ১৪৪৩ হিজরী
শিরোনাম

সংক্ষুব্ধ সংঘাতে দুই পরাশক্তি

ইউক্রেন নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি বাইডেনের, নিষেধাজ্ঞার হুমকি ইইউর

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৯ ডিসেম্বর, ২০২১, ১২:০৩ এএম

ইউক্রেন নিয়ে পুতিনকে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এরই মধ্য দিয়ে সংঘাতের পথে এগুচ্ছে দুই মহাশক্তিধর দেশ। খবরে বলা হয়, এহেন পরিস্থিতিতে ইউক্রেনকে কেন্দ্র করে আবারো সংঘাতের পথে হাঁটছে দুই মহাশক্তি রাশিয়া ও আমেরিকা। এবার উদ্বেগ আরো বাড়িয়ে ইউক্রেন নিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউস থেকে পুতিনের সাথে ভার্চুয়াল বৈঠকে বসেন বাইডেন। প্রায় ঘণ্টা দুয়েকের কথোপকথনে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল ইউক্রেন। কূটনৈতিক সৌজন্যের আড়ালে আলপচারিতায় দুই দেশের মধ্যে টানাপোড়েন স্পষ্ট হয়ে ওঠে বলে সূত্রের খবর। রুশ প্রেসিডেন্টকে বাইডেন স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ইউক্রেনে মস্কো আগ্রাসন না থামালে রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত আমেরিকা। অবশ্য মার্কিন হুঁশিয়ারিতে বিশেষ বিচলিত হননি পুতিন বলেই ক্রেমলিন সূত্রে খবর। বলে রাখা ভালো, ইউক্রেন সরকারের আশঙ্কা, আগামী বছরের গোড়াতেই তাদের উপরে হামলা চালিয়ে গোটা দেশ দখল করে নেবে মস্কো। আর রুশ ফৌজ ইউক্রেনে প্রবেশ করলে ওয়াশিংটন সামরিক পদক্ষেপ করবে, নাকি শুধু আর্থিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেই থেমে থাকবে, তা স্পষ্ট হয়নি বাইডেনের কথাতেও। অপরদিকে, ইউক্রেন ইস্যুতে রাশিয়াকে হুমকি দিয়েছেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন কমিশনের প্রধান উরসুলা ভন ডার লেইন। মঙ্গলবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন কমিশনের প্রধান এ হুমকি দেন। খবর ডেইলি সাবাহর। খবরে বলা হয়, যদি রাশিয়ার সেনাবাহিনী ইউক্রেনে হামলা করে তবে মস্কোর ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতদের বার্ষিক সম্মেলনে উরসুলা ভন ডার লেইন বলেন, ইউক্রেনের প্রতি আমাদের অটুট ও পরিপূর্ণ সমর্থন রয়েছে। যে দেশের সীমান্তের কাছে রাশিয়া সেনা সমাবেশ ঘটিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন কমিশনের প্রধান বলেন, যদি রাশিয়া আন্তর্জাতিক আইন লংঘন করে আমাদের বা ইউক্রেনসহ প্রতিবেশী কোনো দেশে আগ্রাসন চালায় তবে যথাযথভাবে এর জবাব দেওয়া হবে। কীভাবে জবাব দেওয়া হবে সে বিষয়ে বলতে গিয়ে লেইন বলেন, বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা শক্তিশালী করা ও এর স¤প্রসারণের মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়ন জবাব দেবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মিত্রদের সঙ্গে আলাপ করে অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ব্রাসেলস মস্কোর সঙ্গে গঠনমূলক সংলাপে নিয়োজিত হবে বলে জোর দিয়ে লেইন বলেন, যে রাশিয়ার ‘ইচ্ছাকৃত পছন্দ এবং আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ যা ইউরোপে নিরাপত্তাকে অস্থিতিশীল করে চলেছে’ এর কারণে এটি বর্তমানে সম্ভব নয়। ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক সভায় জোটের সেক্রেটারি জেনারেল জেন্স স্টোলটেনবার্গ প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, যদি ইউক্রেনে কোনো ধরনের আগ্রাসন চালানো হয় তবে রাশিয়াকে এজন্য চড়া মূল্যের সঙ্গে ভয়াবহ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিণতি ভোগ করতে হবে। মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান জানান, পরিস্থিতি বুঝে কড়া পদক্ষেপ করবে আমেরিকা। রাশিয়ার ক্রিমিয়া দখল নিয়ে তিনি বলেন, ২০১৪ সালে আমরা যা করিনি এবার তা করতে আমরা প্রস্তুত। আমেরিকার উদ্বেগের বিষয়ে পুতিনকে স্পষ্ট জানিয়েছেন প্রসিডেন্ট বাইডেন। মস্কোর বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়ে সুলিভান আরো বলেন, রাশিয়া যদি গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্প চালু রাখতে চায় তাহলে তারা ইউক্রেনে হামলা চালাবে না। উল্লেখ্য, রুশ অর্থনীতির একটা বড় অংশ নির্ভর করে পেট্রোপণ্য রফতানির উপর। ইউরোপে গ্যাস জোগান দিয়ে বিশাল অঙ্কের বিদেশী মুদ্রা আয় করে মস্কো। সেই দুর্বল জায়গায় এবার চাপ দিয়েছে ওয়াশিংটন। ডেইলি সাবাহ, রয়টার্স, সংবাদ প্রতিদিন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ